রাত ১১:১৬ ; রবিবার ;  ০৫ এপ্রিল, ২০২০  

সরকার থাইল্যান্ডে একক বাংলাদেশি মেলা করতে চায়

প্রকাশিত:

বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট॥

বাংলাদেশে এখন আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন তৈরি পোশাক, পাটজাত পণ্য, ঔষধ এবং আসবাবপত্রসহ  বিভিন্ন পণ্য তৈরি করছে। বিভিন্ন উন্নত দেশে এখন বাংলাদেশের পণ্য রফতানি হচ্ছে। উৎপাদিত এ সব পণ্যের চাহিদাও বাড়ছে দিন দিন। থাইল্যান্ডের বাজারেও এ সকল পণ্যের প্রচুর চাহিদা রয়েছে। বিভিন্ন জটিলতায় প্রত্যাশা অনুযায়ী পণ্য থাইল্যান্ডের বাজারে রফতানি হচ্ছে না বলে জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ।

থাইল্যান্ড সফররত বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ ব্যাংককে থাইল্যান্ডের বাণিজ্যমন্ত্রী মিসেস আপিরাদি তানট্রাপর্ণ’র সঙ্গে মতবিনিময়ের সময় এ সব কথা বলেন।

বাণিজ্য মন্ত্রী বলেন, গত অর্থ বছরে থাইল্যান্ডে রফতানি ছিল ৩২ দশমিক ৭৬ মিলিয়ন মার্কিন ডলার মূল্যের পণ্য, একই সময়ে বাংলাদেশ আমদানি করেছে ৬৮০ দশমিক ৫০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার মূল্যের পণ্য। বর্তমানে বাংলাদেশের বাণিজ্য ঘাটতি ৬৪৭ দশমিক ৭৪ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। এ বিপুল বাণিজ্য ঘাটতি কমিয়ে আনতে থাইল্যান্ডের বাজারে বাংলাদেশের জন্য বাণিজ্য সুবিধা আরো সম্প্রসারিত করা প্রয়োজন। বাংলাদেশের তৈরী পণ্য থাইল্যান্ডে রফতানির ক্ষেত্রে ডিউটি ফ্রি ও কোটা ফ্রি সুবিধা আরও বাড়াতে হবে। এ জন্য থাইল্যান্ড সরকারের আন্তরিক সহযোগিতা প্রয়োজন।

মন্ত্রী বলেন, থাইল্যান্ডের বাজারে বাংলাদেশের তৈরী পণ্য পরিচিত করতে ‘সিঙ্গেল কান্ট্রি ফেয়ার’ (একক মেলা) করার বিষয়ে বর্তমান সরকার আগ্রহী। এ বিষয়ে থাইল্যান্ড সরকারের সহযোগিতা প্রয়োজন। থাইল্যান্ডের ভোক্তাগণ বাংলাদেশী পণ্যের সাথে পরিচিত হলে, থাইল্যান্ডের বাজারে বাংলাদেশের তৈরী পোশাকসহ বিভিন্ন পণ্যের চাহিদা বাড়বে।

তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ রফতানি পণ্যের সংখ্যা বৃদ্ধি ও বাজার সম্প্রসারণের উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। বাংলাদেশের বর্তমান রফতানি প্রায় ৩২ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। বাংলাদেশের স্বাধীনতার ৫০ বছর পূর্তিতে এ আয় ৬০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে উন্নীত করার লক্ষ্য নিয়ে বঙ্গবন্ধু কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে সরকার সফলতার সাথে কাজ করে যাচ্ছে।

বাংলাদেশ ও থাইল্যান্ডের মধ্যে বিদ্যমান বাণিজ্যিক জটিলতা চিহ্নিত করে জরুরি ভিত্তিতে সমাধানের উদ্যোগ গ্রহণের জন্য জয়েন্ট ট্রেড কমিশনকে কার্যকর করার উপর গুরুত্ব আরোপ করেন বাণিজ্যমন্ত্রী।

থাইল্যান্ডে তৈরি পোশাক, মাছ, ঔষধ, পাটজাত পণ্য, বিশেষায়িত বস্ত্র, রাবার, ইলেক্ট্রিক্যাল ও ইলেক্ট্রেনিক যন্ত্রপাতিসহ চাহিদা মোতাবেক বিভিন্ন পণ্য রফতানি করে আসছে বাংলাদেশ ।

জাতিসংঘের ইকোনমিক অ্যান্ড সোস্যাল কমিশন ফর এশিয়া অ্যান্ড প্যাসিফিক(ইসক্যাপ)-এর এশিয়া প্যাসিফিক বিজনেস ফোরামের দ্বাদশ কনফারেন্সে যোগদান করতে বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ এখন ব্যাংককে অবস্থান করছেন।

মঙ্গলবার মিনিষ্ট্রিয়াল প্লেনারি সেশন-০১ এ ‘দি নিউ রিজিওনাল ইকনমিক অর্ডার’ শীর্ষক অধিবেশনের আলোচ্য বিষয় ‘ওয়ান বেল্ট ওয়ান রোড, ট্রান্স-প্যাসিফিক পার্টনারশিপ, রিজিওনাল কনফ্রিহেনসিভ ইকনমিক পার্টনারশিপ, আসিয়ান ইকনমিক কমিউনিটি এন্ড  আদার  রিজিওনাল  ইনিসিয়েটিভস’-এর প্রথম প্যানেলিষ্ট এবং এশিয়া প্যাসিফিক পার্টিসিপেশন ইন ভেলু চেইন: দি রোল অব ট্রেড অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট পলিসিস’ বিষয়ে প্যানেল আলোচনায় বাংলাদেশের অর্থনৈতিক ও সামাজিক ক্ষেত্রে অগ্রগতি, বিনিয়োগের সুযোগ-সুবিধা ও সম্ভাবনা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য রাখবেন তোফায়ের আহমেদ।

/এসআই/এফএইচ/

***বাংলা ট্রিবিউনে প্রকাশিত কোনও সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ। অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করলে কর্তৃপক্ষ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।