রাত ০৫:৩৯ ; বুধবার ;  ২৩ অক্টোবর, ২০১৯  

ফেনীতে শ্রমিক ও ব্যবসায়ী হত্যাকাণ্ডের ক্লু সাতদিনেও উদ্ঘাটন হয়নি

প্রকাশিত:

ফেনী প্রতিনিধি।।

ফেনীতে এক নির্মাণ শ্রমিককে গুলি করে ও অপর এক ব্যবসায়ীকে অপহরণের পর হত্যার ঘটনার সাত দিন পার হলেও এখনও কেউ গ্রেফতার হয়নি। আলোচিত এই দুই হত্যাকাণ্ডের কোনও ক্লু উদ্ঘাটন করতে পারেনি পুলিশ। 

এ নিয়ে নিহতের পরিবার ও স্বজনরাসহ স্থানীয়রা চরম হতাশা ও উৎকণ্ঠায় রয়েছেন।

পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, গত ১৪ নভেম্বর শনিাবর রাত সাড়ে ১০টার দিকে ফেনী সদর উপজেলার ছনুয়া ইউনিয়নের উত্তর দমদমা গ্রামের ফরাজি বাড়ির আবদুল ওহাবের ছেলে নির্মাণ শ্রমিক আজিজুল হক (২৮) ঘর থেকে দোকানের উদ্দেশ্যে বের হন। এর পর তিনি আর ঘরে না ফেরেননি। পরের দিন রবিবার সকাল ৭টার দিকে তার গুলিবিদ্ধ লাশ স্থানীয় হাফেজিয়া নূরানী মাদ্রাসার পেছন থেকে উদ্ধার করে ফেনী মডেল থানা পুলিশ। পরে ফেনী আধুনিক সদর হাসপাতাল মর্গে ময়নাতন্ত শেষে তার পরিবারের কাছে লাশ হস্তান্তর করা হয়।

নিহতের মা আয়েশা জানান, আমার ছেলের সঙ্গে কারও শত্রুতা নেই। তবু কারা কেন আমার ছেলেকে গুলি করে হত্যা করল জানতে চাই। যারা আমার ছেলেকে হত্যা করে আমার বুক খালি করল আমি তাদের বিচার চাই।

নিহতের পিতা আবদুল ওহাব এই ঘটনায় গত রবিবার সকালে বাদী হয়ে ফেনী মডেল থানায় মামলা দায়ের করেন। তিনি বলেন, পুলিশ এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেফতার করতে পারেনি। এতে আমরা হতাশ ও ক্ষুব্ধ। হত্যাকারীদের দ্রুত গ্রেফতার ও বিচারের দাবি করেন তিনি।  

অন্যদিকে, ফেনী সদরের লস্করহাটের নিখোঁজ ব্যবসায়ী আমির হোসেনের (২৯) লাশ গত বৃহস্পতিবার বেলা ১১টার দিকে নিহতের নিজ বাড়ির পাশের ডোবা থেকে উদ্ধার করা হয়। তিনি ওই এলাকার মৃত আবদুর রবের ছেলে।

নিহত ব্যবসায়ীর স্ত্রী মর্জিনা আক্তার সোনিয়া জানান, গত সোমবার দুপুরে বাড়ি থেকে লস্করহাটে নিজ শিল্পী ইলেকট্রনিক্সে যাওয়ার পথে তিনি নিখোঁজ হন। বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করে তাকে না পেয়ে তিনি মঙ্গলবার ফেনী মডেল থানায় সাধারণ ডায়েরি করেন।

তিনি অভিযোগ করেন, ঘটনার পর হতে তার স্বামীর হত্যাকারীদের খুঁজে বের করতে পুলিশের কোনও ধরনের তৎপরতা তার চোখে পড়েনি। বরং পুলিশের ভূমিকায় রহস্যময় বলে তিনি দাবি করেন।

মোটবী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান অধ্যাপক এম এ খালেক জানান, নিহত আমির হোসেন ব্যবসার পাশাপাশি ইউনিয়ন জাসাসের যুগ্ম-সম্পাদক ও যুবদলের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিল। পুলিশ ইচ্ছা করলে খুব দ্রুতই ঘটনার ক্লু উদঘাটিত করতে পারে।  

ফেনী মডেল থানার ওসি মাহবুব মোর্শেদ দুটি হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় থানায় মামলা দায়ের কথা জানিয়ে বলেন, হত্যার পেছনে সম্ভাব্য কারণ ও কারা এই ঘটনা ঘটিয়েছে তা অনুসন্ধানে ও জড়িতদের আটক করতে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তারা তৎপর রয়েছেন। খুব দ্রুতই হত্যাকাণ্ড দুটির ক্লু উদঘাটিত হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন ওসি।

/আরএ/টিএন/

 

  

***বাংলা ট্রিবিউনে প্রকাশিত কোনও সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ। অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করলে কর্তৃপক্ষ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।