ভোর ০৬:০৩ ; বুধবার ;  ২৩ অক্টোবর, ২০১৯  

সোনাদিয়া দ্বীপে নকিব বাহিনীর রামরাজত্ব

প্রকাশিত:

আবদুল আজিজ, কক্সবাজার।।

জলদস্যুদের গড়ফাদার আবদুল গফুর নাগু মেম্বারের একমাত্র ছেলে নকিবের নেতৃত্বাধীন নকিব বাহিনী বঙ্গোপসাগরে রাজত্ব করছে। এই বাহিনীর নেতৃত্বে কক্সবাজার ও বাঁশখালীসহ বিভিন্ন এলাকার অন্তত ১০টি বাহিনীর শতাধিক দস্যু সাগরে তাণ্ডব চালাচ্ছে। এই বাহিনীর কারণে সাগর জেলেদের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। জেলেদের পক্ষ থেকে দস্যুতা প্রতিরোধের জন্য আবেদন জানানো হলেও কোনও ব্যবস্থা নিতে পারছে না প্রশাসন। 

এই বাহীনির শতাধিক দস্যুকে নিয়ন্ত্রণে সোনাদিয়ার সরোয়ার বতইল্যা, আনজু মিয়া, জাম্বু, মুনাফ, ঘটিভাঙার ফারুকসহ আরও কয়েকজন নকিবের সহযোগী হিসেবে রয়েছে বলে জানা যায়। তাদের গডফাদার হিসেবে কাজ করছে নকিবের বাবা আবদুল গফুর নাগু মেম্বার।

জেলে সূত্রে জানা গেছে, বিগত কয়েক বছর ধরে অব্যাহত ডাকাতির কারণে কুতুবদিয়া ও বাঁশখালী সাগর উপকূলে মাছ ধরতে যাচ্ছে না কোনও বোট। কক্সবাজার জেলার সব বোট ঐক্যবদ্ধভাবে বঙ্গোপসগারের সোনাদিয়া, নাজিরারটেক, কক্সবাজার সমুদ্র সৈকত, উখিয়া ও টেকনাফ পয়েন্টে মাছ ধরছে। এ কারণে বাঁশখালী, কুতুবদিয়া, পেকুয়া ও চকরিয়ার জলদস্যুরা সোনাদিয়ার নকিব বাহিনীর সঙ্গে যোগ দিয়ে এক সঙ্গে ডাকাতি করছে।

জেলেরা জানান, সোনাদিয়া চর এখন জলদস্যুদের অভয়ারণ্য। তারা সোনদিয়াকে প্রধান ঘাঁটি হিসেবে ব্যবহার করছে। এসব দস্যু বাহিনীর হাতে আছে বিভিন্ন আগ্নেয়াস্ত্র ও দেশীয় ধারালো অস্ত্র রয়েছে।

কক্সবাজার জেলা বোট মালিক সমিতি সূত্র জানায়, ইলিশ প্রজনন মৌসুমের পর পরই সব দস্যুবাহিনী একজোট হয়ে সাগরে বোট ডাকাতি করছে। এ সময়ের মধ্যে অর্ধশতাধিক বোট এসব দস্যু বাহিনীর হাতে ডাকাতির শিকার হয়েছে। গুলি, হামলা ও অপহরণসহ বিভিন্ন হামলার শিকার হয়েছে শতাধিক জেলে। এখন পর্যন্ত ২টি বোটসহ ৬ জেলে নিখোঁজ রয়েছে।

বোট মালিক সমিতির অভিযোগ, জেলেদের জীবন বিপন্ন হয়ে উঠেলেও প্রশাসন কোনও ব্যবস্থা নিচ্ছে না।

কোস্টগার্ড কক্সবাজার স্টেশনের পিটি অফিসার নান্নু মিয়া জানান, ‘লোকবল সংকটের কারণে সোনাদিয়ায় কোস্টগার্ডের ঘাঁটি করা যাচ্ছে না। এরপরও সাগরে নিয়মিত টহল জোরদার করা হয়েছে। ’

মহেশখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জানান, সোনাদিয়া দ্বীপের নাগু মেম্বারের ছেলে নকিব একজন ভয়ংকর জলদস্যু। তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে। গত ছয় মাস ধরে পুলিশ বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে ব্যর্থ হয়েছে। তারপরও সম্ভাব্য স্থানে তাকে ধরার জন্য পুলিশ তৎপর রয়েছে।

/জেবি/এএ/

***বাংলা ট্রিবিউনে প্রকাশিত কোনও সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ। অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করলে কর্তৃপক্ষ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।