রাত ১০:০০ ; বৃহস্পতিবার ;  ২০ জুন, ২০১৯  

বিলুপ্ত ছিটমহলের উন্নয়নে ১৯৫ কোটি টাকার প্রকল্প

প্রকাশিত:

নীলফামারী প্রতিনিধি ।।

সদ্য বিলুপ্ত ছিটমহলগুলোর অবকাঠামোগত উন্নয়নে ১৯৫ কোটি টাকার প্রকল্প হাতে নিয়েছে সরকার। উন্নয়ন প্রকল্পের প্রস্তবনা পরিকল্পনা কমিশনের মাধ্যমে কৃষি, পানিসম্পদ ও পল্লী প্রতিষ্ঠান বিভাগে পাঠিয়েছে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদফতর (এলজিইডি)। এ সব এলাকার আর্থ-সামাজিক অবস্থার উন্নয়নে দীর্ঘ ৬৮ বছর পর এ ধরনের প্রকল্প নেওয়া হচ্ছে। সোমবার নীলফামারী জেলা প্রশাসক মো. জাকীর হোসেন তার নিজ কার্যালয়ে বাংলা ট্রিবিউনকে  এ তথ্য জানান।

সূত্র জানায়, প্রকল্পগুলো বাস্তবায়িত হলে পরিবহন ব্যয় কমবে, কৃষি ও অকৃষি পণ্যের উৎপাদন ও বাজারজাতকরণের সুবিধা বৃদ্ধি পাবে। এ সব প্রকল্প স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয় ও স্থানীয় সরকার বিভাগ সার্বিকভাবে দেখাশোনা করবে।

সূত্রমতে, ২০১৬ সাল থেকে ২০১৮ সালের জুন মেয়াদে এলজিইডি প্রকল্পগুলো বাস্তবায়ন করবে। দেশের চারটি জেলার ১২টি উপজেলায় প্রকল্পগুলো বাস্তবায়িত হবে। এর মধ্যে পঞ্চগড় জেলার দেবিগঞ্জ, বোদা ও সদর,  কুড়িগ্রাম জেলার ফুলবাড়ী, সদর, ভুরুঙ্গামারী, চিলমারী, রাজিবপুর ও রৌমারী উপজেলায় বাস্তবায়ন করা হবে।

অন্যদিকে, নীলফামারী জেলার ডিমলা, লালমনিরহাট সদর, হাতিবান্ধা ও পাটগ্রাম উপজেলাকে প্রকল্পের আওতায় আনা হবে। প্রকল্পভিত্তিক কার্যক্রমগুলো হলো ৬ দশমিক ৩০ কিলোমিটার উপজেলা সড়ক, ১৭ দশমিক ১৯ কিলোমিটার ইউনিয়ন সড়ক ও ১৬৭ দশমিক ৮২ কিলোমিটার গ্রামীণ সড়ক নির্মাণ করা হবে।

এছাড়া, ২৩ দশমিক ১৮ কিলোমিটার মাটির রাস্তার পাশাপাশি ২৭ মিটার কালভার্ট তৈরি করা হবে। তাছাড়া, গ্রামীণ সড়কে ৬৮৪ মিটার কালভার্ট নির্মাণের কাজ করা হবে। প্রকল্পগুলোর মধ্যে রয়েছে ১২টি মার্কেট ও গ্রোথসেন্টার, ১৫টি মসজিদ, ৮টি কমিউনিটি সেন্টার, ৭টি মন্দির, ৮টি পুকুর ঘাট, ৪টি কবরস্থান, ৩টি শ্মশানঘাট নির্মাণ করা হবে। ২৩০ কিলোমিটার স্লোপ প্রোটেকশনসহ ছিটমহলগুলোয় ৩টি ইউনিয়ন পরিষদ ভবন নির্মাণ করা হবে।

স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা বলেন, ১৯৪৭ সালের পর গত ৬৮ বছরে সাবেক এই ছিটমহলগুলোয় কোনও উন্নয়নের ছোঁয়া লাগেনি। এবারই প্রথম বাংলাদেশে সদ্য বিলুপ্ত ছিটমহলে উন্নয়নের ছোঁয়া দেখা যাচ্ছে।

এ প্রসঙ্গে স্থানীয় সরকার বিভাগের যুগ্ম-সচিব রইছ উদ্দিন বলেন, বিলুপ্ত ছিটমহলগুলোর পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর  ভাগ্যোন্নয়নে প্রকল্পগুলো হাতে নিয়েছে সরকার। এর মধ্যে রয়েছে উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ে সড়ক, কালভার্ট, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, মসজিদ, হাটবাজার, কবরস্থান, মন্দির ও শ্মশানঘাট, নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। তিনি আরও বলেন, কমিউনিটি সেন্টার, খাল, বিল ও ইউনিয়ন পরিষদ ভবন নির্মাণ, গ্রামীণ অবকাঠামো নির্মাণ ও রক্ষণাবেক্ষণ কাজে দরিদ্র জনগোষ্ঠীকে সম্পৃক্ত করার মাধ্যমে স্বল্প ও দীর্ঘমেয়াদি কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করাও প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য।

/এফএস/ এমএনএইচ/

***বাংলা ট্রিবিউনে প্রকাশিত কোনও সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ। অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করলে কর্তৃপক্ষ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।