দুপুর ০৩:৫০ ; মঙ্গলবার ;  ২১ নভেম্বর, ২০১৭  

রক্তের দোসর || চিন্ময় গুহ

প্রকাশিত:

সম্পাদিত:

চিন্ময় গুহ ফরাসিবিদ, প্রাবন্ধিক, অনুবাদক এবং কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরাজি সাহিত্যের অধ্যাপক। এক দশক ‘দেশ’ ও ‘বইয়ের দেশ’ পত্রিকার গ্রন্থ-সমালোচনা বিভাগের সম্পাদনার দায়িত্বে ছিলেন। ১৯ নভেম্বর ঢাকায় অনুষ্ঠিতব্য ঢাকা লিটারেরি ফেস্টিভ্যালে যোগ দিতে তিনি বাংলাদেশ আসছেন।

 

দুই বাংলার রক্ত চলাচল যে এক তাতে কোন ও সন্দেহ নেই। ইতিহাস তার সাক্ষী। হে কালপুরুষ, বলো, ইতিহাস আর ভূগোলকে অস্বীকার করে আর কতদিন বেঁচে থাকব আমরা? এদুটি তো মানুষের মনের ইতিহাস তৈরি করে দেয়।

আমার জন্ম কলকাতায়, কিন্তু আমার ‘দেশ’, আমার শিকড় বাংলাদেশে। আমার বাবা এসেছিলেন বরিশাল থেকে, মা পাবনা। ভূগোল যদি মানুষের প্রকৃতি নির্ধারণ করে দেয় তাহলে বরিশাল থেকে কিছু প্রবল প্রতিভা আমার স্নায়ুর ভেতরে প্রবাহিত হতে পারত, অন্তত পাবনার মিষ্টতা। হয়নি সেটা সময়ের দোষ, শতাব্দীর দোষ।

আমার ঠাকুর্দার আদি বাড়ি ছিল রামচন্দ্রপুর গ্রামে, বরিশাল শহরেও বাড়ি ছিল শুনেছি। কলকাতার হাইকোর্টে ওকালতি করতেন, ফরাসি আর জার্মান নাকি ছিল তাঁর মাতৃভাষার মতো। পুরোটাই যে রূপকথা নয়, তার প্রমাণ পেয়েছি দৈবাৎ কয়েকটি ফরাসি জার্মান বইতে। বরিশাল মানেই যে ভীষণ রাগী একজন মানুষ নয়, তাঁর মধ্যে অসীম কোমলতা আছে, তা আপনারা নিশ্চয় অনেক দেখেছেন, আর আমি দেখেছি আমার বরিশাল-জাত প্রিয়জনদের মধ্যে, যেমন রবীন্দ্রকুমার দাশগুপ্ত, তপন রায়চৌধুরী আর শঙ্খ ঘোষ। জীবনানন্দের সঙ্গে হাঁটতে হাঁটতে নির্জনে খুঁজে পেয়েছি আশ্চর্য এক আকাশ।

আমার দাদামশাই ছিলেন পাবনা, খুলনা আর এলাশিন স্কুলের হেডমাস্টার। সাহেবের মতো ইংরিজি বলতেন, সংস্কৃত আর বাংলা তাঁর ধমনীতে, বাগান করার শখ ছিল মায়ের কাছে শুনেছি। সেখানে কোথাও তাঁর নাম সময়ের গায়ে খোদাই করা আছে। মাটি কি সব মুছে ফেলে? বোধ হয় না ।

আশ্চর্য ব্যাপার, আমার স্ত্রী অনসূয়ারও আদি বাড়ি বরিশালের রায়ের কাঠি। আমাদের ডাক্তার বাবু আশ্চর্য হয়ে জিগ্যেস করেছিলেন, দুজনেই বরিশাল! আপনারা টিঁকে আছেন কী করে?

মুক্তিযুদ্ধের সময় আমি আর আমার ভাই বেশ ছোট ছিলাম। আমি তখন স্কুলে ক্লাস এইটের ছাত্র। সেদিনের সেই বিজয়ের উত্তেজনা আর আনন্দ আজও ভুলিনি।

বাংলাদেশে আমার শ্রদ্ধেয় মানুষ আছেন অনেকে। তালিকা দেব না। আপাতত আমি সেই জল-মাটি স্পর্শ করার জন্য উন্মুখ।

 

 

***বাংলা ট্রিবিউনে প্রকাশিত কোনও সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ। অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করলে কর্তৃপক্ষ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।