ভোর ০৬:১৬ ; রবিবার ;  ১১ ডিসেম্বর, ২০১৬  

নিজেকে মধ্যবিত্ত মহারাষ্ট্রীয় মা হিসেবে দেখি: শোভা দে

প্রকাশিত:

সম্পাদিত:

বন্যা মির্জা।।

ঢাকা লিট ফেস্টের তৃতীয় ও শেষ দিন। সারাদিনের বিভিন্ন  সেশন শেষ করে শোভা দে যখন বসলেন, বলা যায় ফুরসৎ পেলেন, তখন প্রায় সন্ধ্যা। ‘জিন্জার-টি আর কিটক্যাট ব্রেক’ নিয়ে তিনি চলে এলেন অথরস’ লাউঞ্জে। তার পেছনে তখন বাংলাদেশের সব বহুল প্রচারিত গণমাধ্যমের সাংবাদিকরা এসেছেন, একটা ইন্টারভিউয়ের আশায়। আসবেনই বা না কেন? শোভা দে’র নামের সঙ্গে পরিচিত তো বাংলাদেশের অনেকেই। যিনি তার বই পড়েছেন তিনিও, যিনি পড়েননি তিনিও। ‘কিটি পার্টি’ বা ‘স্ব-অভিমান’-এর মতো হিন্দি সিরিয়াল তো দেখেছে বাংলাদেশের দর্শকরা। আমি সাংবাদিক নই, অভিনেত্রী। কিন্তু শোভা দে’র সঙ্গে কথা বলার সুযোগটা হাতছাড়া করলাম না। ‘বাংলা ট্রিবিউন’-এর সঙ্গে কাজ করার সুবাদে সুযোগ এলো, তাই বসে গেলাম সামনে। জনপ্রিয় লেখক কী ভাবেন তা জানার আগ্রহ তৈরি হয়েছিল। বাংলাদেশে এসে কেমন লাগছে, ঢাকা লিট ফেস্টইবা কেমন লাগছে অথবা ঢাকার খাবার কেমন বা জামদানি শাড়ি-সেসব প্রশ্নের আশপাশে না গিয়ে সরাসরি আমার আগ্রহের প্রসঙ্গে এলাম।

প্রশ্ন: খুবই অল্প বয়সে মিডিয়ায় একটা উজ্জ্বল ক্যারিয়ার সমেত কিভাবে আপনি লেখক হওয়ার কথা ভাবলেন? কেন এবং কিভাবে এই ভাবনা এলো?

শোভা দে: এসব তো ‘একশ’ বছর’ আগের কথা!’ আমার বয়স যখন ১৭ বছর তখন আমি মডেলিং করি। ২২ বছর পর্যন্ত করেছি। অনেক বিষয়েই আমার আগ্রহ ছিল। মানুষের জীবনে অনেক অধ্যায় থাকে। আর আমরাও সেসব সময়ের সঙ্গেই চলতে থাকি। আর বয়সের সঙ্গে সেটা মানায়ও। সবটুকু সামর্থ্য দিয়েই আমরা সেটা করি। ফলে, ওই সময়ের জন্য যা ঠিক ভেবেছি, তাই করেছি।

প্রশ্ন: মনে হয়, নাগরিক জীবন আপনাকে বেশি ফেসিনেট করে, বিশেষত নারীদের জীবন। কেন অন্য কোনও শ্রেণির গল্প আপনাকে খুব একটা লিখতে দেখা যায়নি?

শোভা দে: আমি ফেসিনেটেড নই। আমি এই জীবনযাপনের প্রডাক্ট। এটা ফেসিনেটেড হওয়ার প্রশ্ন নয়। ফেসিনেটেড মানে তো ভীষণ সস্তা আর হালকা বিষয়। মানুষ ফেসিনেটেড হয় কোনও একটা জিনিসে বা বস্তুতে। যেমন, হাতের চুড়ি। আমি শহরের মানুষ। আমি এই জীবনযাপন সম্পর্কে জানি। এই শহুরে জীবনযাপনের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারি আমি। কারণ, এই জীবনের মধ্যেই আমি বেড়ে উঠেছি। তুমি কিভাবে জানো, আমি কী লিখিনি অথবা লিখেছি? তুমি তো আর আমার সব লেখা পড়োনি। দেখো, সবাই তার নিজের লেখার বিষয় নিজেই বেছে নেয়। তুমি কোনও লেখককে জিজ্ঞেস করতে পার না যে, কেন সে গ্রামীণ জীবনের বাস্তবতা নিয়ে লেখে না। তুমি সেটাই বাছাই করবে যা তুমি সবথেকে ভালো করতে পারো। হিপোক্রেসি না করে নিজের মতামত সমাজে তুলে ধরা উচিত। আমি এমন কোনও কথা শুনতে চাই না যে ‘ওহ, তুমি কেবল শহরের গল্প লেখো, গ্রামের গল্প লেখো না’। ধরো, তুমি একজন অভিনেত্রী। তোমাকে কি কেউ যদি এমন প্রশ্ন করে যে তুমি কেবল ঢাকাতেই কাজ করো, চিটাগাং গিয়ে কাজ করো না কেন—তাহলে তো হবে না। তুমি কাজ করবে তোমার নিজের পছন্দের মতো। আর আমি কোনও হিপোক্রেসি করতে চাই না। আমি যা পারি, তাই করি। আমি হয়তো গ্রামের জীবন নিয়ে লিখতেও পারি। কিন্তু আমি লিখব না। আমার থেকে এটা যারা ভালো পারেন, তারাই লিখবেন।

 

প্রশ্ন: একজন সফল লেখক হিসেবে আপনি কেমন অনুভব করেন?

শোভা দে: আমি এত কিছু কখনও ভাবিনি। আমি তাই করি, যা আমি করতে পছন্দ করি। ৪৫ বছরের বেশি সময় ধরে লেখালেখি করছি এবং আমি এটা উপভোগ করি। আমার খুব ভালো লাগে যখন কোনও পাঠক এসে বলেন, আমার বই পড়েছেন, বই নিয়ে আমার কাছে আসেন সাইন করানোর জন্য। এমনও নয় যে, সেটা কোনও নতুন বই। অনেকবার পড়া পুরনো কোনও বই হয়তো নিয়ে আসেন। সেটাই তারা সাইন করিয়ে নিতে চান। তখনও আমার ভীষণ ভালো লাগে যখন কেউ আমার বই থেকে কোট করে কিছু বলেন। তারা বলেন, আমার বই পড়ে তাদের নতুন কিছু উপলব্ধি হয়েছে কিংবা কিছু শিখেছেন। সেটাই আমার জন্য সবচেয়ে বড় পুরস্কার।

প্রশ্ন: নারীবাদের সঙ্গে  সম্পর্কিত বোধ করেন? নারীবাদ যে নানান প্রকার, তা মাথায় রেখেই বলছি, সাধারণভাবে নারীবাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেন? বা করলে তা কোন ধরনের নারীবাদ?

শোভা দে: ফেমিনিজম নিয়ে একটা দীর্ঘ সেশনে কথা বলেছি। আবার বলার কিছু নেই। সবারই নিজের অভিমত থাকে। আমি ফেমিনিজমকে বইয়ের ভাষার মতো করে মানি না। তবে বিশ্বাস করি, নারী-পুরুষের সমান অধিকার থাকা উচিত। আর লিঙ্গবৈষম্যহীন একটা পৃথিবী হোক, তাই চাই।

প্রশ্ন: আপনার নিজের পরিচয় বা সত্তাকে কিভাবে দেখেন?

শোভা দে: যদি খুব সৎভাবে বলি তো, নিজেকে মধ্যবিত্ত পরিশ্রমী একজন মহারাষ্ট্রীয় মা হিসেবে দেখি। একদম। এই পরিচয়ে আমি সবচেয়ে বেশি পছন্দ করি, স্বাচ্ছন্দ্যও বোধ করি। এই পরিচয়েই আমি অন্য যেকোনও পরিচয়ের থেকে বেশি সম্মান বোধ করি। একটা কথা আছে, যেটা আমার খুব পছন্দ। সেটা হলো কোনও কিছুর ব্যাখ্যা দিও না, কোনও কিছু নিয়ে অভিযোগ করো না। 

/এমএনএইচ/

ছবি: রাজীব ধর

***বাংলা ট্রিবিউনে প্রকাশিত কোনও সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ। অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করলে কর্তৃপক্ষ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।