বিকাল ০৫:৪৪ ; বৃহস্পতিবার ;  ১৭ জানুয়ারি, ২০১৯  

বিশেষণ প্রয়োগের রহস্য!

প্রকাশিত:

সম্পাদিত:

মাহমুদুর রহমান।।

তুলনা আর বিশেষণ ছাড়া ব্যক্তি ও কর্মের সঠিক উপস্থাপনা কঠিন।  অনেক সময় প্রতিতুলনা ও বিশেষণের গুণেই বিষয়বস্তু হয়ে ওঠে  বিশ্বাসযোগ্য। এটাই প্রচলিত ধারা। কিছু-কিছু বিরল ক্ষেত্রে এই ধারার ব্যত্যয় যে হয় না, তা নয়। সৈয়দ শামসুল হক কোনও এক  চলচ্চিত্রের  গান রচনা করতে গিয়ে  লিখেছেন—'তুমি যে তোমারই তুলনা'। এ গান রচনা করতে গিয়ে তিনি প্রেয়সীকে চাঁদ বা নদীর সঙ্গেতুলনা  করতে চাননি। যেন প্রেয়সী দূরে চলে  না যায়।

তারপরও চলে নানা রকমের তুলনা, ব্যবহৃত হয় নানা বিশেষণ। অনেক  সময় এসব তুলনা-প্রতিতুলনার যৌক্তিকতা খুঁজে পাওয়া যায় না। চোখের তুলনা চলে 'পাখির বাসা', 'পটলচেরা' এমনকি 'হরিণের' সঙ্গেও। ক'জন আজকাল পাখির বাসা দেখে—এ বিষয়ে সন্দেহ আছে। চেরাপটল সুস্বাদু খাবার;  হরিণের মাংস তো রীতিমতো একটি ভোজন। মায়াময়ী চোখের কথা স্মরণেই আসে না। 'বাঘের বাচ্চা', তথা ব্যঘ্রতার সঙ্গে সাহসের তুলনা অনায়াসে কলম বা কি বোর্ডে চলে আসে ঠিকই, কিন্তু সাহসিকতার দিক দিয়ে মুরগীর স্থান অনেক ওপরে নয় কি? রোজকার খাবারের টেবিলে তাদের শেষ গন্তব্য জেনেও তারা আমাদের গৃহস্থালীর মায়া ত্যাগ করে না। অথচ বাঘমামাকে নয়, বিড়াল ভাগ্নেকেই আদর করে বাড়িতে জায়গা করে দেওয়া হয় কেন? গরুর মতো উপকারী ও নিরীহ প্রাণী কমই আছে,  অথচ তার সঙ্গে বোকামির সম্পর্ক স্থাপনে আমরা কুণ্ঠা বোধ করি না। কুকুরের মতো প্রভুভক্তি অন্য প্রাণী নেই। কিন্তু কি এক ছন্দপতনে কুকুর বলে দিতে কেউ কুণ্ঠা বোধ করেন না।  সম্ভবত, শুকর একটি প্রাণী, যার সঙ্গে সর্বজনীন নেতিবাচকতার লেবেল লাগানো। ভক্ষণকারীদের মাঝে নোংরা, অগোছালো পরিবেশে বসবাসকারীদের Pig বলে অশ্রদ্ধচিত্তে সম্বোধন করা হয়। আমাদের দেশে অপাঙ্‌ক্তেও গালি হিসেবে শুকর ব্যবহৃত হয়।

ছাগলের সঙ্গে বোকামির সাদৃশ্য রয়েছে। কারণটি আজানা। বেচারা যা পায়, তা-ই খায়। কারও বাড়া ভাতে ছাই দেয় না। অথচ 'ছাগলে কি না খায়'— খুব যে ইতিবাচক অর্থে ব্যবহার হয়, তা নয়। আর ওই ছাগল  যা-ই খাক, বা না খাক, ওর মাংস কিন্তু চাই-ই চাই। যেকোনও  প্রাণীর মতো কাকবৃষ্টিতে ভিজে, অথচ 'কাকের মতো ভিজা' কথাটি দিয়ে চুপ্সে ভেজার বিবরণ অজ্ঞাত কারণে দেওয়া হয়।

বাঘের স্নেহময়তা সবাই উপেক্ষা করেন, কুকুরের বিশ্বস্ততার কোনও মূল্য নেই; গরুর উপকারিতা উপেক্ষিত। ভালো গুণ যেন মানুষের Sole agency। তাই তো  'মানুষের মতো মানুষ' হওয়ার প্রার্থনা। যে মানুষের হিংস্রতা অদ্বিতীয়; যার হিংসা অবিশ্বাস্য; যার চিন্তার বিকৃতি অভাবনীয় এবং যে নিজেই নিজের সব চেয়ে বড় শত্রু।

তবে পশুর সঙ্গে উপমা না দিয়ে, জনাথন সুইফটের Gulliver's Travels রচনায় মানবজাতির বিবরণ দিতে গিয়ে তিনি যা লিখে গেছেন, তা জীবজন্তুদের টকশোর আলোচনার খোরাক জোটাবে।

I cannot but conclude the Bulk of your Natives, to be the most pernicious Race of little odious Vermin that Nature ever suffered to crawl upon the Surface of the Earth.

 

লেখক: সিএসআর এবং কমিউনিকেশন বিশেষজ্ঞ

***বাংলা ট্রিবিউনে প্রকাশিত কোনও সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ। অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করলে কর্তৃপক্ষ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।