দুপুর ০১:১৭ ; শনিবার ;  ২০ জানুয়ারি, ২০১৮  

স্তন ক্যানসার: আপনি সচেতন তো?

প্রকাশিত:

লাইফস্টাইল ডেস্ক।।

স্তন ক্যানসার একটি আতঙ্কের নাম। আমাদের দেশে প্রতি বছর হাজার হাজার নারী আক্রান্ত হন স্তন ক্যানসারে। তবে আশার কথা হচ্ছে, সঠিক সময়ে ধরা পড়লে এ ক্যানসার ভালো হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা অনেক বেশি। কেবলমাত্র সচেতনতাই এই ভয়ংকর আতঙ্ক থেকে সুরক্ষিত রাখবে আপনাকে। স্তন ক্যানসার সচেতনতা দিবস আজ। আপনি সচেতন তো নিজের সম্পর্কে?

উপসর্গ   

  • স্তনের আশেপাশে পিণ্ড বা চাকা দেখা যাওয়া
  • স্তনের আকৃতি পরিবর্তন
  • স্তনের চামড়া কুঁচকে যাওয়া
  • স্তনের বোঁটা ভেতরের দিকে ঢুকে যাওয়া
  • স্তনের বোটা থেকে রস নির্গত হওয়া
  • স্তনের চামড়া খসখসে ও লাল হয়ে ফুলে যাওয়া  

 
যদিও এ লক্ষণগুলো প্রকাশ পাওয়া মানেই স্তন ক্যানসার নয়। তবে লক্ষণগুলোর কোন একটি প্রকাশ পেলেই দ্রুত ডাক্তারের সঙ্গে যোগাযোগ করা উচিত। মনে রাখতে হবে যত তাড়াতাড়ি ক্যানসার সনাক্ত করা যাবে, ততই আরোগ্য লাভ করা যাবে দ্রুত।

সম্ভাব্য কারণ

  • স্তন ক্যানসারের কারণগুলো পরিস্কার নয়। ডাক্তারদের মতে, যখন কিছু স্তনকোষের অস্বাভাবিক বৃদ্ধি ঘটে তখনই হয় ক্যানসার। এই কোষগুলো স্বাভাবিক কোষের তুলনায় দ্রুত বৃদ্ধি পায়। সব কোষগুলো একত্র হয়ে একটি টিউমারের জন্ম দেয়। যা স্তনের মাধ্যমে লসিকা গ্রন্থি অথবা শরীরের অন্যান্য অংশে ছড়িয়ে পড়ে।
     
  • স্তন ক্যান্সার শুরু হয় স্তনের দুধ নি:সরণকারী নালীর কোষ থেকে। তবে স্তন ক্যানসারের উৎপত্তি স্তনগ্রন্থি থেকেও হতে পারে। স্তন ক্যানসার জেনেটিক মেকআপ এবং পরিবেশের জটিল মিথস্ক্রিয়া থেকেও সৃষ্টি হয়।
     
  • চিকিৎসকদের মতে ৫-১০ শতাংশ স্তন ক্যানসার জিন বিভাজনের সাথে জড়িত। যা পরিবারের প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে পরিবাহিত হয়। উত্তরাধিকারসূত্রে প্রাপ্ত ত্রুটিযুক্ত জিন স্তন ক্যানসার হওয়ার সম্ভাবনা বাড়িয়ে দেয়।
     
  • একটি স্তন ক্যানসার আক্রান্ত হলে পরবর্তীতে অন্যটিতেও সংক্রমিত হতে পারে ক্যানসার।
     
  • ৬০ বছর বয়সের পর স্তন ক্যানসারের ঝুঁকি বেড়ে যায়।
     

সচেতনতা নিজের জন্য

  • প্রতি মাসে নির্দিষ্ট একটি দিন আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে নিজেই পরীক্ষা করুন নিজের স্তন। ১৫ মিনিট সময় ঠিক করুন পরীক্ষার জন্য। বেছে নিন পিরিয়ডের প্রথম দিন।  কোন ধরনের অস্বাভাবিকতা চোখে পড়ার সাথে সাথে ডাক্তারের সঙ্গে যোগাযোগ করুন।
     
  • প্রতি বছর একবার ডাক্তারের কাছে গিয়ে রুটিন চেকআপ করুন।
     
  • পিণ্ড বা কোন চাকার মতো কিছু চোখে পড়লে ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী ম্যামোগ্রাম করিয়ে নিন। স্তনের এক্সরেকে ম্যামোগ্রাম বলা হয়।  পিরিয়ড শুরু হওয়ার প্রথম ১৪ দিনের মধ্যে করাতে হবে ম্যামোগ্রাম।
     
  • ৪০ বছর পার হলে স্তনে কোনও অস্বাভাবিকতা আছে কিনা জানার জন্য বছরে একবার স্ক্রিনিং ম্যামোগ্রাম করিয়ে নিন।

ব্রেস্ট ক্যানসার চ্যারিটিজ অব আমেরিকার মতে, নিয়মিত ব্যায়াম ও সঠিক খাদ্যাভাস স্তন ক্যানসারের ঝুঁকি কমিয়ে দেয় ৪০ শতাংশ। শুরুতেই ক্যানসার চিহ্নিত করতে পারলে ৯৮ শতাংশ রোগীই সুস্থ হয়ে উঠতে পারেন।
 


তথ্যসূত্র: ব্রেস্ট ক্যানসার চ্যারিটিজ অব আমেরিকা এবং এজি ব্রেস্ট কেয়ার 

/এনএ/

***বাংলা ট্রিবিউনে প্রকাশিত কোনও সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ। অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করলে কর্তৃপক্ষ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।