বিকাল ০৫:০৪ ; শুক্রবার ;  ২২ নভেম্বর, ২০১৯  

দেবশ্রীর সঙ্গে ‘পুরাতন কামরায়’ ১০ মিনিট

প্রকাশিত:

আল আমিন মুন্না, চট্টগ্রাম থেকে।।

সকালে যখন তিনি স্টেশনে পা রাখলেন তখন প্রায় জনশূন্য। বেশ নিরিবিলি ভেবে প্রথমে বেশ স্বস্তি পেয়েছেন কলকাতা থেকে উড়ে আসা কিংবদন্তী অভিনেত্রী দেবশ্রী। পরক্ষণেই মনটা বেশ উদাস হলো। আনমনে বিড়বিড় করে বললেন, তবে কি এ পাড়ার কেউ আমাকে চিনতেই পারেনি!

এদিকে সকাল দশটা নাগাদ যখন দেবশ্রী রায় এলেন তারও আগে-পরে শ্যুটিং ইউনিটের কর্মীরা যখন সেট সাজাতে মরিয়া- তখন স্থানীয় মানুষ ভুলই করেছেন। চলতি পথে একে অপরকে ফোঁড়ন কেটে বলেছেন, হবে হয়তো কোনও নাটক-ফাটকের শ্যুটিং-ফ্যুটিং!  

চট্টগ্রাম রেলস্টেশনের নিরিবিলি যায়গাটার নাম ‘পুরাতন কামরা’। অনেকের কাছে এটি আবার বটতলি স্টেশন বলেই পরিচিত। বৃহস্পতিবার সকাল গড়িয়ে দুপুর ছোঁয়ার আগেই এখানে বেঁধে গেল লঙ্কাকাণ্ড। প্রথমে ইলিয়াস কাঞ্চনের খবর, খানিক পরেই দেবশ্রী বন্দনা শুরু হয়ে গেল পুরো বটতলি জুড়ে। পিঁপড়ার মতো জড়ো হলো মানুষ। যার অর্ধেকজুড়ে ছিল দেবশ্রী রায় জামানার মধ্যবয়সী মানুষের চকচকে চোখ।

চলছে শ্যুটিং, অ্যাকশন-কাট। এর ফাঁকে দেবশ্রী মাত্র দশ মিনিট খরচ করতে সম্মত হলেন বাংলা ট্রিবিউনের জন্য। সঙ্গে এটুকুও বলে ভদ্রতা দেখালেন, ‘সন্ধ্যে বেলায় হোটেলে আসলে ডিরেক্টরসহ জমিয়ে গল্প করা যেতো।’ তবে তার আগেই বরাদ্দ দশ মিনিটে আলাপ হলো বিস্তর।    

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কবিতার ছবি হঠাৎ দেখা’। সেজন্যই আপনার এই সফর। কেমন লাগছে?

রবীন্দ্রনাথের জন্য এই সফর। ভাবতেও ভালো লাগছে। তাছাড়া আমি বেশ ভালো করেই জানি বাংলাদেশের মানুষ এক কথায় অসাধারণ। ফলে এখানে এসে দারুণ লাগছে।

ছবির কাজে এই স্টেশনেই ৮ নভেম্বর পর্যন্ত প্রতিদিন সকাল-সন্ধ্যা থাকবেন। কেমন লাগছে আমাদের পুরাতন কামরা’?

কামরাগুলো পুরাতন। কিন্তু যায়গাটা এখনও অসাধারণ। তাছাড়া এমন পুরাতন যায়গায় এলে স্মৃতিকাতর হয়ে পড়ি। নিজেকে নিয়ে অনেক পেছনে চলে যাই। ভালোই লাগছে।

বাংলাদেশে তো এর আগেও এসেছেন। স্বজন নেই হয়তো, কিন্তু সিনেমার কারও সঙ্গে পরিচয় আছে কি?

আছে তো! অনেকের সঙ্গেই আমার ভালো পরিচয় ছিল। বিশেষ করে আপনাদের নায়ক আলমগীর সাহেব। উনার সঙ্গে আমার যোগাযোগ এখনও আছে। তিনি আমার বাংলাদেশি বন্ধুদের তালিকায় এক নম্বরে আছেন। ‘মায়ের আর্শীবাদ’ সিনেমার পর থেকে তার সঙ্গে আমার পরিচয়। আর এই ছবির মাধ্যমে নতুন বন্ধু পেলাম আপনাদের আরেক নায়ক ইলিয়াস কাঞ্চন সাহেবকে।

এবার আসল  প্রসঙ্গে আসি। হঠাৎ দেখা’ প্রসঙ্গে কিছু বলুন।

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘হঠাৎ দেখা’ কবিতাটি পড়লেই টের পাবেন। যার প্রতিটি লাইনের আড়ালে আছে ভালোবাসার এক চিরন্তন গল্প। সেই গল্পটিকে রূপালি পর্দায় তুলে ধরার আশ্বাস পেয়েছি নির্মাতাদ্বয়ের কাছ থেকে। যা আগামী ২৫ বৈশাখ বিশ্বকবির জয়ন্তীতে দুই বাংলায় একসঙ্গে মুক্তি দেওয়ার কথা রয়েছে। সবমিলিয়ে আমার কাছে একেবারে নতুন কিছু মনে হয়েছে।

আগের ছবি আর এখনকার ছবির মধ্যে কোনও পার্থক্য অনুভব করেন?

হুম করি। এই যেমন গল্পের কাহিনী বাছাইয়ের ক্ষেত্রে। আগের সিনেমা সামাজিক প্রেক্ষাপটে তৈরি হতো। এখন রবীন্দ্রনাথ কিংবা অন্য কোনও উপন্যাস ধরে সিনেমা হচ্ছে। দর্শকও খাচ্ছে। সময়ের কারণে এমন চাহিদা তৈরি হচ্ছে।

প্রায় ১৮ বছর আগে, সম্ভবত ১৯৯৭ সালের দিকে ঊনিশে এপ্রিল ছবির জন্য আপনি জাতীয় পুরস্কার পেয়েছিলেন।

হুম। এরপর আর সেই ধরনের ছবিতে কাজ করা হয়নি। এই যে এখন আবার করছি। সে জন্যই তো সোজা আপনাদের চট্টগ্রামে এসে হাজির। দশ মিনিট ফুরিয়ে গেল বোধ হয়!  

টলিউডের শুভশ্রী-কোয়েল-শ্রাবন্তীরা ভালোই তো করছে। আপনার মূল্যায়ন?

ওদের বিষয়ে আমি কোনও মন্তব্য করতে চাই না। কারণ ওদের ছবি আসলে খুব একটা দেখা হয় না আমার। তাছাড়া নিজে কলকাতার সিনেমা কবে দেখেছি তাও ভুলে গেছি।

অভিনয়ের চেয়ে এখন আপনি রাজনীতির সঙ্গেই বেশি যুক্ত। এটা কি অভিনেত্রী দেবশ্রীকে বঞ্চিত করা নয়?

দেখুন আমি মনে করি একজন শিল্পী শুধু শিল্পীই নন। তিনিও একজন মানুষ। তার অবস্থান থেকে কিছু করার আছে। শুধু রাজনীতিই নয়। আমার একটি এনজিও আছে। সকালে ঘুম থেকে উঠে লোকজন আমার বাড়িতে আসে তাদের নানা সমস্যা নিয়ে। রাজনীতি আর এনজিওতে জড়িয়ে আমি তাদের সমস্যা কিছুটা হলেও লাঘব করার চেষ্টা করি। অভিনয় আর কত করবো? করছি তো এখনও।

প্রসঙ্গত, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘হঠাৎ দেখা’ কবিতা অবলম্বনে স্বনামে নির্মিত হচ্ছে যৌথ প্রযোজনার এ ছবি। আর এতে দেবশ্রীর সঙ্গে জুটি বাঁধছেন ঢাকার অভিনেতা ইলিয়াস কাঞ্চন। ইমপ্রেস টেলিফিল্ম ও রেশমী পিকচার্সের যৌথ প্রযোজনায় নির্মিতব্য এই ছবির শ্যুটিং শুরু হয়েছে ৫ নভেম্বর থেকে,  চলবে ৮ নভেম্বর পর্যন্ত। ৯ নভেম্বর ঢাকায় ফিরবে কাঞ্চন-দেবশ্রী ও  ‘হঠাৎ দেখা’ টিম। কলকাতার রেশমী মিত্রের সঙ্গে ছবিটি যৌথভাবে পরিচালনা করছেন ঢাকার পরিচালক শাহাদাৎ হোসেন বিদ্যুৎ।

ছবি: আল আমিন/বাংলা ট্রিবিউন

/এস/এমএম/

***বাংলা ট্রিবিউনে প্রকাশিত কোনও সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ। অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করলে কর্তৃপক্ষ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।