দুপুর ০২:৩৯ ; বৃহস্পতিবার ;  ১৫ নভেম্বর, ২০১৮  

সরকারি ক্রয় কমিটিতে ৭ প্রস্তাব অনুমোদন

প্রকাশিত:

বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট।।

বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের আওতধীন বঙ্গবন্ধু সেতুর পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণ কাজের জন্য অপারেটর নিয়োগের প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এ কাজটি চায়না কমিউনিকেশনস কন্সট্রাকশন কোম্পানি লিমিটেড (সিসিসিসি) সর্বনিম্ন দরদাতা হওয়ায় এই প্রতিষ্ঠানটিকে কাজটি দেওয়া হয়। এ কাজের জন্য সরকারের মোট ব্যয় হবে ১৪২ কোটি ৩ লাখ ৬০ হাজার টাকা।

বুধবার সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত সরকারের ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে সেতু বিভাগের এ প্রস্তাবটি অনুমোদন দেওয়া হয়। অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকে কমিটির সদস্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ সচিবসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সচিবরা উপস্থিত ছিলেন।

বৈঠক শেষে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব মোস্তাফিজুর রহমান সাংবাদিকদের জানান, এর আগে অর্থমন্ত্রীর সভাপতিত্বে সরকারের অর্থনৈতিক বিষয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। ওই বৈঠক ‘পাবলিক প্রকিউরমেন্ট আইন ২০০৬’ ও ‘পাবলিক প্রকিউরমেন্ট বিধিমালা-২০০৮’-এর সংশোধন, সংযোজন বিষয়টি উপস্থাপিত হলেও পরে তা মুলতবি ঘোষণা করা হয়। এ বিষয়টি আরও বিস্তারিত আলোচনার জন্য পরবর্তী বৈঠকে উত্থাপন করা হবে বলা জানান তিনি।

মোস্তাফিজুর রহমান সাংবাদিকদের জানান, সরকারের ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে মোট ১৪২ কোটি ৩ লাখ ৬০ হাজার টাকা ব্যয়ে ঈশ্বরদী থেকে পাবনা হয়ে ঢালারচর পর্যন্ত নতুন রেলপথ নির্মাণ শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় পাবনা থেকে ঢালারচর পর্যন্ত ৫৩ দশমিক ৮০ কিলোমিটার মেইন লাইন এবং ৩ দশমিক ৯ কিলোমিটার লুপলাইন নির্মান কাজের প্রস্তাবটি অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। দরপত্রে সর্বনিম্ন দরদাতা প্রতিষ্ঠান হওয়ায় চায়না রেলওয়ে সিছিঝুঁ গ্রুপকে কাজটি দেওয়া হয়েছে।

এ ছাড়াও বৈঠকে রেলপথ মন্ত্রণালয় পূর্বাঞ্চলের চিকনী আস্তানা-চট্রগ্রাম সেকশনের ১১টি স্টেশনের বিদ্যমান সিগন্যালিং ব্যবস্থার প্রতিস্থাপন ও আধুনিকীকরণ প্রকল্পের কম্পিউটার বেইজড ইন্টারলকিংসহ বিভিন্ন কাজ বাস্তবায়নের একটি প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

দক্ষিণ কোরিয়ার এক্সিম ব্যাংকের অর্থায়নে প্রকল্পটি বাস্তবায়নে মোট ১১৫ কোটি ৩৭ লাখ ১৬ হাজার টাকা ব্যয় হবে। প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে দক্ষিণ কোরিয়ার এলএসআইএস কোম্পানি লিমিটেড।

তিনি বলেন, দেশের কৃষি উৎপাদনে সারের যোগান অব্যাহত রাখতে রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে কাতারের সঙ্গে বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাষ্ট্রিজ করপোরেশনের (বিসিআইসি) সঙ্গে স্বাক্ষরিত চুক্তির আওতায় মোট ৬ লাখ টন মোড়কজাত ইউরিয়া সার আমদানির একটি প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে ৫০ হাজার টন সার আমদানি হয়েছে। বাকি সাড়ে ৫ লাখ টন সার আমদানি করা কবে। সরকারি পর্যায়ে চুক্তির আওতায় ‘প্রাইস ফরমুলা’ অনুযায়ী এ সারের দাম পরিশোধ করা হবে।

এছাড়াও বৈঠকে দরপত্রের মাধ্যমে ১ লাখ টন মোড়কজাত প্রিল্ড ইউরিয়া সার আমদানির একটি প্রস্তাব অনুমোদন দেওযা হয়েছে। প্রতিটন ২৮৪ দশমিক ৮৩ ডলার হিসেবে এতে মোট খরচ পড়বে ২২৪ কোটি ৫৮ লাখ টাকা। মেসার্স প্রোটন ট্রেডার্স এই সার সরবরাহ করবে।

তিনি বলেন, বৈঠকে ৭৫ হাজার মোড়কজাত দানাদার সার আমদানির আরেকটি ক্রয় প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। চট্রগ্রাম বন্দরের মাধ্যমে এ সার সরবারহ করবে মেসার্স আরকে এন্টারপ্রাইজ। প্রতি টনের দাম ২৮২ দশমিক ৬১ ডলার হিসেবে মোট ব্যয় হবে ১৬৭ কোটি ১২ লাখ টাকা।

তিনি আরও বলেন, সৌদি সরকারের সঙ্গে চুক্তি অনুযায়ী দেশটি থেকে সৌদি বেসিক ইন্ডাষ্ট্রিজ করপোরেশন থেকে এক লাখ ৮০ হাজার টন বিভিন্ন ধরনের সার আমদানির প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। ‘প্রাইস ফরমুলা’ অনুযায়ী এ সারের দাম নির্ধারন করা হবে।

/এসআই/এফএইচ/

***বাংলা ট্রিবিউনে প্রকাশিত কোনও সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ। অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করলে কর্তৃপক্ষ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।