দুপুর ০১:১২ ; শনিবার ;  ২০ জানুয়ারি, ২০১৮  

হাতছানি লা টমাটিনার

প্রকাশিত:

নাঈম রায়হান ভূঁইয়া।।

জিন্দেগী না মিলেগী দো বারা- বলিউডের এই সিনেমার বেশিরভাগ অংশের শুটিং হয়েছিল স্পেনে। স্পেনের নানা সৌন্দর্যের পাশাপাশি দর্শকদের মনে গেঁথেছে টমাটিনা উৎসব। টমেটো নিয়ে উৎসবে মেতে ওঠার এই দিনটিতে শহরবাসী হয় টমেটোর রঙে রঙিন। প্রতি বছরই স্পেনে পালিত হয় এ উৎসব। স্থানীয়ভাবে এটাকে বলা হয় ‘লা টমাটিনা’ বা টমেটো যুদ্ধ। আগস্টের শেষ বুধবার হাজারো মানুষের গন্তব্যস্থান হয়ে ওঠে দক্ষিণপূর্বাঞ্চলীয় ছোট্ট শহর বুনোলে। যুদ্ধের মূল আসরটা এখানেই। একমাত্র অস্ত্র টমেটো।

লড়াইয়ের জন্য ময়দানে জড়ো করা হয় বিপুল সংখ্যক সরস ও পাকা টমেটো। স্থানীয় টমেটো চাষিরা সানন্দে তাদের ফসলের একাংশ দান করে এ উত্সবে। কেউ যেন চোট বা আঘাত না পায় সেজন্য ছোড়ার আগে টমেটোগুলোকে দলাইমলাই করে নরম করে নেয়া হয়। কর্তৃপক্ষ কড়া নজর রাখে, কেউ যাতে টমেটো ছাড়া অন্য কোনও সবজি না ছুড়ে। এরপর শুরু হয় খেলা।

অধিকাংশ অংশগ্রহণকারীরা নামেন খালি গায়ে। মুহূর্তে টমেটোর লাল রসে ভিজে একাকার সবাই। রাস্তার নালাগুলোতেও চলতে থাকে টমেটোর স্রোত। প্রায় দেড় লাখ টমেটো (৪০ মেট্রিক টন) শেষ না হওয়া পর্যন্ত চলতে থাকে উৎসব। যুদ্ধ শেষে হোসপাইপ থেকে পানির কামান দেগে সবাই স্নান সেরে নেন।

স্থানীয়দের মতে,এক সময় বুনোলে মানুষের তেমন আসা-যাওয়া ছিল না। শহরের লোকসংখ্যাও ছিল কম। এ অঞ্চলে প্রচুর পরিমাণ টমেটো উৎপাদন হলেও ব্যবহারের অভাবে তা নষ্ট হয়ে যেত। ফলে কিছু লোক বুদ্ধি করে শহরের যাজক সেইন্ট লুইস বার্ট্রান্ডকে ও মেরিকে উৎসর্গ করে টমেটো ছোড়া উৎসবের সূচনা করে। এ উৎসব দেখতে প্রতি বছর শহরটিতে ভিড় করে প্রায় লাখখানেক পর্যটক। ২০০২ সালে পর্যটকদের বিপুল উৎসাহ ও অংশগ্রহণের কারণে স্পেন সরকার একে ‘আন্তর্জাতিক পর্যটন উৎসব’-এর মর্যাদা দেয়। স্পেন ছাড়াও চিলি ও লাতিন আমেরিকায়ও জমজমাট আয়োজনে পালিত হয় এ উৎসব।

অতএব মজার এই উৎসবে অংশ নিতে হলে স্পেনে যাওয়ার পরিকল্পনা করা যেতে পারে আগস্ট মাস মাথায় রেখে। এরপর শুধু পাকা টমেটোর রঙে মুখ রঙিন করার অপেক্ষা! 

 

/আরএফ/

***বাংলা ট্রিবিউনে প্রকাশিত কোনও সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ। অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করলে কর্তৃপক্ষ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।