রাত ০৫:২৭ ; শনিবার ;  ১৯ অক্টোবর, ২০১৯  

‘ওয়াগ্যোয়াই পোয়ের’ আনন্দে বর্ণিল রাতের আকাশ

প্রকাশিত:

সম্পাদিত:

বান্দরবান প্রতিনিধি।।

বান্দরবানের মারমা সম্প্রদায় আতশবাজি, ফানুস উত্তোলন আর মহারথ টানার মধ্যে দিয়ে ধর্মীয় উৎসব ‘ওয়াগ্যোয়াই পোয়ে’ (প্রবারণা পূর্ণিমা) উদযাপনে মেতে উঠেছে।

বুধবার (২৮ অক্টোবর) রাতে শহরের পুরাতন রাজবাড়ী মাঠে রথ টেনে ও ফানুস উত্তোলন করে উৎসবের উদ্বোধন করেন পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী বীর বাহাদুর এমপি। এসময় আরও উপস্থিত ছিলেন, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল নকিব আহম্মেদ চৌধুরী, আঞ্চলিক পরিষদ সদস্য কে এস মং, জেলা পুলিশ সুপার মিজানুর রহমানসহ অনেকে।

এসময় প্রতিমন্ত্রী বীর বাহাদুর এমপি বলেন, ইসলাম ধর্মের পাশাপাশি হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান ধর্মকে সংবিধান সমানভাবে মর্যাদা দিয়েছে। যাতে প্রতিটি ধর্মের মানুষ স্বকীয়তা বজায় রেখে সম্প্রীতির মধ্য দিয়ে আচার অনুষ্ঠান পালন করতে পারে।

আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের পর বৌদ্ধ মন্দিরে মন্দিরে (ক্যায়াং) জ্বালানো হয়েছে হাজারও বাতি, আকাশে আলো ছড়িয়েছে আতশবাজি। মন্দিরে অর্থ দান ও বিশেষ প্রার্থনার আয়োজন করা হয়।

ফানুস উত্তোলনের মধ্যে দিয়ে ‘ওয়াগ্যোয়াই পোয়ে’ উৎসবের উদ্বোধন করেন প্রতিমন্ত্রী বীর বাহাদুর এমপি। ছবি : এস বাসু দাশ, বান্দরবান প্রতিনিধি

প্রতিমন্ত্রী বীর বাহাদুরের ব্যক্তিগত আয়োজনে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় বান্দরবানের রাজার মাঠে বিভিন্ন আকার এবং রঙের শত শত ফানুস ওড়ানো হবে। সেইসঙ্গে জ্বলবে আতশবাজি।

রথ যাত্রা ও ফানুস উত্তোলনের শুভ উদ্বোধন হলেও বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) ‘ছংরাসিহ্ ওয়াগ্যোয়াই লাহ্ রাথা পোয়ে লাগাইমে’ (সবাই মিলে মিশে রথযাত্রায় যায়) এই বিশেষ গানে আদিবাসী মারমারা রথযাত্রা শুরু করবে। এ সময় পাংখো (এক ধরনের পুতুল) নৃত্য পরিবেশন করে আর রথ নিয়ে পথে নেমে আসবে শত শত আদিবাসী। রথে জ্বালানো হবে হাজারও মোমবাতি এবং দান করা হবে নগদ অর্থ। মধ্যরাতে শঙ্খ (সাঙ্গু) নদীতে রথ উৎসর্গ করা হবে।

বুধবার থেকে নুতন পোশাকে শহরের খ্যংওয়া ক্যায়াং, রাম জাদি, সার্বজনীন বৌদ্ধ বিহার, আম্রকানন বিহার, খ্যংফিয়া ক্যায়াং, রাম জাদি, করুণাপুর বৌদ্ধ বিহার, বুদ্ধ ধাতু জাদিসহ অন্যান্য ধর্মীয় ক্যায়াংগুলোতে প্রার্থনা এবং ছোয়াইং দানের জন্য পূণ্যার্থীদের ভিড় লেগে ছিল।

মারমা তরুণ-তরুণীরা রাতে আদিবাসী অধ্যুষিত পাড়ায় পাড়ায় একে অপরের বাড়িতে গিয়ে তৈরি করে হরেক পিঠা-পুলি।

ওয়াগ্যোয়াই পোয়ে (প্রবারণা পূর্ণিমা) উৎযাপন কমিটির সভাপতি  মং চিং নু মারমা বলেন, ‘প্রতি বছরের মতো এবারও নির্বিঘ্নে ওয়াগ্যোয়াই পালিত হচ্ছে।’

বৌদ্ধ ধর্মের অনুসারীরা তিন মাসব্যাপী বর্ষাবাস শেষ করে এবং শীল পালনকারীরা প্রবারণা পূর্ণিমার দিনে বৌদ্ধ বিহার থেকে নিজ সংসারে ফিরে যান। তাই আদিবাসীদের কাছে দিনটি বেশ তৎপর্যপূর্ণ। উৎসবটিকে সামনে রেখে বান্দরবানে পর্যটক আগমন বেড়েছে।

বান্দরবান সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম জানান, উৎসবের নিরাপত্তা জোরদারে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

/এইচকে/টিএন/

***বাংলা ট্রিবিউনে প্রকাশিত কোনও সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ। অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করলে কর্তৃপক্ষ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।