ভোর ০৬:১৭ ; শনিবার ;  ১৯ অক্টোবর, ২০১৯  

কঠিন চীবর দান উৎসব শুরু

প্রকাশিত:

রাঙামাটি প্রতিনিধি।।

রাঙামাটি রাজবন বিহারে দুইদিনব্যাপী ৪২তম কঠিন চীবর দান উৎসব বৃহস্পতিবার শুরু হয়েছে। এটি পার্বত্যাঞ্চলে বৌদ্ধদের বৃহত্তম উৎসব। এতে বৌদ্ধধর্মাবলম্বীসহ প্রায় লক্ষাধিক দর্শনার্থীর সমাগম ঘটবে বলে আশা করছে আয়োজক কমিটি।

উৎসব উপলক্ষে বেলা তিনটায় বেইন কর্মীদের পঞ্চশীল গ্রহণের মধ্যে দিয়ে বেইনঘর উদ্বোধন করেন চাকমা রাজা ব্যারিস্টার দেবাশীষ রায় ও রানী ইয়ান ইয়ান। পরে চরকায় সুতা কেটে অনুষ্ঠানের সূচনা করেন।

এ বছর রাজবন বিহারে ১৩০টি বেইনে অন্তত ৫২০ জন নারী কর্মী অংশগ্রহণ করছেন। এছাড়া সুতা লাগানো,সিদ্ধ, রং, টিয়ানো, শুকানো, তুম করা, নলী করা, বেইন টানার কাজে আরও শতাধিক পুরুষ কর্মী অংশগ্রহণ করছেন। শুক্রবার সকাল ৬টা থেকে শুরু করে দুপুর ১২টা পর্যন্ত চীবর সেলাই চলবে।

শুক্রবার সকাল ছয়টায় বুদ্ধ পতাকা উত্তোলনের মাধ্যমে দিনের কার্যক্রম শুরু হবে। সকাল ১০টায় অনুষ্ঠিত হবে দেব-মানবের তথা সব প্রাণীর হিতার্থে ধর্মদেশনা। ধর্মদেশনায় উপস্থিত থাকবেন রাজবন বিহারের আবাসিক প্রধান শ্রীমৎ প্রজ্ঞালঙ্কার মহাস্থবির।

চরকায় সুতা কাটার পর রাজা দেবাশীষ রায় বলেন, ‘বিশাখা প্রবর্তিত এই চীবর অনুষ্ঠান বর্তমানে সার্বজনীন রূপ গ্রহণ করেছে। ২৪ ঘণ্টার মধ্যে তুলা থেকে সুতা তৈরি করে এরপর চীবর তৈরি করা হয়। এতে নারী-পুরুষ সকলেই অংশগ্রহণ করেন।’

এসময় রাজবন বিহারের উপাসক/উপাসিকা পরিষদের সিনিয়র সহ-সভাপতি গৌতম দেওয়ান, সহ-সভাপতি নিরূপা দেওয়ান ও রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান নিখিল কুমার চাকমা উপস্থিত ছিলেন।

চীবর তৈরির পর শুক্রবার দুপুর একটায় শোভাযাত্রা নিয়ে কঠিন চীবর ও কল্পতরু মঞ্চে যাওয়া হবে। পঞ্চশীল গ্রহণের পর দুপুর আড়াইটায় বনভান্তের মানব প্রতিকৃতির উদ্দেশ্যে কঠিন চীবর উৎসর্গ হবে। এসময় বনভান্তের প্রতিনিধি হিসেবে এ চীবর গ্রহণ করবেন আবাসিক প্রতিনিধি শ্রীমৎ প্রজ্ঞালঙ্কার মহাস্থবির।

তিন পার্বত্য জেলার মধ্যে সবচেয়ে আড়ম্বরপূর্ণভাবে রাঙামাটি রাজবন বিহারে প্রতিবছর এ দানোৎসবের আয়োজন করা হয়। এই অনুষ্ঠানকে সুষ্ঠু ও সুন্দরভাবে পালনের প্রস্তুতি শেষ করেছে রাজবন বিহার উপাসক- উপাসিকা পরিষদ।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীসহ প্রশাসনের পক্ষ থেকেও নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা-সংক্রান্ত বিষয়গুলো নিশ্চিত করা হয়েছে।

এদিকে উৎসব উপলক্ষে রাজবন বিহার এলাকায় বিশাল মেলা বসেছে। মেলা প্রাঙ্গণে সহস্রাধিক স্টলে সারাদেশ থেকে কুটির ও হস্তশিল্পের পণ্যের পসরা নিয়ে সাজানো নিয়েছে। এছাড়া নাগরদোলাসহ বিভিন্ন খেলা, যাদু প্রদর্শনী, ধর্মীয় পালা কীর্তনের ব্যবস্থাও করা হয়েছে।

/জেবি/এসএস/

***বাংলা ট্রিবিউনে প্রকাশিত কোনও সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ। অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করলে কর্তৃপক্ষ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।