দুপুর ০১:১৭ ; শনিবার ;  ২০ জানুয়ারি, ২০১৮  

তালাশ তালুকদার-এর কবিতা

প্রকাশিত:

সম্পাদিত:

ট্রেতে করে দুটি চোখ নিয়ে এলে

 

একটা ঢিল একটা গুলিতে ধূলিস্যাত হয়ে
মাটিতে কাঁতরাচ্ছে
সে আমার স্বপ্ন–
মাটিতে পড়ে হারমোনিয়াম বাজাচ্ছে

একটা প্রাচীন গাছ মাথা নত করে
আরেকটা উঠতি বয়সী গাছের কাছে
এই তত্ত্ব জানলাম
তোমার ঘাও খেতে খেতে।

ট্যারা চোখে গ্রিজ লাগায়া নিছি তাই–
যাতে চোখ ঘড়ঘড় করে
ঘাড় ঘুরাইতে পারে

শূন্য দেখার জন্য
হাঁটু ভেঙে খাটের তলাটা দেখি...
শূন্য দেখার জন্য
তোমাকে খুঁজি, –তোকে খুঁজি।

তোমাকে দেখার জন্য
সিগারেটের ধোঁয়াকে
গোল করে মুখ থেকে ছাড়ি–

গাছটা অবিরাম আগাছা খাচ্ছে;
আর গাছের ডালটা পাখির পায়ের নিচে
ঘুমোচ্ছে।

তুই আরামপ্রিয়–
তোকে পেতে
জীবনের সাথে তামশা আরম্ভ করি।

 

ব্রেনের ভেতর গড়াচ্ছে শাদা

 

মাথাই নাই যাদের
তারাও মাথা মারতেছে
নাক গলাচ্ছে–
পিঠ বেয়ে উপরে উঠতে চাইছে।

তোমরা কি ঝড়দেরকে
গাছ-গাছালির কান ছিঁড়ে নিয়ে যাইতে দেখো নাই?
তোমরা কি দেখো নাই প্রকৃতির নিদর্শনগুলা–
তোমাদেরকে উপরে তোলার জন্যই তো
পিঠ খোলা রেখেছে গাছগুলা!

এরপরেও জিভ ব্যাটা
গহ্বরে; জামো মারে বসে আছো
একটা ভাল দুঃস্বপ্ন ও স্বপ্ন
উভয়েরই জিম করা দেখছো।

আমি কি বলি নাই
মাথাই নাই যাদের
তারাও মাথা দিতে চাইবে সব কাজে
নাক না থাকলেও নাক গলাতে আসবে
আমি কি বলি নাই?

 

আমিই শব্দের সেরা ডোনার

 

সমালোচক হাইজাক হইছে
লাঠেলাঠি করে জোর কইরা তুলে দিছে কবিতারে–
তুই আবারো আসবি
তাই লিখছি বাঁচার কবিতা!

কবি হইছে অসহায়, কবিতা বুঝছে না পাঠকে
দ্বন্দ্বকে তাই আমলে নিচ্ছি–
রক্ত ভাঙতে ভাঙতে।

আমরা টাল হয়ে ভিন্ন কবিতা পড়ছি
কবিতা বুঝতে মাথাকে সঙ্গে নিছি–
তার হেল্প না পাইলে টাফ হবে
কবিতার মন পেতে।

আমরা টাফ হইছি
তোমরা হইছো হাফ–

তোমাদের সাথে ফিটন্যাসওয়ালা কবিতারা হারামি করেছে
তাই আমিও হারামি হইছি
হাইড হইছি– সাইড হইছি  
তোমাদের কাছ থিকে।

এতেই মাথায় বাজ বাজ রব–
লেখায় গোলাগুলির প্রভাব!

তোমাদের তাফালিং আর কিছুদিন
তারপর আমরা
হ্যাঁ, আমরাই মোমেনুল মোমেনীন।

 

আমি, আমার বন্ধুরা ও কয়েকটা করুল

 

আমরা বন্ধুরা
একসেট গ্লাসের মতোন শোকেসে ছিলাম সেঁজেগুঁজে।
যখন বেরোতাম
তখন মাথার চুলগুলো খাঁড়া খাঁড়া আঁকা ছিলো–
সিনাওয়ালা ছেলেদের পাড়ার মেয়েগুলো
যে যার চয়েস মতো দেখে নিতো
আমারটাও দেখে নিয়ে
মনের খায়েশ মেটাতো!

জামা-কাপড়গুলো গতদিনের মতো পুরোনো হলো–
পিঁপড়েগুলো জলগাছের কোমড় ধরে
সরসর করে নেমে এলো পথে
প্রাণ ভরে খেলো আমার কিছু প্রাণ–

যেই হাতলওয়ালা হাতটি একে একে ডাকতে শুরু করলো:
কেউ কাদা ঘেঁটে লবণ আনতে গেলো
রোদেপোড়া বেগুনটাকে আবার পুড়তে দিলো কেউ
স্যাকারিন খেয়ে খেয়ে হাল্কা হলো অনেকে

তুমি বিদ্যুতের চেয়ারে মোটা মহিলার মতো
মোটা কোমড় নিয়ে বসে পড়েছিলে
বসা কবিতার মতো করে বসার সখ ছিলো হয়তো
আরো অনেকের–

কিন্তু তাদেরগুলো ব্যান্ড হলো
আমারটা অক্ষরের উপর বসে পড়লো।

আমাদের দিনগুলো তুলোর মতো ভাসছে, বেদম বাতাসে–
আমাদের পিকনিকের মাংসগুলোও যেমন
হাঁড়িতে ভাসছিলো, একত্রে, বহু জিনিসের সাথে।

 


আমার কাজ

 

হিটলারকে ভূতের সঙ্গে লড়াইয়ের কথা জানালাম
বকরম আর লেস দিয়ে কুঁচি দেয়া জামাংশ আমের আচারে
ডুবে আছে তা হেসে হেসে বিনাকে বলে দিলাম আজ।

আমি আর নূর আজ সারাদিন হাইওয়ে রোডের উপর দিয়ে
বাইক চালিয়ে মশার মতো এলাম
একটা মরা মৌমাছির শুকনো কণ্ঠনালি রাস্তার পাশে পড়ে থাকতে দেখলাম
গাছগুলো বাগানের এরিয়াতে টহল দিচ্ছে–

তোমার স্তন দুটোতে কাঠের রুল দিয়ে টোকা মারার মতো
অনেক গুরুত্বপূর্ণ কাজ সেরে নিলাম আজ।
গ্রামের বউ-ঝিদের কাঁথাতে ফুল তোলার কাজ দেখে এলাম
পেটকাটা গাছেদের রক্ত চুঁয়ে পড়া দেখলাম
রক্ততৃষ্ণায় বড় হতে থাকা পাড়ার মাস্তানদেরও দেখা গেলো
রাম দায়ে কুপিয়ে কুপিয়ে ভাগ করছে একটা বাচ্চা পেয়ারাকে

আমি অনেক কিছু দেখি, আমার অনেক কিছু দেখার আছে
এই ধরো, সেদিন পাহাড় থেকে নিচুতে নামতে নামতে
যেমন শার্টের ভেতর বাতাস ঢুকাতে পারলে না
এরকম অনেক কথা বলার আছে
ফুল, পাখি ও পশুসমাজ নিয়ে।

সিগারেটের ধোঁয়ার মতন
বায়ুর ঘূর্ণিতে ধূলোগুলো ঘুরতে ঘুরতে
উঠে গেলো উপরে
একথা বলার জন্য হাত তুলে দাঁড়াবো না কেনো?

 

 

 

***বাংলা ট্রিবিউনে প্রকাশিত কোনও সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ। অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করলে কর্তৃপক্ষ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।