ভোর ০৬:৫৭ ; শনিবার ;  ০৭ ডিসেম্বর, ২০১৯  

শিশু আসি আসি কেনাকাটা রাশি রাশি

প্রকাশিত:

নাজিয়া লোপা।।

প্রথম সন্তান! সে এক অন্যরকম অনুভূতি। কেমন যেন পেটের মাঝে গুড়গুড়ভাব। খবরটা নিশ্চিত হওয়ার পর থেকে নতুন মা-বাবা দুজনেই আনন্দে আত্মহারা। কেউ কেউ আবার হারিয়ে যায় চিন্তায়। তো, ছোট্ট একটা মানুষকে আগলে ধরার জন্য, নিরাপদে লালনের জন্য মা-বাবারা প্রস্তুত তো? ছোটটির নাওয়া-খাওয়া, বেড়ে ওঠা- এসব ঠিকঠাক সামলানো যাবে তো? শিশুর জন্মের পরপরই যা যা করা দরকার বা যা হাতের কাছে থাকা চাই তা আছে তো?

প্রিয় পাঠক, শিশু ভূমিষ্ট হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে শুরু হয় অন্য রকম ব্যস্ততা। সেখানে ভাবনার অবসরটুকুও নেই। তাই শিশুর জন্মের পরপর যা প্রয়োজন তার ব্যবস্থা করে রাখতে হবে আগেই। অন্তত একমাস আগে থেকে। না হলে হঠাৎ জরুরি অবস্থা হলে হতে হয় দিশেহারা। তাই জেনে নিন, শিশুর জন্মের সময়টায় হাতের কাছে কী কী থাকা জরুরি।

 

ফিডার:

একটি ফিডারের সেট কিনে রাখতে পারেন। কোনও কারণে শিশু যদি বুকের দুধ টানতে না চায় তাহলে জরুরি ভিত্তিতে ফিডারের প্রয়োজন হয়।

ব্রেস্ট পাম্প:

এটাও প্রয়োজন হয় জরুরি ভিত্তিতে। মায়ের বুকের দুধ ‍শিশু টানতে না পারলে মায়েরা দুধ পাম্প করে শিশুকে ফিড করাতে পারেন।

গোসলের কিট:

শিশুকে গোসল করানোর জন্য শ্যাম্পু, বাথজেল, পাউডার- এগুলো কিনে রেখে দিতে পারেন।

মশারি:

মশার ঋতু হোক বা না হোক শিশুর জন্য অবশ্যই মশারি কিনে রাখুন। আর ভুলে যাবেন না এখন কিন্তু ডেঙ্গুর প্রকোপ বাড়ছে!

স্টেরিলাইজার:

শিশুর খাওয়ানোর সরঞ্জাম ভালো করে বিশুদ্ধ করার জন্য স্টেরিলাইজার খুবই প্রয়োজন।

ডায়াপার:

নতুন বাবুর জন্য নবজাতকের ডায়াপার কিনে রাখুন প্রচুর পরিমাণে। 

র‌্যাশ ক্রিম এবং ভ্যাসলিন:

ডায়াপার পরালে র‌্যাশ হওয়ার আশঙ্কা থাকে। তাই আগে থেকেই প্রস্তুত থাকুন।

সরিষা বালিশ/ বিড়া বালিশ:

জন্মানোর পরপরই তাকে শোয়ানো বা ঘুম পাড়ানোর জন্য সরিষা বালিশ বা কাপড় পেঁচিয়ে বিড়া বালিশ বানিয়ে রাখা প্রয়োজন।

ব্রেস্টফিডিং ব্রা:

মায়েদের জন্য যা অবশ্যই চাই তা হলো ব্রেস্ট ফিডিং ব্রা। ডাক্তাররাই এখন মায়েদের ডেলিভারির পরপর ব্রা পরে থাকার পরামর্শ দেন। সেক্ষেত্রে ব্রা যদি হয় ফিডিং ফ্রেন্ডলি তাহলে শিশু এবং মা দুজনেই স্বস্তি পায়।

নেইল কাটার:

শিশুর নখ কাটার জন্য নেইল কাটার কিনে রাখা জরুরি। তা না হলে হঠাৎ প্রয়োজনে হকচকিয়ে উঠতে পারেন।

ফ্লাস্ক:

কখন কী যে লাগে তা বোঝা বড় দায়! তাই কিনে রাখুন পানি গরম রাখার ফ্লাস্কটিও।

শিশুর কাপড়:

বছরের যখনই শিশুর জন্ম হোক না কেন, প্রচুর পরিমাণে কাপড় তার লাগবেই। শীতকাল হলে গরম কাপড় কিনে জমিয়ে রাখুন। আর সব সময়ে পরার জন্য অবশ্যই অসংখ্য সুতির পোশাক কিনে রাখুন। গেঞ্জি কাপড়ের জামাও কিনতে ভুলবেন না। মনে রাখবেন- শিশুর কাপড় দ্রুত বদলাতে হয়। তাই হাতের কাছে প্রচূর জামা রাখা ভালো।

কাঁথা এবং স্প্রেডশিট:

শিশুকে কোমল আরামে জড়িয়ে ধরতে কাঁথা তো লাগবেই। কিনে রাখুন অন্তত দুটি স্প্রেডশিট (পানি নিরোধক)। এগুলোও দ্রুত বদলানোর প্রয়োজন পড়ে।

শীতের প্রস্তুতি:

শীতকালে শিশু জন্মালে তার জন্য অবশ্যই টুপি এবং মোজা কিনে রাখুন। মনে রাখবেন আর যাই হোক শিশুকে ঠাণ্ডা লাগানো চলবে না।

রুমাল:

শিশুর মুখ মোছানোর জন্য নরম কাপড়ের রুমাল তৈরি করে রাখতে পারেন। এক্ষেত্রে পুরনো শাড়ি হতে পারে রুমালের উপাদান।

মায়ের জন্য:

শিশুর জন্মানোর পাশাপাশি মায়েরাও প্রস্তুত থাকুন। প্রচুর পরিমাণে স্যানিটারি প্যাড কিনে রাখুন। কিনে রাখুন ফিডিং ফ্রেন্ডলি পোশাক। বা বানাতেও পারেন।

শিশুর জন্মানোর পর আসলে কেনাকাটার শেষ নেই। তাই নিজেদের অবস্থা বু্ঝে আগে থেকে কেনাকাটা করে রাখাই বুদ্ধিমানের কাজ। তা না হলে দেখা যাবে, হাতে টাকা, কোলে শিশু কিন্তু সুযোগ নেই বাজারে যাওয়ার।

 

ছবি: জন্মের ২ ঘণ্টা পর ওয়াকেফ হাসান চৌধুরী 

/আরএফ/

***বাংলা ট্রিবিউনে প্রকাশিত কোনও সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ। অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করলে কর্তৃপক্ষ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।