রাত ০৫:৪৬ ; শনিবার ;  ১৯ অক্টোবর, ২০১৯  

পর্যটনবর্ষে আশাবাদী কক্সবাজার প্রশাসন

প্রকাশিত:

আবদুল আজিজ, কক্সবাজার।।

দেশে পর্যটন শিল্প বিকাশে ২০১৬ সালকে পর্যটনবর্ষ ঘোষণা করেছে বর্তমান সরকার। এজন্য পর্যটকদের নানা সুযোগ সুবিধা নিশ্চিত করতে ইতোমধ্যে সব ব্যবস্থা নিয়েছে সংশ্লিষ্ট প্রশাসন।

কক্সবাজারের সংশ্লিষ্ট পর্যটন ব্যবসায়িরাও পর্যটক বরণে সব ধরনের প্রস্তুতি নিয়েছেন। কিন্তু, বিগত বছরগুলোয় যেভাবে পর্যটকরা হয়রানির শিকার হয়েছেন তা চলতে থাকলে, আসন্ন মৌসুমে কক্সবাজারে পর্যটকের খরা দেখা দিতে পারে, এমনটাই ভাবছেন সংশ্লিষ্টরা।

কক্সবাজার বিশ্বের দীর্ঘতম সমুদ্র সৈকত, সেইসঙ্গে পাহাড়-নদী-বনসহ প্রাকৃতিক সম্পদে ভরপুর।  রয়েছে দেশের একমাত্র প্রাকৃতিক প্রবাল দ্বীপ, সার্ফারী পার্ক, নেচার পার্ক, হিমছড়িসহ আরও দৃষ্টিনন্দন ঝর্ণা, আদিনাথ মন্দির, রামু রামকুট বৌদ্ধ বিহার, লবণ প্রকল্প, চিংড়ির ঘেরসহ অসংখ্য দর্শনীয় স্থান।

এত  সম্পদ থাকার পরও প্রচারণার দিক থেকে বিশ্বের বিভিন্ন পর্যটনকেন্দ্রগুলোর চেয়ে পিছিয়ে রয়েছে কক্সবাজার। দেশি পর্যটকদের আনাগোনা বছরের প্রায় সবসময় থাকলেও চলতি বছর তেমন আশানুরূপ নয় বিদেশি পর্যটক সংখ্যা।

কী কী কারণে পর্যটক কমে যেতে পারে তা চিহ্নিত করতে চেয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। তাদের মতে, অতিথি পর্যটকদের সঙ্গে হোটেল কর্তৃপক্ষের অনাকাঙ্ক্ষিত আচরণ, কৃত্রিম সঙ্কট দেখিয়ে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়, অপ্রতুল নিরাপত্তা,টমটম-রিক্সা চালকদের প্রতারণা, সৈকতে বিচ ফটোগ্রাফারদের হয়রানি, ছিনতাইকারিদের দৌরাত্ম্য, টেকনাফ-সেন্টমার্টিন নৌ-পথে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়, বিপদজনকভাবে যাত্রী পরিবহণ ও ইনানী, হিমছড়ি, সাফারি পার্ক, মহেশখালী নৌ ঘাটে অতিরিক্ত টোল আদায়সহ নানা অসুবিধাই পর্যটক কমে যাওয়ার কারণ।

এছাড়া কক্সবাজার-চট্টগ্রাম মহাসড়ক ও শহরের রাস্তা-ঘাটের দুরাবস্থা এবং সৈকতের বিভিন্ন প্রাণঘাতী ঘটনা বিভিন্ন সময়ে মিডিয়ায় বহুল প্রচারিত হওয়ার কারণকেও উড়িয়ে দিচ্ছেন না সংশ্লিষ্ট মহল।

এছাড়া কক্সবাজার পর্যটন শিল্পের উন্নয়নে বিশেষ করে সমুদ্র সৈকত এলাকার উন্নয়ন ও পর্যটকদের আগ্রহ সৃষ্টির লক্ষ্যে বিচ ম্যানেজমেন্ট কমিটি থাকলেও এ কমিটির তেমন কোনও কার্যক্রম দৃশ্যমান নয়।

এ বিষয়ে কক্সবাজার জেলা প্রশাসক ও বিচ ম্যানেজম্যান কমিটির সভাপতি মো. আলী হোসেন বলেন, আগামী ২০১৬ সালকে পর্যটনবর্ষ ঘোষণা করেছেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী।  সে লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছে প্রশাসন। তাই পর্যটক হ্রাসের কোনও কারণ দেখছি না। পর্যটকরা আমাদের অতিথি। তারা যেখানেই হয়রানির শিকার হবেন সেখানেই দ্রুত আইনানুগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

কক্সবাজারের পুলিশ সুপার শ্যামল কুমার নাথ বলেন,‘বর্তমানে পর্যটকদের অধিকতর নিরাপত্তা দেওয়া হচ্ছে। নিরাপত্তাবিধানে ট্যুরিস্ট পুলিশের পাশাপাশি জেলা পুলিশ কাজ করে যাচ্ছে।’ পর্যটক হ্রাস পাওয়ার পেছনে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির বিষয় নয়, বরং ‘অন্য কারণ’ থাকতে পারে বলে মনে করেন তিনি।

/এইচকে/এমআর/

***বাংলা ট্রিবিউনে প্রকাশিত কোনও সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ। অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করলে কর্তৃপক্ষ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।