সকাল ০৯:৪১ ; শুক্রবার ;  ১৯ জুলাই, ২০১৯  

চার দেয়ালের বাইরে শিশুর বিকাশ

প্রকাশিত:

সামিয়া কালাম।।

শহুরে সকাল তো রোজই দেখা হয়, সপ্তাহ জুড়ে ছুট আর ছুট। ছুটির একটি সকালে তাই পরিবারের সবাইকে নিয়ে ঘুরতে বের হলাম ঢাকার আশেপাশে। যেখানে এখনও কিছু গ্রাম আছে,যেখানে  সকাল বেলা উঠোন ঝাড়ু দেওয়া হয়, গবাদি পশু মাঠে চড়াতে নিয়ে যায় গৃহস্থবাড়ির কেউ। কিচিরমিচির করে মুরগীর ছানারা খুদ খুঁজে খায়।

ঢাকার বেড়ি বাঁধ পার হবার পর থেকেই দৃশ্য গুলো ধীরে ধীরে পাল্টে যেতে লাগলো। ধীর গতির তুরাগের পাশে কিছু মাঝিহীন নৌকো বাঁধা আছে। তার পর সবুজ আর সবুজ। স্থানীয় বাজারে হাত রুটি আর সবজি ভাজি নাস্তা শেষে পায়ে হেঁটে দেখতে গেলাম পাশের গ্রামটি। মেঠো পথ, অচেনা মানুষ দেখে অনেকে বউরা উঁকি দিয়ে দেখল। তাদের চোখে আগ্রহ এবং উৎসাহ দেখে জানালাম, শহুরে শিশুদের গ্রাম দেখাতে নিয়ে এসেছি।

একদম অচেনা কিছু মানুষকে কি অসীম  আন্তরিকতায় আপন করে নিলেন তারা, কেউ হয়তো রান্নার তোর জোর করছিলেন, কেউ বাসন মাঝছিলান, আবার কেউ ক্ষেতে যাবার আগে গুছিয়ে দিচ্ছিলেন স্বামীর আনুষাঙ্গিক। সবাই এসে কথা বললেন আমাদের সাথে। আমার ছেলেরা ঘুরে দেখল তাদের বাঁশ বন, মুরগীর খোপ, বাড়ির পালা আদুরে বেড়াল অথবা পিঁপড়া-কলোনি।  

হঠাৎ মনে হলো সেই ঘটনাটি। শিশু শ্রেণির ছাত্রের কাছে শিক্ষিকা জানতে ছেয়েছিলেন-বলতো ডিম কোথায় পাওয়া যায়? উত্তর এসেছিল, ডিম ফ্রিজে পাওয়া যায়, মা সুপার শপ থেকে কিনে নিয়ে আসে!

ঘটনাটিতে হাসির রস থাকলেও এর মাঝে লুকিয়ে আছে আরেক চেনা সত্য। যে কারণেই হোক না কেন, শহরের চারদেয়ালের মাঝে বড় হওয়া শিশুরা এভাবেই অনেক কিছু না জেনে বড় হচ্ছে। প্রযুক্তি আর আধুনিকতার দৌঁড়ে তারা পিছনে ফেলে যাচ্ছে মাটির এবং শেঁকড়ের স্বাদ। এখানেই ভূমিকা শুরু মা এবং বাবার। শিশুকে প্রকৃতি চেনানো, সহজাত সৌন্দর্য সম্বন্ধে বলার দ্বায়িত্ব মা-বাবারই। না হয় যাওয়া গেল না প্রকৃতির মাঝে। সেক্ষেত্রে বেছে নেওয়া যায় সেই প্রযুক্তিকেই। কেননা, অনেক অনেক ওয়েব সাইট আছে যারা ওয়াইল্ড লাইফ, ন্যাচারাল লাইফ এসবের ওপর বিভিন্ন  ডকুমেন্ট এবং ভিডিও আপলোড করে থাকে।

ফিরে আসা যাক, নিজের গল্পে। গ্রামে বেড়ানোর সময় এক বাড়িতে বসেছিলাম বেশ কিছুক্ষণ। তাদের রান্না ঘরের পাশে ছিল পুঁই-মাচা, উঠনের এক কোনে ছিল কুমড়োর ক্ষেত। সেখানে হলদে ফুল ফুটে আছে, কালো ভ্রমর ঘুরে বেড়াচ্ছে এ ফুল থেকে সে ফুলে। এভাবেই হয় পরাগায়ন, ফুল থেকে ফল, আমার ছেলেরা অবাক হয়ে দেখল সে সব। বই এর পড়ার সাথে মিলিয়ে নিল সত্যি কারের পরাগায়ন। ফেরার পথে এক নাম না জানা মিষ্টি বেগুনী রঙা অনেকগুলো ফুল পরে থাকতে দেখে জানতে চাইলাম কি ফুল এটা? ওরা বললো, কাঠ সিমের ফুল!

যাক, প্রকৃতির কাছে এসে শিশুরা এত সহজে মন থেকে সব শিখে নেয়- তা প্রমাণিত হলো আরেকবার।

এভাবেই চলতে থাকুক শিশুর মানসিক বিকাশ, প্রকৃতির মাঝে – প্রাকৃতিকভাবে।  

 

ছবি: প্রকৃতির মাঝে শিশু পুত্র জারিফের সঙ্গে মা ডা. ফাইজার ছবি তুলেছেন বাবা ডা. মাহফুজুর রহমান। 

 

আরএফ

***বাংলা ট্রিবিউনে প্রকাশিত কোনও সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ। অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করলে কর্তৃপক্ষ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।