সকাল ০৯:২২ ; শুক্রবার ;  ১৭ আগস্ট, ২০১৮  

‘জটিলতা’ থেকে বিদ্বেষ: অনিশ্চয়তায় ফ্রান্সের মুসলমানরা

প্রকাশিত:

বিদেশ ডেস্ক।।            

[নিউ ইয়র্ক টাইমস অবলম্বনে]

জানুয়ারি আর নভেম্বর এক নয়। আর এই বিষয়টাই গত কয়েকদিন ধরে ফরাসি রাজনীতিক ও মিডিয়ায় ঘুরেফিরে আসছে। জানুয়ারিতে শার্লি এবদোর কার্যালয়ে হামলায় ১২ জন মারা যাওয়ার পর যেমন হয়েছিল, তেমন করে ‘মুসলমানদের দিকে ভাতৃত্বের হাত বাড়িয়ে দাও, ওরা আমাদের ভাই,’ ঘরানার স্লোগানগুলো শুক্রবারের সন্ত্রাসী হামলার পর আর শোনা যাচ্ছে না।

প্রেসিডেন্ট ওলাঁদের জরুরি অবস্থা ও সন্ত্রাসবাদকে এক হাত দেখে নিতে সংবিধান পরিবর্তনের ডাক দেওয়ায় ফরাসিদের মধ্যে ছড়িয়ে পড়েছে ভয়, ক্রোধও! বোঝাই যাচ্ছে এতদিন এমনিতেই মুসলমানদের সঙ্গে একটা খটমটে সম্পর্ক ছিল উদার ফ্রান্সের। এবার আশঙ্কা- সম্পর্কটা হয়ে উঠবে অবিশ্বাস ও শত্রুতার।

ফরাসি প্রধানমন্ত্রী মানুয়েল ভালস তার কঠোর কণ্ঠ দিয়ে হয়তো জনসমর্থনের কাঁটা আবারও ঘোরাতে পারবেন তাদের দিকে। হামলার পরদিন শনিবারই ‘উস্কানিদাতা ইমামদের’ দেশছাড়া করার ঘোষণা দিয়েছেন তিনি।

অভিবাসী-বিরোধী ন্যাশনাল ফ্রন্ট পার্টির কাছ থেকে রাজনৈতিক হুমকিও পাচ্ছে ওলাঁদের দল। পরিবর্তনটা তাই আসতে পারে তড়িঘড়ি। এরইমধ্যে সন্দেহের রাডারে থাকা ১০ হাজার মুসলমানকে আরও কড়া নজরদারিতে রাখার সুপারিশ করছেন সরকারে থাকা নেতারা।

ভয় আছে মুদ্রার উল্টো পাশেও। হামলার পর থেকেই ফ্রান্সের ইমামরা বেশ দুশ্চিন্তায় দিন কাটাচ্ছেন। এ তথ্য জানালেন প্যারিসের একটি মুসলিম অ্যাসোসিয়েশনের প্রধান হাসেন ফারসাদু। বললেন, ‘কী করা যায় তা বোঝার চেষ্টা করছি আমরা।’

ফরাসি কূটনীতিক বার্নার্দ গোদার্দ আশঙ্কা করছেন, মুসলিম বিদ্বেষ ক্রমেই ভীষণ হয়ে উঠতে পারে ফ্রান্সের মাটিতে। ইতোমধ্যেই তার লক্ষ্মণগুলো প্রকাশ পেতে শুরু করেছে। বাতাকলান কনসার্ট হলের সামনে অনেক মানুষ এসেছিল ফুল দিতে ওই হত্যাকাণ্ডের পর। এসেছিলেন অনেক মুসলিমও। তাদের অনেকেই হয়েছেন অবমাননার শিকার। কেউ কেউ তাদের দিকে চিৎকার করে বলছিল, ইসলাম ধর্মই হামলাগুলো উস্কে দিয়েছে। বিপরীতে মুসলিমদের কাছ থেকে প্রতিবাদ এসেছে। আদিবা ত্রাবাকে নামের এক মুসলিম নারী তো কেঁদেই ফেলেছেন, ‘কোরআনে এমন হত্যাকাণ্ডের নির্দেশ নেই’ বলতে গিয়ে।

এ হামলার জেরে উল্টো হাওয়া শুরু হতে পারে ফ্রান্সের রাজনীতিতেও। উল্টো হাওয়া বলতে ওলাঁদবিরোধী হাওয়া। ওলাঁদ কিন্তু অভিবাসী প্রশ্নে নমনীয় ছিলেন। আর যে কারণে তার অতিডানপন্থা প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে- আরেক অগ্রবর্তী রাজনৈতিক দল ন্যাশনাল ফ্রন্ট পার্টির দ্বারা। ওই দলের ওজস্বী নেত্রী মারিঁ ল্য পেঁ এ মুহূর্তে ব্যক্তি ফ্রাঁসোয়া ওলাঁদের ওপর অতোটা রূঢ় হয়তো হচ্ছেন না ঠিকই। কিন্তু ক্ষমতাসীন দলীয় সিদ্ধান্তের সমালোচনায় এবং নিজেদের ভবিষ্যৎ মসনদ-সম্ভাবনায় কিন্তু এগিয়ে থাকতে চাইবেন।

 

/এইচকে/এফএ/

***বাংলা ট্রিবিউনে প্রকাশিত কোনও সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ। অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করলে কর্তৃপক্ষ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।