রাত ০৮:৫৪ ; রবিবার ;  ২১ জুলাই, ২০১৯  

প্রথমবারের মতো বুদ্ধিস্ট সম্মেলন হচ্ছে দেশে; পর্যটন বিকাশের সম্ভাবনা

প্রকাশিত:

চৌধুরী আকবর হোসেন।।

দেশে প্রথমবারের মতো দু’দিন ব্যাপী আন্তর্জাতিক বুদ্ধিস্ট সম্মেলন হতে যাচ্ছে। বাংলাদেশের বৌদ্ধ পুরাকীর্তি, স্থাপত্য, ঐতিহাসিক নিদর্শন, সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য এবং দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের বৌদ্ধ নিদর্শনগুলো তুলে ধরা হবে এ সম্মেলনে। ১৩টি দেশের অংশগ্রহণে ২৭-২৮ অক্টোবর অনুষ্ঠিতব্য এ সম্মেলন দেশের পর্যটন খাতের জন্য সুফল বয়ে আনবে বলেই আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

বাংলাদেশসহ ১৩টি দেশের পর্যটনমন্ত্রী, পর্যটন সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ, ব্যবসায়ী, প্রত্নতাত্ত্বিক, বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের বিশিষ্ট ব্যক্তি ও আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রতিনিধিরা এতে অংশ নেবেন। সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আনুষ্ঠানিকভাবে পর্যটন বর্ষ-২০১৬ ঘোষণা করবেন বলেও জানিয়েছে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়।

পর্যটন শিল্পে সম্পৃক্তরা বলছেন, দেশে অবরোধ-হরতালের কারণে বিগত বছরের শুরুতে পর্যটন খাতে মন্দা ছিল। এ সম্মেলনের ফলে ওই মন্দা বেশ খানিকটা কাটবে বলে আশা তাদের।

অক্টোবর থেকে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত দেশে পর্যটকের আনাগোনা বেশি থাকে। এর মধ্যে আবার ২০১৬ সাল পর্যটন বর্ষ পালন করা হবে রাষ্ট্রীয়ভাবে। এজন্য সরকারের পাশাপাশি প্রস্তুতি নিচ্ছে ব্যবসায়ীরাও। ১০ লাখ পর্যটক দেশে আনার পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের। সব মিলিয়ে এ সম্মেলনটির জন্য এ সময়টাকেই মোক্ষম জ্ঞান করছেন আয়োজকরা।  

বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বুদ্ধিস্ট সম্মেলনে জাতিসংঘের ওয়ার্ল্ড ট্যুরিজম অরগানাইজেশনের মহাসচিব তালিব রাফাইসহ ১৩টি দেশের পর্যটনমন্ত্রী এবং সরকারি-বেসরকারি উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা অংশ নেবেন। সম্মেলনে অংশ নিতে চীন, জাপান, কোরিয়া, ভিয়েতনাম, লাওস, কম্বোডিয়া, থাইল্যান্ড, মিয়ানমার, ভুটান, নেপাল, ভারত, শ্রীলংকাকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। সম্মেলনে খ্যাতনামা পর্যটন বিশেষজ্ঞরা বক্তব্য রাখবেন। এ ছাড়া পর্যটন সংশ্লিষ্ট বিনিয়োগকারী, এনজিও প্রতিনিধিরাও অংশ নেবেন।

সম্মেলন প্রসঙ্গে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী রাশেদ খান মেনন বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, বাংলাদেশের জন্য পর্যটন সম্ভাবনাময় খাত। দেশের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, পাহাড়-পর্বত, দীর্ঘতম সমুদ্র সৈকত, ইতিহাস-ঐতিহ্য, পুরাকীর্তি, ও প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শনগুলো পর্যটককে মুগ্ধ করে রাখবে। দেশের পর্যটনকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তুলে ধরতে মন্ত্রণালয়ের তত্ত্বাবধানে বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ড নানা কর্মসূচি হাতে নিয়েছে।

সম্মেলনের নিরাপত্তা প্রসঙ্গে রাশেদ খান মেনন বলেন, নিরাপত্তার ক্ষেত্রে সরকার জিরো টলারেন্স নীতিতে অবিচল থেকে কাজ করছে। পর্যটনের উন্নয়নের জন্য বাণিজ্যিক সম্পর্ক খুবই গুরুত্বপূর্ণ। তাই নিরাপত্তায় সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছি।

বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের (বিটিবি) প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আকতারুজ্জামান খান কবীর বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, বুদ্ধিস্ট সম্মেলনের মধ্য দিয়ে দেশের পর্যটন শিল্পের নীতি নির্ধারক, স্টেক হোল্ডারদের সঙ্গে অন্যান্য দেশের সরকার, বেসরকারি খাত ও সংগঠনগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক পোক্ত হবে। প্রথমে ১১টি দেশ নিয়ে এ সম্মেলনের পরিকল্পনা ছিল। পরে কিছু দেশ নিজে থেকেই সম্মেলনে যোগ দিতে আগ্রহ দেখিয়েছে। এখন আফগানিস্তান, সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়াও আগ্রহ দেখাচ্ছে।

ট্যুর অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (টোয়াব) ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট রাফিউজ্জামান বলেন, আন্তর্জাতিক বুদ্ধিস্ট সম্মেলন দেশের পর্যটন শিল্পের জন্য সুখবর। সম্মেলনে অংশগ্রহণকারী দেশগুলোর কাছে আমাদের পর্যটন শিল্প সম্পর্কে ভালো বার্তা পৌঁছাবে।

ট্যুরিস্ট পুলিশের ডিআইজি মো. সোহরাব হোসেন বলেন, সম্মেলনের নিরাপত্তা নিশ্চিতে ট্যুরিস্ট পুলিশের পাশাপাশি পুলিশের অন্যান্য ইউনিটও দায়িত্ব পালন করবে।

 

/সিএ/এফএ/

***বাংলা ট্রিবিউনে প্রকাশিত কোনও সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ। অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করলে কর্তৃপক্ষ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।