রাত ১০:২১ ; রবিবার ;  ২০ অক্টোবর, ২০১৯  

বালু ডাঙ্গার বালিয়াডাঙ্গী

প্রকাশিত:

সামিউল্লাহ সম্রাট।।

ঠাকুরগাঁও জেলার ভারত সীমান্তঘেঁষা উপজেলা  বালিয়াডাঙ্গী । প্রাচীন ঐতিহ্য সমৃদ্ধ এই এলাকা ১৯৮৩ সালে উপজেলায় রূপান্তরিত হয় ।  জনশ্রুতি আছে এখানকার মাটিতে বালুর পরিমাণ বেশি এবং বেশ কিছু অঞ্চল তুলনামূলক উঁচু ( স্থানীয় ভাষায় ডাঙ্গা) হওয়ায়  উপজেলার নামকরণ করা হয় বালিয়াডাঙ্গী ।

এই উপজেলার ভারতীয় সীমান্তবর্তী এলাকায় গড়ে উঠছে চায়ের রাজ্য । গ্রীন ফিল্ড টি এস্টেট লিমিটেড একটি এস্টেটে প্রায় ১০০ একর এবং রনবাগ ইসলাম টি এস্টেট লিমিটেডের দুটি এস্টেটে প্রায় সাড়ে তিনশত একর জমিতে চা বাগান করা হয়েছে । সমতল ভুমির চা বাগানের সৌন্দর্য উপভোগ করতে অনেকেই ছুটে আসছেন এই শান্ত ছিমছাম উপজেলা শহরে। চা বাগান স্থাপিত হওয়ায় নাগর নদীর তীর ঘেঁষে বিস্তীর্ণ বালিয়াড়ির রূপ একেবারে বদলে গেছে।

চা বাগান ছাড়াও এখানকার হরিণমারী বাজারের দু’শ বছরের পুরনো শিব মন্দির,আড়াই বিঘা জমি জুড়ে দেড়শ বছরের প্রাচীন আমগাছ , ছোট নদী তিরনই,সাতশ বছর পুরনো চাড়োল মসজিদ ও সনগাঁও মসজিদ। এছাড়া শতাধিক বছরের বড় বড় দীঘি পুরো উপজেলা জুড়েই ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে ।  

পাড়িয়া গ্রামে রয়েছে তেভাগা আন্দোলনের নেতা কম্পরাম সিং আর বঙ্গবন্ধুর সহপাঠী,ভাষা সৈনিক, ছাত্রলীগের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি দবিরুল ইসলামের বসতভিটা । ফেরার সময়  লাহিড়ী হাটের পাটি আর মোমিনের হোটেলের  প্রসিদ্ধ মিষ্টি এক হাড়ি না নিলেই নয়।

নিবিড় ,কোলাহল মুক্ত বিশুদ্ধ নিঃশ্বাস নিতে হাতে সময় নিয়ে ঘুরে আসুন বালিয়াডাঙ্গী জনপদে। এই জনপদের সাধারণ মানুষের আতিথেয়তা মুগ্ধ করার মত । 

বালিয়াডাঙ্গী উপজেলায় থাকার জন্য লাহিড়ী হাটে সরকারি ডাক বাংলো রয়েছে । এছাড়া ২৫ কিলোমিটার দূরে জেলা  শহর ঠাকুরগাঁওয়ে স্বল্প খরচে অনেক আবাসিক হোটেল ভাল রুম পাওয়া যায়।

যোগাযোগ- ঢাকার শ্যামলী থেকে হানিফ,শ্যামলী,কেয়া পরিবহনের বাসে সরাসরি বালিয়াডাংঙ্গী  যাওয়া যায় । সেখান থেকে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা, স্থানীয় পরিবহন পাগলু রিজার্ভ করে ঘুরে বেড়ান নিশ্চিন্তে । পথঘাটের অবস্থাও খুবই ভাল।

 

/এমআর/আরএফ 

***বাংলা ট্রিবিউনে প্রকাশিত কোনও সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ। অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করলে কর্তৃপক্ষ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।