রাত ০১:৩৫ ; রবিবার ;  ২৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২০  

মেঘের ওপর মাছের বাসা !

প্রকাশিত:

ফাতেমা আবেদীন ।।

ক্লাউড অর্থ মেঘ আর বিস্ট্রো অর্থ খাবারের দোকান। অর্থাৎ মেঘের ওপর খাবারের দোকান। কিন্তু মেঘের ওপর কি খাবার থাকতে পারে? অবশ্যই পাখি আর বরফ। কিন্তু এখানে পাওয়া যাবে শুধুই মাছ। অর্থাৎ মেঘের ওপর এবার আপনি খাবেন মাছের বিভিন্ন আইটেম।  ঢাকার পান্থপথ সিগনালে পাশেই রওশান টাওয়ারের দোতালায় ক্লাউড বিস্ট্রো আপনার চোখে পড়বেই। ক্লাউড বিস্ট্রো চোখে না পড়লেও ‘ফেসবুকে চেক ইন  করলেই ১০ % ছাড় লেখা বিশাল বিজ্ঞাপনটি আপনার চোখে পড়বেই। অর্থাৎ এই রেস্তোরাঁ ফেসবুক ইউজারদের বেশ সুবিধা দেন। আপনি যাতে চেকইন দিতে পারেন সেজন্য রয়েছে ফ্রি ওয়াইফাই।

ফিশারম্যান বাস্কেট আপনার জন্যই

এবার চলে আসি খাবারের কথায়, কি পাওয়া যায় এখানে? উলটো প্রশ্ন করা যেতে পারে যে কি পাওয়া যায় না। মাছই মূল তবে অনেকের পছন্দকে প্রাধান্য দিতে চিকেনও  বীফও পাওয়া যায়। তবে কর্তৃপক্ষের ইচ্ছা আছে পুরোপুরি সি ফুডে চলে যাওয়া। একদম সামুদ্রিক খাবার পাওয়া যাবে। স্কুইড, ক্র্যাব, শেল, ঝিনুক, শ্যাওলা, নরি, সুশি, অক্টোপাস, ইল, কোরাল এগুলোর নানা আইটেম থাকবে বলে জানান ব্যবস্থাপকদের একজন।

গুলশান, বনানি আর ধানমন্ডির ছাড়া ঢাকায় তেমন আইটেমাইজড কোনও সামুদ্রিক খাবারের দোকান নেই বলেই এই এলাকায় এসে ঘাঁটি গেড়েছে ক্লাউড বিস্ট্রো টিম।

এক বছরে ক্লাউড বিস্ট্রো...

 দেখতে দেখতে এক বছর পার করল ক্লাউড বিস্ট্রো। ক্রেতাদের চাহিদাকে প্রাধান্য দিয়ে এনেছে লাঞ্চ ও ডিনারে পৃথক পৃথক সেট ম্যানু। অফিস ঘেরা এই এলাকার লোকজন সেট মেনু খেতেই বেশি পছন্দ করে। তবে সি ফুডের ভক্ত একদম কম নয়। প্রতিদিন শতাধিক মানুষ আসছেন এবং  খেয়ে তৃপ্ত এমনটাই দাবি ব্যবস্থাপকদের। আমরা নিজেরা যারা নিয়মিত ক্লাউড বিস্ট্রোতে উদরপূর্তি করি তারাও বেশ খুশি এখানে খেয়ে।

বিশেষ করে সি ফুড প্ল্যাটার, ফিশারম্যান বাস্কেট ও ক্লিয়ার থাই স্যুপটা সবচেয়ে বেশি চাহিদা রয়েছে খাদকদের কাছে। ক্লিয়ার থাই স্যুপের সঙ্গে চলে মুচমুচে স্কুইড ভাজা। স্কুইড ভাজার সঙ্গে রসুনের সসের কথা না বললেই নয়। দুই বাটি সস চাননি এমন ক্রেতা না বললেই নয়।

টাটকা সব সবজি দিয়েই হয় নানা জাতের সালাদ আর ভেজিটেবল আইটেম

কিছুদিন আগেই এখানে পাওয়া গেছিল বিশাল এক টুনা। সেই টুনা দিয়ে ক্লাউড বিস্ট্রোর হেডশেফ বানিয়ে ফেললেন স্টেক। কতদিন নাকি অপেক্ষায় ছিলেন এই স্টেকের। ঢাকার মধ্যে এমন মজাদার টুনা স্টেক খুব কম পাওয়া গেছে বলেই জানিয়েছেন ভোজন-রসিকরা।

খাবার কে কোনটা খাবে সেটা ক্রেতারা আগে থেকেও ঠিক করে রাখলেও এখানে এসে সব উলটাপালটা হয়ে যায়। যেমন সি ফুড খেতে এসে অনেকে বার্গার দিয়ে উদরপূর্তি করে চলে যান। বার্গারের মধ্যে গ্রিলটা সবচেয়ে জনপ্রিয়।  আর থাইয়ের মধ্যে সবাই পছন্দ করে এশিয়ান চিলি ক্র্যাব আর সি ফুড কারি।  

সামুদ্রিক খাবারের ভক্তদের কানে কানে ক্লাউড বিস্ট্রো একটা কথাই বলতে চায় যে- সি ফুড পিজ্জা কেমন পছন্দ? তাহলে এখানে চলে আসুন, স্কুইড, টুনা কিংবা লবস্টারের পিজ্জা খেতে খারাপ লাগবে না আশা করছি।

খাবার আসে দূর থেকে...

ক্লাউড বিস্ট্রোতে বসে বসে এক প্লেট গার্ডেন সালাদ সাবাড় করার ফাঁকেই চোখে পড়ল বিশাল পার্সেলটি। সামনে খুলে ফেললেন হেড শেফ। থাইল্যান্ড থেকে মরিচ, থাই পাতা, লেবু পাতা, লেমন গ্রাস ও কিছু মশলা এসেছে। দেশ উপাদান দিয়ে থাই খাবার বানানো হবে এমনটি হতেই পারে না।  খাবারের মান নিয়ে কোনও কম্প্রোমাইজ করেন না ক্লাউড বিস্ট্রো কর্তৃপক্ষ। যা মুখে বলবেন তাই হবে।

থাই কারির উপাদান সব থাইল্যান্ড থেকে আসলেও মাছ কিন্তু বাংলাদেশের। চিংড়ি, কাকড়া আসে সাতক্ষীরা থেকে। মাছের বেশিরভাগই আসে কক্সবাজার থেকে।

মাছ খেতে সমস্যা, তাহলে খান চিকেন বা বিফ

 কম দামে বেশি বেশি...

এবার আসুন এই ভালো ভালো খাবারের দাম জেনে নেওয়া যাক। সবচেয়ে দামি খাবারের প্ল্যাটারটির দাম ১৯৯০ টাকা। তিনজন মন ভরে উদরপুর্তি করতে পারবেন এই প্ল্যাটারটি। এই প্ল্যাটারে থাকবে ক্রিসপি ক্র্যাব, স্কুইড ভাজা, ফ্রেঞ্চ ফ্রাই, ফিশ স্টেক, গ্রিল চিংড়ি বা লবস্টার, ও ক্রেতাদের চাহিদার ওপর নির্ভর করে রাইস বা অন্য কিছু। ও গার্ডেন সালাদ তো থাকছেই। একটু ভেজিটেবলও পাওয়া যাবে। তাহলে সবচেয়ে দামি প্ল্যাটার দিয়েই ক্লাউড বিস্ট্রোতে আপনার খাওয়া শুরু হতে পারে। তবে আপনি যদি একটু কম টাকায় সি ফুড খেতে চান তবে ৩২০ টাকায় স্কুইড ফ্রাই, ৩৮০ টাকায় টেম্পুরা প্রন, ফিশ অ্যান্ড চিপস খেতে পারেন। ফিশারম্যান বাস্কেট পাবেন ৮৫০টাকার মধ্যে। আর বাকি সব ফিস কারি, স্যুপ, বার্গার, রাইসের দাম ৩০০ থেকে ৪০০ এর মধ্যে। কফির দাম মাত্র ১০০ থেকে ২০০। আইসক্রিম পাচ্ছেন ২০০ থেকে ৩০০ টাকায়। সুতরাং সাধ্যের একবার মজাদার সব খাবারের স্বাদ নিতে ঢু মারুন ক্লাউড বিস্ট্রোতে।

 ও হ্যা, ক্রেতার চাহিদাকে মাথায় রেখে সি ফুডের পাশাপাশি কিছু লিমিটেড থাই ফুডও কিন্তু আছে। সেগুলোর দাম কিন্তু একদম নাগালের মধ্যে। চিকেন, বিফ এবং  নানা জাতের বার্গার এই আয়োজনেরই অংশ। মনে রাখবেন, ফিশ বার্গারের দেখাও কিন্তু এখানে পাবেন। তাই চিকেন বিফে আপত্তি থাকলে মাছের বার্গার চেখে দেখতে পারেন।

শুধু খাবার নয়...

শুধু খাবার নয় ক্লাউড বিস্ট্রো অনেক কিছুই করে দেশের ইতিহাস ও ঐতিহ্যকে সম্মান জানাতে। গেল ২১ ফেব্রুয়ারি এখানে হয়ে গেল ভাষা দিবস উপলক্ষে ছবি আঁকার প্রতিযোগিতা। পহেলা বৈশাখের দিন সারাদিন ছিল স্পেশাল ইলিশ প্ল্যাটার সঙ্গে নানা রকম দেশ ভর্তা। উৎসবকে ঘিরেই নানা আয়োজন চলে এখানে।

পার্টি চাই পার্টি...

একা একা ঘুরে ফিরে শুধু খেয়ে আসবেন এমনটি হবার জো নেই। চাইলে বিশাল পার্টিও দিতে পারেন। এখানে একসঙ্গে ১০০ জনের জন্য আয়োজন করা যায়। আর ডেকোরেশন বদলে ১৬০ জন পর্যন্ত পার্টি করতে পারবেন।  বিয়ে গায়ে হলুদ থেকে শুরু করে। অফিশিয়াল কনফারেন্স, ট্রেইনিং সেশন সব কিছুরই আয়োজন করে থাকে ক্লাউড বিস্ট্রো কর্তৃপক্ষ। তবে বুকিংয়ের জন্য কমপক্ষে ৭ থেকে ১৫ দিন আগে জানাতে হবে। হুট করে জানালেও হবে। তবে আয়োজনটা হয়তো তেমন ভালো হবে না। তাই কর্তৃপক্ষ চান একটু আগে এসেই আপনি পার্টির কথা জানান।  

স্পেশাল ক্যাশু নাট সালাদ

শুভ জন্মদিন ক্লাউড বিস্ট্রো...

আজ ১৭ অক্টোবর ক্লাউড বিস্ট্রোর জন্মদিন। শুভ জন্মদিন। জন্মদিন উপলক্ষ্যে ক্রেতাদের জন্য বিশেষ কোনও ছাড় দিচ্ছে কিনা সে বিষয়ে কোনও তথ্য জানা যায়নি। তবে ঢু মারতেই পারেন। থাকতেও পারে আপনার জন্য বিশাল সারপ্রাইজ। এক বছরে ভোজন-রসিকদের কাছে জনপ্রিয় হওয়া এই দোকানটিতে যাওয়ার আগে ঢু মারতে পারেন তাদের ওয়েব সাইটে কিংবা ফেসবুক পেইজে।

https://www.facebook.com/CloudBistro?fref=ts – ফেসবুক পেইজ।

http://www.cloud-bistro.com/- ওয়েবসাইট- এখানে বিস্তারিত তথ্য রয়েছে। নিয়মিত খাবারের তালিকা থেকে শুরু করে নতুন আসা আইটেম ও নতুন নতুন সব ঘটনার আপডেট এখানেই দেখা মিলবে। ফুড রিভিউয়াররা কিন্তু ক্লাউড বিস্ট্রোর ওয়েব সার্ভিস নিয়ে ভীষণ সন্তুষ্ট।

প্রণ প্ল্যাটার

ছবি: সাজ্জাদ হোসেন।

/এফএএন/

***বাংলা ট্রিবিউনে প্রকাশিত কোনও সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ। অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করলে কর্তৃপক্ষ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।