রাত ১০:০৩ ; শুক্রবার ;  ১৮ অক্টোবর, ২০১৯  

কুনিও হত্যাকাণ্ড নিয়ে কথা বললেন রংপুরের ডিআইজি

প্রকাশিত:

রংপুর প্রতিনিধি॥

জাপানি নাগরিক ওসি কুনিও হত্যাকাণ্ডের তদন্ত নিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেছেন পুলিশের রংপুর রেঞ্জের উপ-মহাপরিদর্শক (ডিআইজি) ও এই তদন্ত কমিটির প্রধান হুমায়ুন কবীর। স্পর্শকাতর এ মামলাটি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে এবং খুনিদের চিহ্নিত করে তাদের গ্রেফতার করার জন্য আইনশৃংখলা বাহিনীর সব ইউনিট দিনরাত কাজ করে যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন তিনি।

ডিআইজি জানান, শনিবার আবারও তদন্তের অগ্রগতিসহ সার্বিক বিষয় পর্যালোচনা করে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। শনিবার দুপুরে নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় কালে তিনি এসব কথা বলেন।

এর আগে বেলা সাড়ে ১১টার দিকে ডিআইজি কার্যালয়ে তদন্ত কমিটির জরুরি সভা ডিআইজি হুমায়ুন কবীরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত হয়। সভায় উপস্থিত ছিলেন তদন্ত কমিটির সদস্য রংপুরের পুলিশ সুপার আব্দুর রাজ্জাক, রংপুর পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) এর জেলা প্রধান অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আব্দুস সালামসহ অন্যান্য সদস্য। তবে সভা শেষে তদন্ত কমিটির দুই সদস্য রংপুর পিবিআইয়ের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ও জেলা পুলিশ সুপার আব্দুর রাজ্জাক সাংবাদিকদের সঙ্গে কোনও কথা বলতে রাজি হননি।

পরে দুপুরে তদন্ত কমিটির প্রধান ডিআইজি হুমায়ুন কবীর নিজেই সাংবাদিকদের কিভাবে জাপানী নাগরিক হত্যাকাণ্ডের মোটিভ উদঘাটন করা যায় তা নিয়ে কথা বলেন। কিলিং মিশনে অংশ নেওয়া খুনিদের কিভাবে চিহ্নিত করে গ্রেফতার করা যায় এসব বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলে জানান।

পুলিশকে সময় দিতে হবে এবং তারা আপ্রাণ চেষ্টা করছেন জানিয়ে বিদেশিদের মাঝে বিরূপ প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয় এমন কোনও খবর পরিবেশন না করতেও গণমাধ্যমের প্রতি আহবান জানান তিনি।

ডিআইজি বলেন, ‘এসব ঘটনা যতো কম গণমাধ্যমে প্রচার করা যায় ততোই ভালো। পৃথিবীর অনেক জায়গায় অনেক ঘটনা ঘটে তার কতটা মিডিয়ায় আসে? যেভাবে দুই বিদেশি নাগরিক হত্যাকাণ্ডের ঘটনা প্রচার করা হচ্ছে এতে করে বিদেশিদের মাঝে আতঙ্ক তৈরি হচ্ছে। আতঙ্কের কারণে গার্মেন্ট শিল্পে বিরূপ প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। এ অবস্থা আমাদের জন্য ভালো খবর নয়।’ তাই দেশে বা বিদেশে যাতে আতঙ্কের সৃষ্টি না হয় সেদিকে খেয়াল রাখার ব্যাপারেও সাংবাদিকদের সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।

এদিকে কুনিও হত্যার ঘটনায় রাজশাহী থেকে গ্রেফতার হওয়া দুই ব্র্যাক ব্যাংক কর্মকর্তা নাহিদ ও শাহারিয়ারকে শুক্রবার রাতভর জিজ্ঞাসাবাদ করেও কোনও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য না পাওয়ায় ছেড়ে দিয়েছে পুলিশ। রংপুরের পুলিশ সুপার আব্দুর রাজ্জাক বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

খুনের ঘটনায় গ্রেফতার হওয়া রংপুর মহানগর বিএনপি নেতা রাশেদুন্নবী খান বিপ্লবকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নেওয়া ১০ দিনের রিমান্ডের চতুর্থ দিনেই পুলিশ তাকে আদালতে হাজির করে কারাগারে নেওয়ার আবেদন করলে রংপুরের জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আবু তালেব রিমান্ড বাতিল করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

অন্যদিকে ওসি কুনিও এর মরদেহ সপ্তম দিনের মতো রংপুর মেডিক্যাল কলেজের মর্গের হিমঘরেই পড়ে আছে। তার লাশ গ্রহণ করার ব্যাপারে এখন পর্যন্ত রংপুরে অবস্থানকারী জাপান দূতাবাসের ৩ কর্মকর্তা কোনও নির্দেশনা না দেওয়ায় লাশ দাফনের কোনও পদক্ষেপ গ্রহণ করেনি রংপুর প্রশাসন।

/এসএম/টিএন/

 

***বাংলা ট্রিবিউনে প্রকাশিত কোনও সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ। অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করলে কর্তৃপক্ষ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।