সকাল ১০:৩৭ ; রবিবার ;  ১৬ জুন, ২০১৯  

‘বন্দি জীবন’ তবু আতঙ্কে ব্লগার নিলয়ের স্ত্রী আশা মনি

প্রকাশিত:

সম্পাদিত:

হারুন উর রশীদ।।

ঢাকায় ব্লগার নিলয় নীল হত্যার পর আড়াই মাস ধরে তার স্ত্রী আশা মনি কোথায়- এই প্রশ্নটি এখন অনেকের মনেই। কারণ ৭ আগস্ট নিলয় হত্যার পরদিন তাকে আর দেখা যায়নি। তিনি কোনও সংবাদমাধ্যমের সঙ্গেও কথা বলেননি। এমনকি তার কাছের মানুষরাও তার সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারছেন না। কেন?

আড়াই মাস পর আশা মনি এই প্রথম বাংলা ট্রিবিউনকে জানালেন সেই কারণ। জানালেন তার জীবন সংগ্রাম, বেদনা আর পীড়নের কথা।

ঢাকার এক অজ্ঞাত স্থানে এখন আশা মনির বাস। বাইরে খুব একটা বের হন না। হলেও নিজেকে যতটা সম্ভব আড়াল করে বের হন।

কেন এই সাবধানতা? কেনইবা এই আড়ালবাস?

প্রশ্নের উত্তরে আশা মনি বললেন, ‘আমার সব সময় মনে হয় আমাকে কেউ অনুসরণ করছে। হত্যাকারী সাক্ষী রাখতে চায় না। আমার মনে হয় আমাকেও হত্যা করতে চায় নিলয়কে হত্যাকারীরা। তাই সব সময় এক ধরনের আতঙ্ক আমাকে তাড়া করে ফেরে।’

আপনার জীবন, আপনার সময় কীভাবে কাটছে?

‘নিলয়কে হত্যার দিন রাতেই আমি গোড়ানের বাসা ছেড়ে এখানে চলে আসি। তারপর থেকে এখানেই বলতে পারেন একরকম বন্দি জীবন যাপন করছি। এরা খেতে দেয়। থাকতে দিয়েছে। কিন্তু আমার বাবা বা শ্বশুরের পরিবারের দিক থেকে বলতে গেলে তেমন কোনও সহযোগিতা বা সাহস পাচ্ছি না। আমি যেকোনও একটা কাজের চেষ্টা করছি। কিন্তু কাজ পেলেও করব কীভাবে! আমিতো বাইরে যেতেই ভয় পাই।

 

তাহলে কী দেশের বাইরে চলে যাবেন?

‘আমি দেশ ছাড়তে চাই না। এটা আমার মাতৃভূমি। আমরা এই দেশ ছাড়লে এই দেশে কারা থাকবে? দেশটা কি জঙ্গি মৌলবাদীদের? আমার দাবি সরকার যেন আমাকেসহ যারা ব্লগার ও মুক্তচিন্তা করেন তাদের নিরাপত্তা দিক। আমাদের মুক্তভাবে বাঁচার সুযোগ করে দিক।’

আশা মনি বলেন, যতই ভয় আর আতঙ্ক থাক আমাকে বাঁচতে হবে। আমাকে বাঁচতে হবে নিলয় হত্যার বিচারের জন্য। নিলয় আমার জীবনসঙ্গী । ওকে হারিয়ে আমি বড় একা হয়ে পড়েছি। ওর রক্তাক্ত শরীর আমার চোখের সামনে এখনও ভাসে। তাই আমার যুদ্ধ থামবে না। জীবনের জন্য যুদ্ধ। নিলয় হত্যার বিচারের জন্য যুদ্ধ।’

আশা মনি এখনও কপালে সেই লাল টিপ পরেন, যা নিলয় খুব পছন্দ করত। এখনও তার কথা বলার ভঙ্গি ঋজু এবং স্পষ্ট। শুধু চোখেমুখে কীসের যেন আতঙ্ক।

আমরা বললাম, ‘ভাল থাকবেন আশা মনি। আপনার জীবন সংগ্রামে আমরা বাধা হব না। আমরা বরং সহযোগীই হব।’

ছবি : সাজ্জাদ হোসেন।

 

বি.দ্র: আশা মনির অনুরোধে ভিডিওটি সরিয়ে দেওয়া হলো।

 

/এফএ/

 

***বাংলা ট্রিবিউনে প্রকাশিত কোনও সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ। অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করলে কর্তৃপক্ষ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।