সকাল ০৮:৩৯ ; বৃহস্পতিবার ;  ১২ ডিসেম্বর, ২০১৯  

চার দফায় ভারত যাচ্ছেন ৪৮৯ জন

প্রকাশিত:

পঞ্চগড় প্রতিনিধি।।

পঞ্চগড়ের বিলুপ্ত ৩৬ ছিটমহলের ৯৮ পরিবারের ৪৮৯ জন ভারত চলে যাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ গোলাম আজম। ২২ থেকে ২৬ নভেম্বর পাঁচ দিনে মোট চার দফায় তারা ভারত যাবেন।

রবিবার (২২ নভেম্বর) প্রথম দফায় জেলার সদর উপজেলার গাড়াতি, বোদা উপজেলার নাটকটোকা, বেহুলাডাঙ্গা, কাজলদিঘী ও নাজিরগঞ্জ ছিটমহলের ১৫ পরিবারের ৫৫ জন স্থায়ীভাবে বসবাসের জন্য ভারত যাবেন। 

এ উদ্দেশ্যে শনিবার (২১ নভেম্বর)জেলার বোদা উপজেলার কাজলদিঘী কালিয়াগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদ চত্ত্বরে সমবেত হন ভারত গমনেচ্ছুরা। বিজিবি ও কাস্টমস কর্তৃপক্ষের চেকিং শেষে রাতে তারা এখানে থাকবেন। রবিবার সকালে জেলা প্রশাসন ও বিজিবির মাধ্যমে নীলফামারী জেলার ডোমার উপজেলার চিলাহাটি ইউনিয়নের সীমান্তবর্তী ডাঙ্গাপাড়া বিজিবির কাছে তাদের পৌঁছে দেওয়া হবে।

পরে ডাঙ্গাপাড়া বিজিবি কর্তৃপক্ষ চিলাহাটি-হলদিবাড়ী সীমান্ত দিয়ে ভারতের খালপাড়া বিএসএফ ক্যাম্প কর্তৃপক্ষের কাছে তাদের হস্তান্তর করবেন।

পঞ্চগড় জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, ২৩ নভেম্বর ২য় দফায় দেবীগঞ্জের কোটভাজনী ও বালাপাড়া খাগড়াবাড়ী ছিটমহল থেকে ৩১ পরিবারের ১৭৭ জন স্থায়ীভাবে একই পথে ভারতে যাবেন।

২৪ নভেম্বর দেবীগঞ্জ উপজেলার দহলা খাগড়াবাড়ী ছিটমহলের ২৯টি পরিবারের ১৪৯ জন।

২৬ নভেম্বর দেবীগঞ্জ উপজেলার দহলাখাগড়াবাড়ী ও বোদা উপজেলার দইখাতা ছিটমহলের ২৩ পরিবারে ১০৮ জন একই পথে ভারত যাবেন।

চলতি বছরের ৬ জুলাই থেকে ১৬ জুলাই পর্যন্ত জনগণনায় পঞ্চগড় জেলার ৩৬ ছিটমহলের ৪৮৭ জন ছিটমহলের নাগরিক ভারত যেত আবেদন করেন। জনগণনার পর দেবীগঞ্জ উপজেলার কোটভাজনি এলাকার লাল চান রায়ের সদ্য ভূমিষ্ঠ শিশু ভারত চন্দ্র ও একই উপজেলার দহলা খাগড়াবাড়ি ছিটমহলের রতন চন্দ্র রায়ের সদ্য ভূমিষ্ঠ কন্যা অষ্টমী রানীর জন্ম হওয়ায় ভারতে যাওয়ার মোট সংখ্যা দাঁড়ায় ৪৮৯।

৩১ জুলাই মধ্যরাতে বাংলাদেশ-ভারতের ভৌগলিক সীমায় থাকা ১৬২ ছিটমহলের আনুষ্ঠানিকভাবে বিনিময় সম্পন্ন হয়। ভারতীয় ছিটমহলের অনেকে বাংলাদেশে থেকে যাওয়ার জন্য জেলা ম্যাজিস্ট্রেট বরাবরে আবেদন করেন। দুই দেশের বৈঠকে ছিটমহলবাসীর আবেদন গ্রহণ করা হয়। পরে ৪৮৭ জনকে ভারতীয় ট্রাভেল ভিসা প্রদান করা হয়।

জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ সালাহউদ্দিন বলেন,আমরা সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছি। কেউ যেতে না চাইলে তাকে জোর করে পাঠানো হবে না।

/এইচকে/টিএন/এসএস/

***বাংলা ট্রিবিউনে প্রকাশিত কোনও সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ। অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করলে কর্তৃপক্ষ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।