রাত ০২:৫৭ ; রবিবার ;  ১৬ জুন, ২০১৯  

ইন্টারনেটে ধীর গতি, অ্যাপস চালু না হলে আরও কমবে!

প্রকাশিত:

হিটলার এ. হালিম।।

হঠাৎ দেড় ঘণ্টা বন্ধ থাকার পর চালু হলেও ইন্টারনেটে ফিরে আসেনি আগের গতি। দিন দিন গতি আরও কমছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অ্যাপস বন্ধ করার ফলে ইন্টারনেটে গতি কমে গেছে। অ্যাপসগুলো ক্লাউড নির্ভর হওয়ায় এ সমস্যা হয়েছে মন্তব্য করে তারা বলেন, এগুলো একটির সঙ্গে অন্যটি সম্পর্কযুক্ত।

তবে দেশে ইন্টারনেট ব্যবহারও কমে গেছে। অন্তত ব্যান্ডউইথের পরিমাণ তাই বলছে। কারণ হিসেবে জানা গেছে, হালের জনপ্রিয় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক বন্ধ থাকায় ব্যান্ডউইথ খরচ হচ্ছে কম। ফেসবুক বন্ধ থাকায় লগইন করা, স্ট্যাটাস দেওয়া, ছবি শেয়ার করা, বিভিন্ন লিংকে প্রবেশ করে সাইট ব্রাউজ বন্ধ রয়েছে। বিভিন্ন দৈনিক এবং অনলাইন সংবাদমাধ্যমের খবরও ফেসবুকে শেয়ার না করতে পারায় পাঠক সংখ্যা কমে গেছে।  ফেসবুকে প্রবেশের স্বাভাবিক পথ বন্ধ থাকায় মোট ব্যবহৃত ব্যান্ডউইথের প্রায় ৪০ শতাংশ (সরকারি ও বেসরকারি মিলিয়ে বর্তমানে ১৩৭ গিগা ব্যান্ডউইথ ব্যবহার হচ্ছে) অব্যবহৃত থেকে যাচ্ছে।

প্রসঙ্গত, গত বুধবার (১৮ নভেম্বর) দুপুরে মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত জামায়াত নেতা আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদ ও বিএনপি নেতা সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর সাজা বহাল রাখে আপিল বিভাগ। এরপর জামায়াত বৃহস্পতিবার হরতাল আহ্বান করে। এর পরিপ্রেক্ষিতে বুধবার দুপুর দেড়টার দিকে ‘আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি অবনতির আশঙ্কায়’ সারাদেশে ইন্টারনেট সংযোগ বন্ধের নির্দেশ দেয় টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিটিআরসি। এর আগে বেলা ১১টার দিকে বিটিআরসি প্রথম দফায় ফেসবুক,  ভাইবার,  মেসেঞ্জার ও হোয়াটসঅ্যাপ বন্ধের নির্দেশনা দেয়। পরবর্তীতে লাইন, ট্যাঙ্গো ও হ্যাংআউট বন্ধেরও নির্দেশনা আসে। এক পর্যায়ে ইন্টারনেটও বন্ধ করে দেওয়া হয়। এতে দেড় ঘণ্টা ইন্টারনেট সংযোগ ছিল না সারাদেশে। যদিও সরকার দাবি করে, ইন্টারনেট বন্ধ করা হয়নি। ‘কারিগরি ত্রুটির’ কারণে তা বন্ধ হয়ে যায়।

জানা যায়, গত পাঁচ দিনে দেশে ইন্টারনেট ব্যান্ডউইথের ব্যবহার ৫০ শতাংশ কমে গেছে। ইন্টারনেটে ট্রাফিকও (ব্যবহারকারীদের উপস্থিতি) কমে গেছে আশঙ্কাজনক হারে। তবে এ কমে যাওয়া ধীরগতির ইন্টারনেটের কারণে নয়। ফেসবুক, ভাইবার, মেসেঞ্জার, লাইন, ট্যাঙ্গো ও হ্যাংআউট থাকায় ব্যবহারকারী কমেছে।  

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ফেসবুক, ভিডিও শেয়ারিং পোর্টাল ইউটিউব এবং কথা বলার অ্যাপ লাইনে মোট ব্যান্ডউইথের ৪০-৪৫ শতাংশ ব্যবহার হয়। এছাড়া অ্যামাজন নেটওয়ার্ক এবং মালয়েশিয়াভিত্তিক আকামাই সিডিএমএ নেটওয়ার্ক মিলিয়ে ৭০-৭৫ শতাংশ ব্যান্ডইউথ ব্যবহার হয়। সংশ্লিষ্টরা বলেন, কয়েকটি অ্যাপস বন্ধ থাকায় ইন্টারনেট ট্রাফিকে প্রভাব পড়েছে, ফলে ব্যান্ডউথের ব্যবহার কমেছে। আর সার্বিকভাবে প্রভাব পড়েছে ইন্টারেনেটের গতিতে।

ইন্টারনেট সেবাদাতাদের সংগঠন আইএসপিএবির সভাপতি এম এ হাকিম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ভাইবার, হোয়াটসঅ্যাপ ক্লাউড সার্ভিসে হোস্ট করা। আমরা ভাইবার বন্ধ করতে গেলে (অ্যামাজন নেটওয়ার্কে হোস্ট করা) ১০-১৫ লাখ ওয়েবসাইটে সমস্যা হচ্ছে। আমাদের ধরে ধরে একটা একটা করে আইপি ব্লক করতে হচ্ছে। ফলে নেটওয়ার্কে সমস্যা হওয়ায় ইন্টারনেটের গতি ধীর হয়ে যাচ্ছে। তিনি জানান, তাদের এখন প্রতিদিন ৫০-১০০টা আইপি ব্লক করতে হচ্ছে। এটা করা না হলে ভাইবার, হোয়াটসঅ্যাপ বন্ধ রাখা মুশকিল হয়ে পড়ছে।

তিনি জানান, এসব না করে একবারে যদি অ্যামাজন নেটওয়ার্ক বন্ধ করে দেওয়া হয় তাহলে ভাইবার, হোয়াটসঅ্যাপ, ফেসবুক পুরোপুরি বন্ধ করা সম্ভব হবে। তবে বড় ধরনের একটা সমস্যাও হবে। অ্যামাজন বন্ধ করলে একবারে প্রায় ৫০ লাখ ওয়েবসাইট বন্ধ হয়ে যাবে। যে নেটওয়ার্কে দেশের বড় বড় নিউজ পোর্টাল থেকে শুরু করে বিভিন্ন ওয়েবসাইট হোস্ট করা রয়েছে।

বাংলাদেশের সমস্যার কারণে মালয়েশিয়ার আকামাই সিডিএমএ নেটওয়ার্কের ৭০ ভাগ ট্রাফিক পড়ে গেছে বলে জানান তিনি।

এসবের পরিপ্রেক্ষিতে এম এ হাকিম বলেন, দ্রুত এসব অ্যাপস খুলে দেওয়া না হলে সমস্যা আরও বাড়বে। ইন্টারনেটের গতি আরও ধীর হয়ে যাবে। তখন সব সাইটে ঢোকা যাবে না, ঢোকা গেলেও সময় লাগবে অনেক, ছবিও ঠিকমতো দেখা যাবে না। এমনকি সংশ্লিষ্ট সাইটে রাখা ভিডিও দেখতেও সমস্যা হবে।           

/এইচএএইচ/এসএস/

***বাংলা ট্রিবিউনে প্রকাশিত কোনও সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ। অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করলে কর্তৃপক্ষ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।