রাত ০৫:৩২ ; মঙ্গলবার ;  ১৯ নভেম্বর, ২০১৯  

বিনিয়োগ ও রাজস্ব আদায়ে ধীরগতিতে উদ্বিগ্ন সরকার

প্রকাশিত:

বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট।।

দেশের বৈদেশিক মুদ্রার মজুদ (রিজার্ভ), রফতানি পরিস্থিতি ও মূল্যস্ফীতি অনেকটা অনুকূলে থাকলেও দেশে কাঙ্ক্ষিত বিনিয়োগ হচ্ছে না। রাজস্ব আদায়েও সাফল্য নেই। এমন অবস্থায় চলতি অর্থবছরের সামনের দিনগুলোয় রাজস্ব আদায় ও বার্ষিক উন্নয়ন কর্সসূচি (এডিপি) বাস্তবায়নের ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছে।

সরকারের আর্থিক, মুদ্রা ও মুদ্রা বিনিময় হার সংক্রান্ত সমন্বয় (কো-অর্ডিনেশন) কাউন্সিলের বৈঠকে এ সব বিষয়ের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। বুধবার সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত এ বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত।

বৈঠকে অর্থ মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিব মাহবুব আহমেদ, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আতিউর রহমান, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান নজিবুর রহমান, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিব হেদায়েতুল্লাহ আল মামুন, পরিকল্পনা কমিশনের সাধারণ অর্থনীতি বিভাগের সদস্য ড. শামসুল আলম, পরিকল্পনা বিভাগের সচিব শফিকুল আজম, প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব খন্দকার মোহম্মদ ইফতেখার হায়দার, আইএমইডি সচিব শহীদুল্লাহ খন্দকারসহ সরকারের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

বৈঠকে সরকারের রাজস্ব আদায়ে ঘাটতির কারণ, এডিপি বাস্তবায়ন, বাজেট অর্থায়নসহ আর্থিক ব্যবস্থাপনা ও সামষ্টিক অর্থনীতির বিভিন্ন সূচক নিয়ে আলোচনা করা হয়।

সূত্র জানায়, দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি স্থিতিশীল থাকলেও সরকারের রাজস্ব আদায় বড় ধরনের ঘাটতি রয়েছে। রাজস্ব আদায়ে বড় ধরনের ঘাটতি থাকায় ব্যাংকের ওপর নির্ভর হয়ে পড়ছে সরকারের রাজস্ব বিভাগ। এ সমস্যা সমাধানে অর্থ বিভাগ করবহির্ভূত রাজস্ব আয়ের ওপর জোর দিলেও খুব একটা সাড়া পাওয়া যাচ্ছে না। রাজস্ব আয়ের এ ধারা চলতে থাকলে এক লাখ কোটি ডলারের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) বাস্তবায়ন ও সরকারি চাকুরেদের নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়ন কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়বে। বিষয়টি বৈঠকে গুরুত্বের সঙ্গে আলোচিত হয়েছে।

এনবিআর চেয়ারম্যান বৈঠকে বলেন, রাজস্ব আদায়ে যে ঘাটতি রয়েছে তা পূরণ করতে হলে সকলের সহযোগিতা প্রয়োজন। সরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কাছে যে সব বকেয়া রয়েছে তা পরিশোধে সকল মন্ত্রণালয় ও বিভাগের সহযোগিতা চেয়েছেন তিনি।

বৈঠকে বেসরকারি বিনিয়োগ বাড়ানোর জন্য ঋণ প্রবাহ বাড়ানোর প্রস্তাব দেওয়া হয়। আগামী জানুয়ারিতে ঘোষিত মূদ্রানীতিতে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনার প্রস্তাব করা হয়। বৈঠকে উপস্থিত বক্তারা বলেন, যেহেতু মূল্যস্ফীতি সহনীয় পর্যায়ে রয়েছে, সেহেতু বেসরকারি খাতে ঋণের সীমা বাড়ালে ইতিবাচক ফল পাওয়া যেতে পারে।

সূত্র জানায়, সম্প্রতি মূল্যস্ফীতি সহনীয় থাকলেও বিনিয়োগে ধীরগতি বিদ্যমান। শেয়ারবাজারের ধারাবাহিক দরপতনে ব্যবসা-বাণিজ্যে এক ধরনের অনিশ্চয়তার সৃষ্টি হয়েছে।

/এসআই/এফএইচ/

***বাংলা ট্রিবিউনে প্রকাশিত কোনও সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ। অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করলে কর্তৃপক্ষ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।