রাত ০৯:৩০ ; বৃহস্পতিবার ;  ২০ জুন, ২০১৯  

বিলুপ্ত ছিটমহলের ২০১টি পরিবার ভারত যাচ্ছে

প্রকাশিত:

নীলফামারী প্রতিনিধি।।

ভারতের নাগরিকত্ব বজায় রাখা সদ্য বিলুপ্ত ছিটমহলের ২০১টি পরিবারের ৯৮৫ জন সদস্য আগামী রবিবার ২২ নভেম্বর থেকে পাঁচ দফায় ভারত যাচ্ছে। এ প্রক্রিয়া চলবে ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত। এর মধ্যে প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় দফা যাবে যথাক্রমে ২২,২৩ ও ২৪ নভেম্বর। চতুর্থ দফা যাবে ২৬ নভেম্বর। এই চার দফায় যারা যেতে পারবে না; তাদেরকে পঞ্চম দফায় পাঠানো হবে।

নীলফামারী জেলা প্রশাসক জাকির হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

সূত্র জানায়, চিলাহাটি-হলদিবাড়ি অভিবাসন সীমান্ত দিয়ে যাবে পঞ্চগড় জেলার ১১টি বিলুপ্ত ছিটমহলের ৯৯ পরিবারের ৪৭১ জন। বুড়িমারী-চ্যাংরা বান্ধা অভিবাসন দিয়ে লালমনিরহাটের ৭টি বিলুপ্ত ছিটমহলের ৪০ পরিবারের ১৯৭ জন ও বাঘভান্ডার-সাহেবগঞ্জ অভিবাসন দিয়ে কুড়িগ্রামের দুটি বিলুপ্ত ছিটমহল থেকে ৬২ পরিবারের ৩১৭ জন সদস্য।

ভারতীয় কর্তৃপক্ষ এই বিষয়ে বাংলাদেশকে অবগত করেছে। এর আগে এই পরিবারগুলোর ভারত গমনের দিনক্ষণ প্রস্তুত করা হয়েছিল চার দফায়। কিন্তু ভারত কর্তৃপক্ষ পরে তা স্থগিত করেছিল। ফলে ওই সব পরিবারের ভারত গমন অনিশ্চিত হয়ে পড়েছিল।

এসব ছিটমহলের অধিবাসীদের ভারত গমনের সবরকম প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে। এ লক্ষ্যে বাংলাদেশ সরকারের পক্ষে নীলফামারীর চিলাহাটি থেকে ভারতের হলদিবাড়ি সীমান্ত দিয়ে একটি সংযুক্ত সড়ক নির্মাণ করা হয়েছে। এছাড়া, তাদের বর্তমান বাসস্থান থেকে চিলাহাটি সীমান্তে পৌঁছে দেওয়ার জন্যে স্থানীয় প্রশাসন পরিবহনের ব্যবস্থা  নিয়েছে। এখান থেকে ভারতীয় সীমান্ত অতিক্রমের সময় ওপারের ভারতীয় প্রতিনিধিদের হাতে তাদের বুঝিয়ে দেওয়া হবে।

নির্ভরযোগ্য সূত্র জানায়, যারা ভারত গমন করছে তাদের বরণ করে নিতে হলদিবাড়ি সীমান্তে ভারতীয় কর্তৃপক্ষ বিশাল আকারের সবুজ রংয়ের একটি প্যান্ডেল তৈরি করে রেখেছে। সেখানে বরণ অনুষ্ঠান করবেন তারা। এরপর তাদের নিয়ে যাওয়া হবে স্থানীয়ভাবে বসবাসের জন্য তৈরি করা হলদিবাড়ি কৃষিখামার আবাসন প্রকল্পে। সেখানে প্রতিটি পরিবারের জন্য একটি করে দুইশ’ স্কোয়ার ফিটের ঢেউটিন দিয়ে তৈরি ঘর নির্মাণ করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, ভারত-বাংলাদেশের মধ্যে স্থলসীমান্ত চুক্তির পর গত ৩১ জুলাই মধ্যরাত থেকে দুই দেশের ভেতরে থাকা ১৬২টি ছিটমহল বিলুপ্ত হয়। ভারতের ছিটমহল বাংলাদেশ ভূখণ্ডে মিশে গিয়েছে আর বাংলাদেশের ছিটমহল ভারত ভূখণ্ডের সঙ্গে মিশে গিয়েছে। সেসময় বাংলাদেশে থাকা তিন জেলার ২০টি ভারতীয় ছিটমহলের ২০১টি পরিবারের ৯৮৫ জন সদস্য ভারতের নাগরিকত্ব বজায় রেখেছিল। তারাই স্থায়ীভাবে বসবাসের জন্য ভারত গমন করবে। এদের মধ্যে কুড়িগ্রামের ১৩টি পরিবারের ৫৫ জন্য সদস্য তাদের ভারতীয় নাগরিকত্বসহ ভারত গমন বাতিল চেয়ে আবেদন করেছে।

/আরএ/ এএইচ/

***বাংলা ট্রিবিউনে প্রকাশিত কোনও সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ। অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করলে কর্তৃপক্ষ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।