বিকাল ০৫:৫৪ ; সোমবার ;  ১৮ জুন, ২০১৮  

সাহিত্যপ্রেমীদের পদচারণায় মুখর লিট ফেস্টের দ্বিতীয় দিন

প্রকাশিত:

সম্পাদিত:

ফাতেমা আবেদিন।।

হরতালের আতঙ্ক-আশঙ্কা কেটে যেতেই লিট ফেস্টের  দ্বিতীয় দিনে মুখর হয়ে ওঠে বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণ।  দিনের শুরুতেই ছিল নাত-ই-রাসুলের মনোমুগ্ধকর সুর। পরিবেশ করেন প্রখ্যাত সঙ্গীতশিল্পী নাশিদ কামাল।

এর পরেই শুরু হয় মূল আলোচনার অনুষ্ঠান। সকালের মূল আকর্ষণ ছিল ফিলিস্তিনি কবি ঘাসান জাকতান আর ফেডি জোধাহের আলোচনা। আলোচনাটি সঞ্চালনা করেন ব্রিটিশ সাংবাদিক জন স্নো।

আলাপের শুরুতেই জন স্নো ঘাসান জাকতান ও ফেইদি জৌদাহকে অনুরোধ করেন নিজের নিজের একটি করে কবিতা শোনাতে। কবি জাকতান মন্দ্রিত কণ্ঠে প্রথমে আরবিতে, পরে ইংরেজিতে তার একটি কবিতা আবৃত্তি করেন। কবি জৌদাহও নিজের একটি কবিতা  পাঠ করেন। দুটি কবিতাই ছিল ফিলিস্তিনের জীবন ও অভিজ্ঞতার বর্ণনাসমৃদ্ধ। এরপর আলোচনা শুরু হলে দুই কবিই শোনান তাদের ছেলেবেলার গল্প। যোগ করেন উদ্বাস্তু হওয়ার অভিজ্ঞতা ও কবিতা লেখার প্রেরণার কথাও।

ঢাকা লিট ফেস্টিভ্যালের দ্বিতীয় দিনে আন্তর্জাতিক ম্যাগাজিন ওয়াসাফেরির বিশেষ সংখ্যা বাংলাদেশ ইস্যুর প্রকাশনা অনুষ্ঠিত হয় ভাষামঞ্চে। বাংলাদেশের সাহিত্য ও নবীন  সাহিত্যিকদের বিশ্বসাহিত্য অঙ্গনে তুলে ধরার তাগিদেই এই উদ্যোগ নেন ঢাকা লিটারেচার ফেস্টিভ্যালের অন্যতম আয়োজক কাজী আনিস আহমেদ।

কাজী আনিস আহমেদ ও আহসান আকবর এই প্রকাশনা অনুষ্ঠানে ওয়াসাফেরির বাংলাদেশ সংখ্যার অনলাইন ও প্রিন্ট ভার্সন দর্শকদের সামনে তুলে ধরেন। এ সময় তারা  সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তরও দেন।

কাজী আনিস আহমেদ বলেন, ‘আমি আমার ছাত্রজীবন থেকে এই ম্যাগাজিনের প্রতি আগ্রহী। আমি পৃথিবীর অনেক বিশ্ববিদ্যালয়য়ে গিয়েছি, সবকয়টির গ্রন্থাগারে সবসময় ওয়াসাফেরি দেখেছি, পেয়েছি, পড়েছি। ওয়াসাফেরিতে বাংলাদেশের সাহিত্যকে যুক্ত করার ইচ্ছা আমার বহুদিনের।

আহসান আকবর বলেন, ‘এই সংখ্যার পেছনে আছে আমাদের আমাদের যৌথ শ্রম। এই শ্রম ভালোবাসার ও প্রচেষ্টার’।

এর আগে, ঢাকা লিট ফেস্টের দ্বিতীয় দিন মূল মঞ্চে অনুষ্ঠিত হয়। এতে অংশ নেন উইমেন অব দ্য ওয়ার্ল্ডের পক্ষ থেকে জুড ক্যালি।  বাংলাদেশের সাংবাদিক মুন্নী সাহা ও পর্বতারোহী নিশাত মজুমদার।

আলোচনার শুরুতে ওয়াও-এর একটি প্রামাণ্যচিত্রের অংশবিশেষ দেখানো হয়। জুড ক্যালি বিশ্বজুড়ে নারীজীবনের প্রতিবন্ধকতা ও সম্ভাবনার নানাদিক তুলে ধরেন প্রশ্নোত্তরের মাধ্যমে। এখানে বক্তারা উদ্যোমী নারীদের গল্প যেমন বলেন, তেমনি আলোচনা করেন বঞ্চিত নারীদের কথাও।

এর আগে ভাষা মঞ্চে অনুষ্ঠিত হয়, ‘দ্য লং অ্যান্ড শর্ট অব আইটি’। এখানে অংশ নেন আরিফ হাফিজ, মুনিজে মানজুর, ইহতেশাম কবির ও সাবরিনা ইসলাম। এ সময় তারা তুলে ধরেন নিজের-নিজের চিত্রগ্রহণের বিচিত্র অভিজ্ঞতা।  নানাসময়ে ছবি তোলার ক্ষেত্রে কী ধরনের অসুবিধার মুখোমুখি হয়েছেন কিংবা আনন্দ পেয়েছেন, সেগুলোই ছিল আলোচনার মুখ্য বিষয়।

একই সময় কেকে টি স্টেজে অনুষ্ঠিত হয়, ‘এ মাল্টি ভার্স অব আইডিয়াজ’। এখানে অংশ নেন কিউবার সায়েন্স ফিকশন লেখক রকস্টার ইয়োস। আয়োজনটি সঞ্চালনা করেন সাদ জেড হোসেন।  আরও ছিলেন সাহিত্যিক রনবীর সিধু ও উপন্যাসিক মার্সেল থেরোক্স। বক্তাদের আলোচনায় উঠে আসে, বিজ্ঞান মনস্ক লেখার নানা ধরন ও টেকনিক।

‘দ্য ট্রায়াম্প অব স্ন্যাক গডেজ’ সেশনটির জন্য অপেক্ষা ছিল সবার। কায়জার হকের অনুবাদে ‘মনসা মঙ্গল’ কাব্যগ্রন্থের মোড়ক উন্মোচিত হয়। এরপর বইটি নিয়ে নিজের অভিজ্ঞতার কথা বলেন কায়জার হক। বেঙ্গল লাইটস প্রকাশ করেছে বইটি।

কেকে টি মঞ্চে ছিল ভাষা বিষয়ক অনন্য আয়োজন ‘মাদার টাং’ লেখক ও শিক্ষাবিদ মনজুরুল ইসলাম, ভারতীয় প্রাবন্ধিক কিরণ নাগরকর, মারাঠি লেখক বিনিয়ামিন, সঞ্চালনায় ছিলেন মাসরুর আরেফিন। এ সময় বক্তারা সাহিত্যে মাতৃভাষার ব্যবহার ও তার অনুবাদ নিয়ে পর্যালোচনা করেন।   

এর পরই লাইব্রেরি অব বাংলাদেশে শিরোনাম সেশনে অর্থনীতিবিদ রেহমান সোবহানের ‘বাংলাদেশের স্বাধীনতার ইতিহাস’ নিয়ে স্মৃতিচারণমূলক বইয়ের মোড়ক উন্মোচিত হয়।  মাহফুজ আনামের সঞ্চালনায় এই মোড়ক উন্মোচন আয়োজনে আরও উপস্থিত ছিলেন ব্যারিস্টার কামাল হোসেন। এই তিন প্রথিতযশা ব্যক্তিত্বের কথপোকথনে উঠে আসে তাদের বন্ধুত্ব ও বাংলাদেশের ইতিহাসের বিভিন্ন দিক।

দিনের সবচেয়ে আকর্ষণীয় ইভেন্ট ছিল বর্ধমান হাউসে পরিবেশিত ‘আনপ্লাগড’। এখানে সঙ্গীত পরিবেশন করেন আরমিন মুসা ও জয়িতা খান।

এর আগে অনুষ্ঠিত হয় ‘ইটস অ্যা শি থিংস’। এখানে একদল তরুণী তাদের নিজেদের অভিজ্ঞতা ও অনুভূতি  দর্শক-শ্রোতাদের সঙ্গে শেয়ার করেন।

দিনে শেষের সবচেয়ে আকাঙ্ক্ষিত সেশন ছিল ভারতীয় লেখক ও সাংবাদিক শোভা দে’র আলোচনা। এটি সঞ্চালনা করেন, অন্তরা গাঙ্গুলি।  সেখানে তিনি নারীবাদ নিয়ে আলোচনা করেন। নারীদের অবস্থান ও বাস্তবতা নিয়ে তিনি সরাসরি প্রশ্নের উত্তর দেন। নিজস্ব অভিমত তুলে ধরার পাশাপাশি ভারত সরকারের সাম্প্রতিক কার্যক্রম নিয়ে তিনি যে টুইট করেন, সেটি নিয়েও আলোচনা করেন।

একই সময় ভাষামঞ্চে কবি শামীম রেজার সঞ্চালনায়  কথাসাহিত্যিক হাসান আজিজুল হক ছিলেন নিজের জীবন অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরতে। তিনি বলেন, নিজের বেড়ে ওঠার  ও লেখালেখির গল্প।

ঢাকা লিট ফেস্ট আয়োজিত হচ্ছে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের বিশেষ সহযোগিতায়। এর টাইটেল স্পন্সর ইংরেজি দৈনিক ঢাকা ট্রিবিউন, প্ল্যাটিনাম স্পন্সর সিটি ব্যাংক। অনুষ্ঠানের সার্বিক আয়োজনে রয়েছে যাত্রিক। অনুষ্ঠানস্থল বাংলা একাডেমি।

এছাড়া, গোল্ড স্পন্সর হিসেবে রয়েছে ওরিয়ন ফুটওয়্যার, ইউল্যাব ও ব্র্যাক ব্যাংক। সিলভার স্পন্সর পুর্নভা লিমিটেড ও ইগনাইট পাবলিকেশন লিমিটেড।

ঢাকা লিট ফেস্টে নিবন্ধন ও বিস্তারিত জানার জন্য ভিজিট করুন- http://dhakalitfest.com

/এমএনএইচ/

ছবি: সাজ্জাদ হোসেন, নাসিরুল ইসলাম ও সৈয়দ জাকির হোসেন।

***বাংলা ট্রিবিউনে প্রকাশিত কোনও সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ। অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করলে কর্তৃপক্ষ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।