বিকাল ০৫:৫৫ ; সোমবার ;  ১৮ জুন, ২০১৮  

নতুন দিগন্তের বার্তায় শেষ হলো লিট ফেস্টের প্রথম দিন

প্রকাশিত:

সম্পাদিত:

ফাতেমা আবেদীন নাজলা।।

হরতালের উৎকণ্ঠা আর নানা আশংকা উপেক্ষা করে  সকালেই মুখর হয়ে ওঠে বাংলা একাডেমি প্রান্তর। ঘাসফড়িং কয়ারের মুখরিত সুরে শুরু হয় উৎসব। সুরের রেশ ধরে মূল মঞ্চে ওঠেন ঢাকা লিট ফেস্ট-২০১৫ এর তিন পরিচালক কাজী আনিস আহমেদ, সাদাফ সায্ সিদ্দিক এবং আহসান আকবার। তাদের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের সাহিত্যের নতুন দিগন্তের বার্তা শোনা গেল বহুকণ্ঠে।

কাজী আনিস আহমেদ বললেন, বাংলা সাহিত্যকে বিশ্ব দরবারে বোধগম্য ও সহজলভ্য করতে এই আয়োজন। তার সঙ্গে সুর মিলিয়ে বাকি দুই পরিচালক গত পাঁচ বছরের পরিশ্রমের কথা জানান। পঞ্চম আন্তর্জাতিক সাহিত্য সম্মেলন কী করে এত বড় উৎসব হয়ে উঠল সেই গল্প শোনান তারা।

এরপর মঞ্চে ওঠেন জনপ্রিয় ভারতীয় সাহিত্যিক ও শিক্ষাবিদ নয়নতারা সেগাল। তিনি উৎসবের মূল প্রবন্ধ পাঠ করেন। তিনি বক্তব্যে ভারতের বর্তমান সাহিত্য চর্চার পরিস্থিতি তুলে ধরেন। ‘উগ্র হিন্দুত্ববাদ’ এর সমালোচনায় সাহিত্যিকরা যে সম্মাননা ও পুরস্কার বর্জন করছেন তার সমর্থনে বক্তব্য রাখেন। তিনি প্রবন্ধে উল্লেখ করেন, কীভাবে বর্জন প্রতিবাদের ভাষা হয়ে উঠতে পারে।

এরপর মাননীয় অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত ও সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর বক্তব্য রাখেন।

নূর একই ছাদের নিচে বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে থাকা সাহিত্যিকদের সমবেত করার প্রচেষ্টাকে সাধুবাদ জানান।

হে ফেস্টিভ্যাল থেকে পরিবর্তিত হয়ে ঢাকা লিট ফেস্ট নামে যাত্রা শুরু করায় অর্থমন্ত্রী এই আয়োজনকে ‘দেশের সংস্কৃতির অংশ’ হিসেবে তুলনা করেন। ভবিষ্যতেও এমন আয়োজন অব্যাহত থাকবে বলে আশা করেন তিনি।

অর্থমন্ত্রী বলেন, দেশের এই অস্থির সময়ে এত বড় আয়োজন সম্ভব হয়েছে কারণ সরকার এই বিষয়ে যথেষ্ট সচেতন ছিল।

নিজের বক্তৃতার পর অর্থমন্ত্রী ঢাকা লিট ফেস্ট-২০১৫ এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন ঘোষণা করেন।

এরপর বেলা ১২টায় প্রধান মঞ্চে কাজী আনিস আহমেদের সঞ্চালনায় শুরু হয় প্রথম পর্ব- ‘দ্য ওয়ার্ল্ড ইজ রাউন্ড’। এতে অংশ নেন ব্রিটিশ সাংবাদিক জন স্নো,নারীবাদী সংগঠন ওয়াও(ওমেন অব দি ওয়ার্ল্ড ফেস্টিভ্যাল) এর প্রধান জুড ক্যালি এবং ভারতীয় ইতিহাসবিদ রামচন্দ্র গুহ। এই পর্বে বক্তাদের আলোচনায় বিশ্বের সার্বিক পরিস্থিতি ও তার কারণ এবং পর্যালোচনা উঠে আসে।

একই সময় বাংলা একাডেমির লনে অনুষ্ঠিত হয়  ‘বাংলাদেশ প্যারাডক্স’ শীর্ষক একটি আয়োজন। এতে সঞ্চালনা করেন হিমাল সাউথ এশিয়ার সম্পাদক অনুহীতা মজুমদার। এতে অংশ নেন আফসান চৌধুরী, প্রশান্ত ত্রিপুরা,কাসিয়া পেপরোস্কি ও গর্গ চ্যাটার্জি। বক্তারা বাংলাদেশের সাম্প্রদায়িকতা ও সংখ্যালঘু সংকট নিয়ে আলোচনা করেন। আফসান চৌধুরী বলেন, যা ঘটছে আর যা ব্যাখ্যা করা হচ্ছে, তা-ই প্যারাডক্স হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।

দুপুরে বাংলা একাডেমির মূল মঞ্চ আলোকিত করেন সংস্কৃতিমন্ত্রী ও অভিনেতা আসাদুজ্জামান নূর এবং অভিনেতা আলি যাকের। অভিনেত্রী বন্যা মির্জার সঞ্চালনায় দুই খ্যাতিমান তুলে ধরেন তাদের অভিনয় জীবনের গল্প। অভ্যাগতরা একে সবচেয়ে আকর্ষণীয় পর্ব বলে দাবি করেন। দুই অভিনেতার কথোপকথন কখনও হাসিয়েছে আবার কখনও কাঁদিয়েছে উপস্থিতদের।

এছাড়া বিকালে কবিতা পড়েন তিন প্রজন্মের কবিরা। তাদের মধ্যে ছিলেন, রুবি রহমান, আসাদ মান্নান, নাসির আহমেদ,মুস্তাফিজ শফি।ঢাকার শূন্য দশকের কয়েকজন কবিও নিজেদের কবিতা পাঠ করেন।

এমন নানা আয়োজনে শেষ হয় উৎসবের প্রথম দিন।

শুক্রবার দ্বিতীয় দিনে একই প্রাঙ্গণে কায়সার হক অনূদিত ‘মনসামঙ্গল’ বইয়ের মোড়ক উন্মোচন করা হবে। একই সময় পরিবেশিত হবে ‘বেহুলার লাচারি’। এদিন কথাসাহিত্যিক হাসান আজিজুল হক বলবেন তার ‘জীবনের গল্প’। এছাড়া যাত্রা শুরু করবে ঢাকা ট্রান্সলেশন সেন্টারের তত্ত্বাবধানে ‘লাইব্রেরি অব বাংলাদেশ’। এ উপলক্ষ্যে উন্মোচিত হবে হাসান আজিজুল হক ও সৈয়দ শামসুল হকের ইংরেজিতে অনূদিত দুটি গ্রন্থ।

এছাড়া অর্থনীতিবিদ রেহমান সোবহানের স্মৃতিচারণমূলক বইয়ের মোড়ক উন্মোচন করা হবে উৎসবের দ্বিতীয় দিনে।

ঢাকা লিট ফেস্ট আয়োজিত হচ্ছে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের বিশেষ সহযোগিতায়।এর টাইটলে স্পন্সর ইংরেজি দৈনিক ঢাকা ট্রিবিউন,প্ল্যাটিনাম স্পন্সর সিটি ব্যাংক। অনুষ্ঠানের সার্বিক আয়োজনে রয়েছে যাত্রিক।অনুষ্ঠানস্থল বাংলা একাডেমি।

এছাড়া গোল্ড স্পন্সর হিসেবে রয়েছে ওরিয়ন ফুটওয়্যার,ইউল্যাব ও ব্র্যাক ব্যাংক। সিলভার স্পন্সর পুর্নভা লিমিটেড ও ইগনাইট পাবলিকেশন লিমিটেড।

ঢাকা লিট ফেস্টে নিবন্ধন ও বিস্তারিত জানার জন্য ভিজিট করুন- http://dhakalitfest.com

ছবি: সাজ্জাদ হোসেন

 

/এসএস/

***বাংলা ট্রিবিউনে প্রকাশিত কোনও সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ। অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করলে কর্তৃপক্ষ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।