রাত ১০:০২ ; বুধবার ;  ১৭ অক্টোবর, ২০১৮  

যাদের মৃত্যুও আলোচিত!

প্রকাশিত:

নাঈম রায়হান ভূঁইয়া।।

মৃত্যু মানেই করুণ কিছু। কিন্তু তারপরও এমন কিছু মৃত্যু আছে যা একে তো মেনে নেওয়া কঠিন,তার ওপর আবার বিস্ময়ে বলতেই হয়,এভাবেও কেউ মরে নাকি! চলুন জেনে নেওয়া যাক, এমনি কিছু বিখ্যাত মৃত্যুর ইতিহাস।

টাক মাথাকে পাথর ভেবে

অদ্ভূত মৃত্যুর জন্য এখনও ইতিহাসের অংশ খ্যাতিমান গ্রিক নাট্যকার এসিলাস। তার বাবা ছিলেন দেশটির প্রাচীন তিন নাট্যকারের একজন। বাবার সুবাদেই অভিনয় দুনিয়ায় বেশ খ্যাতি অর্জন করেন।

সাধারণত ঈগল পাখি খাদ্য হিসেবে কচ্ছপের খোলস ভাঙ্গার জন্য ওটাকে পাথরের ওপর ফেলে। এসিলাসের টাক মাথাকে পাথর ভেবে ওখানেই কচ্ছপ ছুড়ে মারে একটি ঈগল। পাখিটির এ ভুলের খেসারত এসিলাসকে গুনতে হয়েছিল নিজের জীবনের বিনিময়ে।

 

ছিপি আটকে

নাটক রচনায় অনবদ্য অবদানের জন্য দুইবারের পুলিৎজার জয়ী মার্কিন নাট্যকার টেনেসি উইলিয়ামস। ১৯৮০ সালে জিমি কার্টারের কাছ থেকে গ্রহণ করেন যুক্তরাষ্ট্রের সর্বোচ্চ বেসামরিক পুরস্কার প্রেসিডেনশিয়াল গোল্ড মেডেল অব ফ্রিডম।

বিচিত্র কিছু অভ্যাস ছিল তার। নিউইয়র্কের এক হোটেলে অবস্থানকালে চোখের ড্রপ দিতেন নিয়মিত। ড্রপ দেয়ার সময় বোতলের ঢাকনাটা মুখেই আঁকড়ে রাখতেন। একদিন ড্রপ দিতে গিয়ে ছিপিটা গলায় ঢুকে যায় তার। অতঃপর শ্বাসরোধ হয়ে মৃত্যু।

 

চাঁদ চুম্বন

ইতিহাস বিখ্যাত চীনা কবি লি বাই। তার কবিতায় প্রকৃতিপ্রেম আর মানবিক আবেগের চূড়ান্ত রূপ ধরা পড়ে। কেবল সাহিত্যকর্ম দিয়েই নয় নিজের মৃত্যু দিয়েও তিনি সাহিত্যের ইতিহাসে জায়গা করে নিয়েছেন।

এক রাতে মাতাল অবস্থায় নৌকায় চেপে নদীতে ঘুরছিলেন লি বাই। পূর্ণিমার রাতে চাঁদের ছায়া পড়েছিল পানিতে। মুগ্ধ লি চুমু খেতে গেলেন চাঁদে। আর তাতেই উল্টে যায় নৌকা। চাঁদের প্রতিচ্ছায়ায় মিশে যায় লি বাইয়ের জীবন।

 

হায় সম্মান!

গ্রিসের খ্যাতনামা আইনপ্রণেতা ড্রাকো। তার মেধা, প্রতিভা আর আইন প্রণয়নের দক্ষতায় মুগ্ধ দেশটির নাগরিকদের কাছে তিনি বেশ সম্মানের পাত্র ছিলেন। এই সম্মান আর ভালোবাসাই কাল হয়ে দাঁড়িয়েছিল ড্রাকোর জন্য। স্থানীয় একটা দ্বীপ পরিদর্শনে গেলে ওখানকার থিয়েটারে ভক্তদের কাছ থেকে প্রচুর উপহার পান।

বেশিরভাগই ছিল টুপি আর চাদর। মাথায় আর শরীরে এমনভাবে সবাই চাদর আর চুপি পরিয়ে দিতে শুরু করে যে দম বন্ধ হয়েই মারা যান ড্রাকো।

 

হেসেই খুন

ইতালিয়ান সাহিত্যিক পিয়েত্রো আরেতিনো (১৪৯২-১৫৫৬)। কবিতার পাশাপাশি লিখতেন রাজনৈতিক প্রবন্ধ। যদিও অশ্লীলতার দায়ে তার লেখার সমালোচনা ছিল অনেক। বলা হয়ে থাকে,ব্যক্তিজীবনে তিনি ছিলেন একজন সুখী মানুষ এবং তার জীবনযাপন ছিল বুনো প্রকৃতির। তার লেখা পড়ে পাঠক হাসুক আর নাই হাসুক তিনি নিজেই মাঝে মাঝে হেসে খুন হয়ে যেতেন।

কিন্তু প্রবাদটা যে তার জীবনে সত্যি হয়ে যাবে সেটা কে ভেবেছিল!  একটা পার্টিতে বন্ধুদের সঙ্গে অতিমাত্রায় হাসতে হাসতেই মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন অরিতিনো।

 

টালির আঘাতে

আলেকজান্ডার দ্য গ্রেটের পর ফাইরাসকে দেওয়া হয় শ্রেষ্ঠ যোদ্ধার সম্মান। তিনি ছিলেন একই সঙ্গে বীর যোদ্ধা, সাহসী সমরনায়ক ও বুদ্ধিদীপ্ত সম্রাট। তবে যুদ্ধক্ষেত্রে মারা যাননি এ বীর। রাস্তা দিয়ে যাওয়ার সময় একটা বহুতল ভবন থেকে ছুড়ে মারা ঘর তৈরির টালির আঘাতে মারা যান মহাবীর ফাইরাস।

পরে জানা যায়, ওই ভবনের এক বুড়ি বহুদিন ধরেই ভবনের ছাদ থেকে গোয়েন্দাগিরি চালাতেন ফাইরাসের ওপর। চলতে চলতে সরু গলির মুখে আটকে যেতেই টালি ছুড়ে মারেন ওই বৃদ্ধা।

 

দাড়ির ফাঁদ

বিশাল আকারের দাড়ির জন্য অস্ট্রিয়ার হেনস স্টেইনিঙ্গারকে একনামে চিনত সবাই। সম্ভবত ওই সময়টাতে তিনিই পৃথিবীতে সবচেয়ে দীর্ঘ দাড়ির অধিকারী ছিলেন। ১৫৬৭ সালে ব্রানের কাউন্সিল চেম্বারে সিঁড়ি বেয়ে ওঠার সময় নিজের ১.৫০ মিটার লম্বা দাড়িতে পা আটকে নিয়ন্ত্রণ হারান হেনস, গড়িয়ে পড়েন নিচে। আর এতেই নাক মুখ থেঁতলে মারা যান তিনি।

 

 

/আরএফ/

***বাংলা ট্রিবিউনে প্রকাশিত কোনও সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ। অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করলে কর্তৃপক্ষ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।