বিকাল ০৫:৪১ ; শনিবার ;  ২১ জুলাই, ২০১৮  

আমন ক্ষেতে কারেন্ট পোকা, দিশেহারা কৃষক

প্রকাশিত:

বরিশাল প্রতিনিধি ॥

খোলপচা ও পাতা ঝলসানো রোগের আক্রমণ কিছুটা কমলেও হঠাৎ করেই কারেন্ট পোকার আক্রমণে বরিশাল জেলার কৃষকরা দিশেহারা হয়ে পড়েছেন। এ পোকার আক্রমণ দ্রুত দমন করা না গেলে ফলন অন্যান্য বছরের চেয়ে কমে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন কৃষকরা।

বরিশাল কৃষি অঞ্চলের ১১টি জেলায় রোপা আমনের ক্ষেতজুড়ে নানা রোগের আক্রমণ দেখা দিয়েছে। গত কয়েকদিন ধরে ক্ষেতে কারেন্ট পোকার আক্রমণ দেখা দেওয়ায় কৃষকরা জমিতে কীটনাশক প্রয়োগ করছেন।

বরিশাল কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছর কৃষি অঞ্চলের ১১টি জেলায় আমন চাষাবাদের জন্য ৭ লাখ ৮২ হাজার ৭৫৯ হেক্টর জমির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল। ফলনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারিত হয়েছিল ১৬ লাখ ২০ হাজার ৩৩ মেট্রিক টন।

নানা প্রতিকূলতা ও বৈরি আবহাওয়ার মধ্যেও কৃষকেরা এ লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ২৮ হাজার ৮১৪ হেক্টর বেশি জমিতে আমন আবাদ করেছেন।

ভুক্তভোগী একাধিক কৃষকের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, আমন বীজ রোপনের শুরুতে একাধিকবার বৈরি আবহাওয়ার কারণে এমনিতেই চাষীরা লোকসানের মুখে পড়েছেন। বর্তমানে অধিকাংশ রোপা আমন ক্ষেতে শীষ বের হচ্ছে।

এক সপ্তাহ আগে ক্ষেতে খোলপচা ও পাতা ঝলসানো রোগের আক্রমণ দেখা দিয়েছে। এ রোগ থেকে দ্রুত রেহাই পেতে তারা ইতোমধ্যে ক্ষেতে কীটনাশক প্রয়োগ করেও তেমন কোনও সুফল পাচ্ছেন না।

জেলার গৌরনদী উপজেলার গেরাকুল গ্রামের কৃষক শাহানুর বেপারী জানান, তিনি ৪০ শতক জমিতে রোপা আমনের আবাদ করেছেন। ধানের ফলন ভালো হলেও গত কয়েকদিনে থোড় ধানে খোলপচা ও পাতা ঝলসানোসহ কারেন্ট পোকা আক্রমণ করছে। ধানের গোছার মাঝখান থেকে শীষ কেটে দেওয়ায় ওই শীষ শুকিয়ে মরে যাচ্ছে। কীটনাশক প্রয়োগ করেও তেমন একটা ফল পাওয়া যাচ্ছে না।

কৃষকদের অভিযোগ, বিভিন্ন ডিলার ও খুচরা দোকানে ভেজাল কীটনাশক বিক্রি হচ্ছে অবাধে। ফলে কীটনাশক ক্রয় করে ক্ষেতে ছিটিয়েও কোনও প্রতিকার মিলছে না।

গৌরনদী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. নজরুল ইসলাম বলেন, রোগ প্রতিরোধে প্রতিদিন বিভিন্ন গ্রামে কৃষকদের নিয়ে রোগ-বালাইনাশক ব্যবহারের কর্মশালা হচ্ছে। একইসঙ্গে উপ-সহকারি কৃষি কর্মকর্তারা মাঠপর্যায়ে চাষীদের বিভিন্ন ধরনের পরামর্শ দিয়ে আসছেন।

রোপা আমনের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে বাম্পার ফলন হয়েছে বলে দাবি করেন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর বরিশাল অঞ্চলের অতিরিক্ত পরিচালক কৃষিবিদ মো. আব্দুল আজিজ ফরাজি। তিনি জানান, মাঠ পর্যায়ে কৃষি কর্মকর্তাদের পরামর্শে কৃষকরা জমিতে রোগনাশক নানা পদ্ধতি ব্যবহার করায় ইতোমধ্যে খোলপচা ও পাতা ঝলসানো রোগ নিয়ন্ত্রণে চলে এসেছে। এছাড়া, কোনও এলাকা থেকে এখনও কারেন্ট পোকার আক্রমণের তথ্য আসেনি তার কাছে।

সব মিলিয়ে মাঠের সার্বিক অবস্থা ভালো দাবি করে ফলন কমে যাওয়ার আশঙ্কা উড়িয়ে দিয়ে এ কর্মকর্তা আরও বলেন, ‘প্রতিটি এলাকার কৃষি কর্মকর্তাসহ উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তারা সার্বক্ষণিক মাঠে কাজ করছেন। এছাড়া অফিস থেকেও রোগ অনুযায়ী ব্যবস্থাপত্র দেওয়া হচ্ছে।’

 

/এইচকে/এসটি/

***বাংলা ট্রিবিউনে প্রকাশিত কোনও সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ। অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করলে কর্তৃপক্ষ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।