বিকাল ০৪:২৭ ; বৃহস্পতিবার ;  ২১ নভেম্বর, ২০১৯  

৬ ইস্যুতে রবিবার শুরু হচ্ছে বিডিএফ বৈঠক, উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী

প্রকাশিত:

সম্পাদিত:

বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট॥

দীর্ঘ ছয় বছর পর কাল ঢাকায় শুরু হচ্ছে বাংলাদেশ উন্নয়ন ফোরামের (বিডিএফ) বৈঠক। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা রবিবার সকালে এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন। সরকারের পক্ষ থেকে দুদিনব্যাপী এ বৈঠকের সব আয়োজন চূড়ান্ত করা হয়েছে।  ৬টি গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু সামনে রেখে  এবারের সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে। অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) সিনিয়র সচিব মেজবাহউদ্দিন আহমেদ শনিবার এক সংবাদ সম্মেলনে এ সব তথ্য জানিয়েছেন।

রাজধানীর শেরেবাংলা নগরস্থ এনইসি মিলনায়তনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, বাংলাদেশ উন্নয়ন ফোরামের (বিডিএফ) মূল লক্ষ্য উন্নয়ন সহযোগীদের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদার করা। পাঁচবছর পর অনুষ্ঠিত হচ্ছে এবারের সম্মেলন। সার্বিক উন্নয়নে সম্পদের যোগান কিভাবে দেওয়া হবে তার মোটিভ নির্ধারিত হবে এ সম্মেলনে। আগামী ২দিনে ৭টি সেসন অনুষ্ঠিত হবে। আরও সেসন করা গেলে ভালো হতো বলে জানিয়েছেন ইআরডি সচিব মেজবাহ্উদ্দিন আহমেদ। সম্মেলনে মোট ৪১টি বুথের মধ্যে উন্নয়ন সহযোগীদের ১৬টি বুথ থাকবে। এনজিওদের থাকবে ৮টি। সম্মেলনে বিশ্বব্যাংকের শীর্ষ পর্যায়ের কর্মকর্তারাই উপস্থিত থাকবেন বলে জানিয়েছেন তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে ইআরডি সচিব জানিয়েছেন, ৭ম পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনা এবং টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা বাস্তবায়ন লক্ষ্যে করে অনুষ্ঠিত হচ্ছে এবারের বিডিএফ। এশিয়া অবকাঠামো ব্যাংকের (এআইআইবি) মনোনীত সভাপতি জিন লিকুইন এবং এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) ভাইস প্রেসিডেন্ট ওয়েংকাই ঝাং উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকবেন।

এবারের ফোরামের বৈঠকে সরকার বাংলাদেশের রূপকল্প এবং উল্লেখযোগ্য অগ্রাধিকারমূলক উন্নয়ন কৌশল উন্নয়ন সহযোগীসহ ব্যাপক উন্নয়ন গোষ্ঠীর সঙ্গে মত-বিনিময় করবে।

সংবাদ সম্মেলনে আরও জানানো হয়, ফোরামের মূল অধিবেশনের প্রতিপাদ্য বিষয় হবে (ম্যাক্রো- ইকনোমিক ম্যানেজমেন্ট : এ জার্নি ফ্রম লোয়ার টু হাইয়ার মিডল ইনকাম কান্ট্রি থ্রো এন এনক্লোসিভ গ্রোথ স্ট্রাটেজি ইনসিওরিং এসডিজি’স)। এবারের সম্মেলনে মূল প্রতিপাদ্য বিষয়ের ওপর ৬টি কর্ম অধিবেশন অনুষ্ঠিত হবে। এগুলো হচ্ছে,  ১. কৃষি, খাদ্য নিরাপত্তা ও জলবায়ু পরিবর্তন, ২. অর্থনৈতিক ভিত্তি সুদৃঢ়করণ: অবকাঠামো উন্নয়নের কৌশল নির্ধারণ ৩. সুশাসন ও উন্নয়ন: কার্যকরি উন্নয়ন সহযোগিতা বৃদ্ধিও লক্ষ্য অংশীদারিত্ব শক্তিশীলীকরণ ৪. স্বাস্থ্য সম্মত শিক্ষা: সবার জন্য নিরাপদ ভবিষ্যৎ নিশ্চিতকরণ ৫. সামাজিক সুরক্ষা: কাউকেই অনগ্রসর করে না রাখা ও ৬. লিঙ্গ সমতাকে অর্থনৈতিক উন্নয়নের মূলধারায় আনয়ন করা।  

এ ছাড়া, বৈঠকে সপ্তম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা উপস্থাপন করা হবে। এর ওপর ভিত্তি করে উন্নয়ন সহযোগীদের কাছ থেকে সম্মতি অর্জনের চেষ্টা করা হবে। পরিকল্পনা বাস্তবায়নে তাদের কাছে চাওয়া হবে খাতভিত্তিক অর্থ সহায়তার প্রতিশ্রুতি। এর বাইরে সরকারের দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন পরিকল্পনা ভিশন-২০২১, টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) ও দারিদ্র্য বিমোচনের বিষয় গুরুত্ব পাবে।

জানা গেছে, বৈঠকে ২০১৬-২০ সাল মেয়াদে সপ্তম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনায় উন্নয়ন সহযোগীদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে চায় সরকার। এ ছাড়া, সরকারের নেওয়া বিভিন্ন পরিকল্পনার বিষয়ে তাদের পরামর্শ বা মতামত গ্রহণ করতে চায় সরকার।

উল্লেখ্য, ২০১০ সালের ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝি সময়ে বিডিএফের সর্বশেষ বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়।

ইআরডি সূত্রে জানা গেছে, বিশ্বব্যাংকের পদ্মাসেতু প্রকল্প নিয়ে সৃষ্ট জটিলতায় কয়েক দফায় উদ্যোগ নিয়েও উচ্চ পর্যায়ের এ বৈঠক আয়োজন করা সম্ভব হয়নি। সম্প্রতি দূরত্ব কমে আসায় দাতারা বিডিএফ বৈঠকে অংশ নিতে সম্মতি দিয়েছে।

২০১১ সালে পদ্মা বহুমুখী সেতু প্রকল্পে দুর্নীতির অভিযোগকে কেন্দ্র করে সরকারের সঙ্গে প্রধান উন্নয়ন সহযোগী বিশ্বব্যাংকের দূরত্ব সৃষ্টি হয়। এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি), জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থা (জাইকা), ইসলামিক ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকসহ (আইডিবি) দাতাদের সঙ্গে সম্পর্কের টানাপড়েন দেখা দেয়। এ সব কারণে সরকারের সঙ্গে উন্নয়ন সহযোগীদের সর্বোচ্চ পর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়নি। তাই এ বছর তাদের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নে বেশি জোর দেওয়া হবে।

ইআরডি সচিব মেজবাহউদ্দিন আহমদকে প্রধান করে ২৫ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। এ কমিটি দুদিনব্যাপী বিডিএফ বৈঠক আয়োজনের চূড়ান্ত প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে।

/এসআই/ এমএনএইচ/

***বাংলা ট্রিবিউনে প্রকাশিত কোনও সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ। অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করলে কর্তৃপক্ষ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।