দুপুর ০১:৫০ ; মঙ্গলবার ;  ১৭ জুলাই, ২০১৮  

দেশে ফেরার সিদ্ধান্তে অবাক হচ্ছেন অনেকেই: রুমি

প্রকাশিত:

মাহমুদ মানজুর।।

আমি আবার নিজ দেশে প্রাণখুলে গাইতে চাই। পরবাসী ‘যন্ত্র জীবন’ থেকে মুক্তি চাই। এরকম আকুতির সুরেই কথাগুলো বললেন ক্লোজআপ ওয়ান প্রতিযোগিতার অন্যতম জনপ্রিয় মুখ রুমি। ‘মাটি হব মাটি’খ্যাত এই শিল্পী ২০০৭ সাল থেকে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করছিলেন। আপন মাটির টানেই সম্প্রতি ফিরে এসেছেন নিউ ইয়র্কের প্রবাসী জীবন থেকে। এবার স্থায়ী হচ্ছেন দেশে। এসব নিয়ে বাংলা ট্রিবিউনের সঙ্গে একান্ত আলাপ করেছেন তিনি।

বাংলা ট্রিবিউন: কেমন আছেন?
রুমি: এই তো বেশ। মানসিক প্রশান্তিতে আছি। গান-বাজনা করছি, পুরানো বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা দিচ্ছি।

ট্রিবিউন: দেশে এর আগেও এসেছেন। এবারও। অথচ অনুভূতিতে বিস্তর পার্থক্য।
রুমি: হ্যাঁ। এটাই স্বাভাবিক। আগে এসেছি দুই তিন মাসের ছুটিতে, একা। এবার অনির্দিষ্ট সময় হাতে নিয়ে। সঙ্গে বৌ-বাচ্চাও এসেছে। তাই এবারের আসাটা আমার কাছে একেবারেই ব্যতিক্রম এবং আনন্দের। মনে হচ্ছে, মুক্ত হলাম বহুকাল পর!

ট্রিবিউন: দেশে কবে এসেছেন? অনেকটা নিরবে মনে হয়।
রুমি: নিরবতার কিছু নেই। মাত্র তো এলাম। সরব হতে একটু সময় লাগবে।

ট্রিবিউন: কতদিন হলো, কবে এসেছেন?
রুমি: বেশি দিন হয়নি। ১৫-১৬ দিন হবে।

ট্রিবিউন: প্রায় আট বছরের প্রবাস জীবন ভেঙ্গে একেবারেই ফিরেছেন। সঙ্গে পরিবারও। বলছেন এবার স্থায়ী হবেন দেশে। সিদ্ধান্তটি স্রোতের বিপরীতে হয়ে গেল না?
রুমি: দেশে আশার পর তাই তো মনে হচ্ছে। প্রায় সবাই আমাকে একই প্রশ্ন করছেন, অবাক হচ্ছেন আমার সিদ্ধান্তে। বলছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সবুজ পাসপোর্ট পকেটে রেখেও আমি কেন ফিরে এলাম এখানে? এসব প্রশ্নের জবাব দিতে দিতে আমি একরকম বিরক্ত! আমি তো ভাই আমার দেশেই এসেছি। সবাই এটাকে স্বাগত জানানো উচিত।

ট্রিবিউন: অবশ্যই আপনাকে আন্তরিক স্বাগতম। তবে সপরিবারেই ফেরার ইচ্ছে কেন হলো?
রুমি: দেখুন আমি এর আগেও গত সাত বছরে বহুবার দেশের টানে গানের জন্য এসেছি। কিন্তু সে অর্থে তখন কাজের কাজ কিছুই হয়নি। কারণ নিউইয়র্কে আমার বৌ-বাচ্চা ছিল। তখন আমার অবস্থা দুই নৌকায় পা রাখার অবস্থা হয়েছে। এভাবে আর কত? তাই এবার বৌ-বাচ্চা, ব্যাগ-ব্যাগেজ নিয়ে একেবারেই এসেছি। এবার আর নো টেনশন।

...আমার মেয়ে আরশীর বয়স এখন সাড়ে ছয় বছর। স্ত্রীও যথেষ্ট সমঝদার মানুষ। ওরা মা মেয়ে দু’জনই আমাকে বোঝে। আমার গানের অধ্যায়টিকে ভালোবাসে, সম্মান করে। আমিই বরং দেশে ফেরার বিষয়ে কিছু বলিনি। ওরাই আমাকে বলেছে, ‘অনেক হয়েছে- এবার চলো’...

ট্রিবিউন: এবার তাহলে নৌকা একটাই থাকছে। কিন্তু এই এক নৌকায় পা রাখার ক্ষেত্রে পরিবারের সম্মতি কতটা ছিল?
রুমি: যৌক্তিক প্রশ্ন। আমার মেয়ে আরশীর বয়স এখন সাড়ে ছয় বছর। স্ত্রীও যথেষ্ট সমঝদার মানুষ। ওরা মা মেয়ে দু’জনই আমাকে বোঝে। আমার গানের অধ্যায়টিকে ভালোবাসে, সম্মান করে। আমিই বরং দেশে ফেরার বিষয়ে কিছু বলিনি। ওরাই আমাকে বলেছে, ‘অনেক হয়েছে- এবার চলো’। এদিকে দেশে বাবা-মাকে জিজ্ঞেস করলাম, ফিরব নাকি? কারণ তারা এরইমধ্যে যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার চূড়ান্ত কাগজ-পত্র গুছাচ্ছিলেন। মা দেশ থেকে বললেন, আমরা তো তোমোদের কথা ভেবে দেশ ছাড়তে চাই। তোমরাই যদি দেশে আস তবে তো কথাই নেই। আগে তোমরা আস, পরে আমাদের যাওয়ার বিষয়ে ভাবা যাবে। ব্যস, নো মোর লেট। চলে এলাম আপন দেশে।

ট্রিবিউন: হয়তো ফিরেও যাবেন নিকট আগামীতে, মুগ্ধতা ফুরালে। সেটা সময় বলবে। দেশে ফিরে কী কী পরিকল্পনা করছেন? কী করবেন?
রুমি: পরিকল্পনার পুরোটাই গান। আমি আবার নতুন করে শুরু করতে চাই। পুরানো বন্ধুদের নিয়ে ‘রুমি অ্যান্ড ফ্রেন্ডস’ নামের একটা গানের দল তৈরি করার প্রক্রিয়ায় আছি। এর বাইরে আমার প্রধান লক্ষ্য, উত্তর অঞ্চলের ফোক গান নিয়ে আন্তর্জাতিক মানের কিছু কাজ করার। এরমধ্যে আমি বেশ কিছু গান সংগ্রহ করে গাওয়ার কাজ শুরু করে দিয়েছি।

ট্রিবিউন: দু’একটি গানের শিরোনাম বলা যাবে?
রুমি: গোপন করার কিছু নেই। যেমন গেল এক সপ্তাহ ধরে আমি কাজ করছি ‘ও আমার দরদিয়া, আগে জানলে তোর ভাঙ্গা নৌকায় চড়তাম না’, ‘বাতাস লাইগাছে যার অন্তরে’ এবং ‘শেরে খোদা আলী সাবে, নিজেরে খুব সুন্দরভাবে’ গানগুলো নিয়ে।

ট্রিবিউন: গানগুলো নিয়ে নিকট আগামীর পরিকল্পনা কী?
রুমি: আমার ইচ্ছে ডিসেম্বরে গান তিনটি প্রকাশের। ‘শেরে খোদা’ গানটি প্রথমে প্রকাশ করব। পর্যায়ক্রমে বাকি দুটি।

ট্রিবিউন: অডিও নাকি ভিডিও আকারে এগুলো আসবে?
রুমি: প্রথমে অডিও, পরে ভিডিও। আসলে এর সবকিছুই নির্ভর করছে আমার দলের সদস্যদের সম্মিলিত মতামতের ওপর। এখনও পরিকল্পনার মধ্যে আছি। এরসঙ্গে ইচ্ছে আছে দেশের মধ্যে বড় কিছু কনসার্টে গাওয়ার। কারণ, বিদেশে প্রাণভরে গাইতে পারি না বলেই দেশে এসেছি।

ট্রিবিউন: এমনটা হবে কেন! যতদূর জানা যায়, গেল সাত-আট বছর আপনি যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, কানাডার বিভিন্ন সাংস্কৃতিক আয়োজনে নিয়মিত গেয়েছেন।
রুমি: গেয়েছি, সত্য কথা। কিন্তু সেসব অনুষ্ঠানে গেয়ে আমি শান্তি পাইনি কখনও। দেশের স্টেজে গাইলে শ্রেতাদের যেমন প্রাণ থেকে সাড়া পাই, তেমন সাড়া বিদেশে পাওয়া যায় না।

...এটা তো সত্যি কথা আমার যতটুকু সফলতা আর যে কটা জনপ্রিয় গান হয়েছে তার সবটাই প্রিন্স ভাইয়ার। আমি দেশে আসার পর তার সঙ্গে যোগাযোগ করেছি। ভাইয়ার ডাকের অপেক্ষায় আছি। তার সমর্থন-আশীর্বাদ ছাড়া আমি কিছুই করতে চাই না...

ট্রিবিউন: দেশে ফেরার আগে পরে প্রিন্স মাহমুদের সঙ্গে নিশ্চই কথা হয়েছে আপনার। তার কোনও নতুন প্রজেক্টে কাজ করছেন? কারণ তার কথা-সুরেই আপনার যত সফলতা।
রুমি: এটা তো সত্যি কথা আমার যতটুকু সফলতা আর যে কটা জনপ্রিয় গান হয়েছে তার সবটাই প্রিন্স ভাইয়ার। আমি দেশে আসার পর তার সঙ্গে যোগাযোগ করেছি। ভাইয়ার ডাকের অপেক্ষায় আছি। তার সমর্থন-আশীর্বাদ ছাড়া আমি কিছুই করতে চাই না।

ট্রিবিউন: নিজ দেশে নতুন যাত্রা সফল হোক। আপনার জন্য অনেক শুভকামনা।
রুমি: সবার কাছে দোয়া চাই। আমি আবার নিজ দেশে প্রাণখুলে গাইতে চাই। পরবাসী ‘যন্ত্রজীবন’ থেকে মুক্তি চাই। চোখবুজে চিৎকার করে বাংলায় গাইতে চাই, আবারও। সবাই মিলে আমাকে সে সুযোগটি দিন।

রুমির ‘মাটি হবো মাটি’ গানের লিংক:

/এমএম/

***বাংলা ট্রিবিউনে প্রকাশিত কোনও সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ। অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করলে কর্তৃপক্ষ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।