সকাল ১০:১৯ ; শুক্রবার ;  ১৯ জুলাই, ২০১৯  

আ. লীগের সম্মেলন ডিসেম্বরে: পদ হারানোর ভয়ে কেন্দ্রীয় নেতারা

প্রকাশিত:

সম্পাদিত:

এমরান হোসাইন শেখ ও পাভেল হায়দার চৌধুরী।।

ডিসেম্বরে আওয়ামী লীগের ত্রিবার্ষিক সম্মেলন। আর সেই সম্মেলনকে ঘিরে কেন্দ্রীয় নেতাদের মধ্যে পদ-পদবী হারানোর ভীতি কাজ করছে। চলছে পদোন্নতির জোর তদবিরও। ছাত্রলীগের সাবেক ও সহযোগী সংগঠনগুলোর নেতারাও কেন্দ্রীয় কমিটিতে স্থান পেতে শুরু করেছেন জোর তৎপরতা। আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ঘনিষ্ট একাধিক সূত্র এবং দলীয় বেশ কয়েকজন শীর্ষ নেতা এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

সম্মেলনের সুনির্দিষ্ট তারিখ নির্ধারণ হয়নি। তবে নেতারা বলছেন ডিসেম্বেরেই সম্মেলন হবে। সর্বশেষ কার্যনির্বাহী সংসদের সভায় দলের সভাপতি শেখ হাসিনাও ডিসেম্বরে সম্মেলনের ঘোষণা দেন। সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ও কৃষিমন্ত্রী বেগম মতিয়া চৌধুরী বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, সম্মেলন ডিসেম্বরেই হবে। যথা সময়ে সম্মেলনের ব্যাপারে আওয়ামী লীগ সবসময়ই ‘সিরিয়াস’।

জানা গেছে, এবারের সম্মেলনে সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য, সাংগঠনিক সম্পাদকসহ সম্পাদকমণ্ডলীর প্রায় এক ডজন নেতা পদ হারানোর আতঙ্কে ভুগছেন। পদোন্নতি পাবেন এ আত্মবিশ্বাসও রয়েছে বেশ কয়েকজন নেতার। আবার পদন্নোতি না পেলেও বর্তমান পদ যেন বহাল থাকে তা নিয়েও চলছে তদবির। এরই অংশ হিসেবে দলীয় কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ, কার্যালয়ে আনাগোনা ও প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন গণভবনে যাতায়াত বেড়েছে কেন্দ্র্রীয় নেতাদের। প্রধানমন্ত্রীর ঘনিষ্টদের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষার কাজেও ব্যস্ত তারা। প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতিতে যে অনুষ্ঠানগুলো হয় সেগুলোতে কেন্দ্রীয় নেতাদের উপস্থিতি এখন আগের চেয়ে বেশি।

এ প্রসঙ্গে সভাপতিমণ্ডলীর অন্যতম সদস্য কাজী জাফরউল্যাহ বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘দেশের প্রাচীনতম ও বৃহত্তম এ সংগঠনটিতে নেতা হওয়ার লড়াই যেমন থাকে সম্মেলন ঘনিয়ে এলে পদ হারানোর আতঙ্কও থাকে।’ তিনি বলেন, আওয়ামী লীগে নেতা নির্বাচিত হয় সম্মেলনের মধ্য দিয়ে। এখানে সাংগঠনিক পারফরমেন্সই বিবেচনা নেওয়া হয়।

দলের একাধিক কেন্দ্রীয় নেতা বলেন, সাধারণ সম্পাদক হিসেবে সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম এখন পর্যন্ত এগিয়ে থাকলেও এ পদে আসতে চান এমন কয়েকজন নেতা জোর তদবিরে ব্যস্ত রয়েছেন।

সূত্রমতে, এবারও সাধারণ সম্পাদক হতে চান দলের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ওবায়দুল কাদের। এ দৌড়ে রয়েছেন সভাপতিমণ্ডলীর অপর সদস্য মোহাম্মদ নাসিমও। সাধারণ সম্পাদক হওয়ার আশায় দলীয় কাজে শতভাগ সক্রিয় হয়ে উঠেছেন এ দুই নেতা। নির্ভরযোগ্য সূত্র জানায়, নাসিম ইতিমধ্যে তার ইচ্ছার কথা ১৪ দলীয় জোটের দুই নেতাকে জানিয়েছেন। তবে জানতে চাইলে নাসিম বলেন, কোনও ইচ্ছা নিয়ে নয়, দলের জন্যে কাজ করছি নিঃস্বার্থভাবে। আওয়ামী লীগের শীর্ষ দুই নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ওবায়দুল কাদেরও দলের সাধারণ সম্পাদক হতে মরিয়া। ওই দুই নেতা বলেন, কাদের মনে করেন এই মুহূর্তে দলের সাধারণ সম্পাদক পদে তিনিই যোগ্য। এই দুই নেতা ছাড়াও দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহাবুবউল আলম হানিফ, ডা. দীপু মনি, জাহাঙ্গীর কবির নানক, খাদ্য ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সম্পাদক ড. আব্দুর রাজ্জাক দলের দ্বিতীয় গুরুত্বপূর্ণ পদটিতে আসীন হওয়ার দৌড়ে রয়েছেন।

সূত্রমতে, সভাপতিমণ্ডলীর সদস্যদের মধ্যে সাহারা খাতুন ও সতীশ চন্দ্র রায় এবং সাত সাংগঠনিক সম্পাদকের ভেতর অন্তত ৪ জন পদ হারানোর আতঙ্কে রয়েছেন। এরা হলেন- বিএম মোজাম্মেল হক, আহমেদ হোসেন, মিছবাহউদ্দিন সিরাজ ও বীর বাহাদুর। সাংগঠনিক কাজে ব্যর্থতার অভিযোগ রয়েছে এদের বিরুদ্ধে। বাকি তিন সাংগঠনিক সম্পাদক জেলা সম্মেলন শেষ করাসহ সাংগঠনিক কাজে মোটামুটি সফল বলে দলে পরিচিতি পেয়েছেন। তাদের মধ্যে অন্তত স্বপদে টিকে থাকার স্বপ্ন রয়েছে। সাংগঠনিক সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাসিম পদোন্নতি পাবেন এমনটিও মনে করেন। অবশ্য গঠনতন্ত্র সংশোধন করে সাংগঠনিক সম্পাদকের পদ আরও ৩টি বাড়িয়ে ১০টি করা হলে বাদ পড়ার তালিকায় থাকা দু’একজন টিকে যেতে পারেন বলে শোনা যাচ্ছে।

পদ হারানোর আতঙ্কে আরও যারা রয়েছেন- দফতর সম্পাদক আব্দুল মান্নান খান ও ড. আব্দুস সোবহান গোলাপ, দলের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য আব্দুর রহমান, মোস্তফা ফারুক মোহাম্মদ, অ্যাডভোকেট মমতাজ উদ্দীন মেহেদী, অধ্যক্ষ মতিউর রহমান।

যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ৩ জনের মধ্যে পদ হারানোর আতঙ্ক না থাকলেও পদোন্নতির স্বপ্ন রয়েছে। মাহাবুবউল আলম হানিফ সম্পর্কে কেন্দ্রীয় কয়েকজন নেতা বলেন, সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলামের অনুপস্থিতিতে বেশ ভাল ভূমিকা পালন করেছেন হানিফ। মিডিয়ার মুখোমুখি হওয়া, নেতাকর্মীদের সময় দেওয়া এসব বিষয়ে হানিফ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন।   

এদিকে উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য হিসেবে এমন বেশ কয়েকজন রয়েছেন যারা কেন্দ্রীয় কমিটির গুরুত্বপূর্ণ পদ চান। এদের মধ্যে আমির হেসেন আমু, তোফায়েল আহমেদ, সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত, রাজিউদ্দিন আহমেদ রাজু, অ্যাডভোকেট ইউসুফ হোসেন হুমায়ুন, ড. মহিউদ্দিন খান আলমগীর অন্যতম। এরা সবাই সভাপতিমণ্ডলীর সাবেক সদস্য।

যারা দলে ফিরতে চান তাদের মধ্যে অন্যতম- সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মুকুল বোস, সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুল মান্নান, সুলতান মুহাম্মদ মনসুর আহমেদ, সাবের হোসেন চৌধুরী, স্বাস্থ্য সম্পাদক ডা. মোস্তফা জালাল মহিউদ্দিন, সদস্য আ খ ম জাহাঙ্গীর হোসাইন, হাবিবুর রহমান খান প্রমুখ।

এ প্রসঙ্গে সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ও কৃষিমন্ত্রী বেগম মতিয়া চৌধুরী বলেন, দলের প্রয়োজনে কেন্দ্রীয় কমিটিতে রদবদল আসতেই পারে। কেউ আসবেন, কেউ বিদায় নেবেন এটাই নিয়ম।

সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য নূহ-উল আলম লেনিন বলেন, সম্মেলনের টেকনিক্যাল প্রস্তুতি নিতে সময় লাগবে না। সম্মেলন এলে নেতাদের দৌঁড়ঝাপ থাকবে, এটা অস্বাভাবিক ঘটনা নয়।

/এফএ/

***বাংলা ট্রিবিউনে প্রকাশিত কোনও সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ। অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করলে কর্তৃপক্ষ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।