রাত ০৯:৫০ ; মঙ্গলবার ;  ১৮ ডিসেম্বর, ২০১৮  

ছিমছাম বাথরুম

প্রকাশিত:

সোহেলী সায়মা সেঁজুতি॥

সারাদিনের ব্যস্ততা শেষে নীড়ে ফিরে স্নান করতে পারলে ক্লান্তি গায়েব হয়ে যায় নিমিষেই। সেই স্নানঘর বা বাথরুম যদি হয় অগোছালো, তবে মেজাজ বিগড়ে যাওয়াই স্বাভাবিক। বাথরুম তৈরির আগেও লক্ষ্য রাখা চাই কিছু বিষয়ের উপরে, যেন বাথরুম হয় ছিমছাম ও প্রশান্তিময়।         

কেমন বাথরুম চাই?
সুন্দর বাথরুম মানেই অত্যাধুনিক ফিটিংসের চাকচিক্য নয়। বাথরুম হওয়া চাই পরিষ্কার ও জীবাণুমুক্ত। পাশাপাশি সাজেও থাকা চাই নান্দনিকতা। প্রথমেই সিদ্ধান্ত নিন বাথরুম কীভাবে সাজাতে চান। মেঝে, দেয়াল এবং রঙ কেমন হবে- সেগুলো ঠিক করে নিন আগেই। বাথরুমকে সাজানোর জন্য কোন নির্দিষ্ট থিম কিংবা প্যাটার্ণ ব্যবহার করবেন কিনা সেই সিদ্ধান্তও নিয়ে নিন।

বাথরুমে কখনও কন্ট্রাস্ট রঙ ব্যবহার করবেন না। একরঙা বাথরুমই ভালো দেখায়। সবসময় হালকা রঙ ব্যবহার করার চেষ্টা করুন। সাদা বা যেকোনো হালকা রঙ বাথরুমকে বড় দেখাবে।

আপনি বাসা যদি হয় বিল্ডিঙয়ের একদম উপরের তলায়, তাহলে বাথরুমের সিলিংটা তৈরি করুন কাচ দিয়ে। এটি আলোর নিশ্চয়তা দেবে। যদি সিলিং কাচের তৈরি করা সম্ভব না হয়, তাহলে অবশ্যই বড় একটি জানালা রাখুন। যেন পর্যাপ্ত আলো আসতে পারে বাথরুমে। সবসময় প্রাকৃতিক আলোর ব্যবস্থা করা সম্ভব হয় না বাথরুমে। সেক্ষেত্রে কৃত্রিম আলো ব্যবহার করে বাথরুম সাজান। তবে খুব বেশি উজ্জ্বল আলো ব্যবহার করবেন না। হালকা এবং নরম আলো আপনার চোখকে প্রশান্তি দেবে। সিলিং- এ সবসময় হালকা রঙ  ব্যবহার করুন। সাদা রঙ ব্যবহার করতে পারলে সবচেয়ে ভালো হয়।

বাথরুম তৈরির সময় খেয়াল রাখুন যেন প্রথমে বেসিন, তারপর কমোড ও সবার শেষে শাওয়ার থাকে। ছোট বাথরুমে বাথটাব না রাখাই ভাল। তাও যদি রাখতে চান তাহলে বাথরুমের একটি নির্দিষ্ট কর্ণার বেছে নিয়ে তারপর বাথটাব বসান। তবে কোন টাইলস ব্যবহার করবেন না। শাওয়ার কেস তৈরি করতে চাইলে দেয়ালের এক পাশে করুন। সম্ভব হলে শাওয়ার কেসটি চারপাশে কাচ দিয়ে ঘিরে দিন। বাথরুম বড় দেখানোর পাশাপাশি এটি আপনার বাথরুমকে করবে আকর্ষণীয়।

জরুরি পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা
বাথরুম পরিষ্কার রাখার প্রধান শর্ত হল বাথরুমের মেঝে পরিষ্কার রাখা। মেঝে যদি মোজাইকের হয়ে থাকে, তাহলে বাথরুম ব্যবহারের পর জমে থাকা পানি ফেলে দিতে হবে। মেঝে  টাইলসের হলে চটজলদি মুছে ফেলতে হবে। মাঝে মাঝে বাথরুমের মেঝেতে গরম পানি ঢেলে দিতে পারেন। এতে জীবাণু দূর হবে। বাথরুম সবসময় শুষ্ক রাখতে পারলে জীবাণুর আক্রমণ কম হয়। অনেক সময় নিয়মিত ব্যবহারের ফলে বাথরুমের প্যান এবং কমোডে ফ্যাকাশে দাগ পড়ে যায়। সপ্তাহে ২/৩ দিন লিকুইড ক্লিনার দিয়ে কমোড বা প্যান পরিষ্কার করুন।

দীর্ঘদিন ব্যবহারের ফলে বেসিনে পানি পড়ে এক ধরনের দাগ সৃষ্টি হয়। গুড়া সাবানের সঙ্গে বাথরুম পরিষ্কারের লিকুইড ক্লিনার মিশিয়ে দাগের উপর ছড়িয়ে দিয়ে ১০ মিনিট অপেক্ষা করুন। তারপর দাঁত মাজার পুরনো ব্রাশ দিয়ে ঘষে নিন। একই পদ্ধতিতে টাইলসের ফাঁকে জমে থাকা ময়লাও পরিষ্কার করতে পারবেন।

টিপস

  • বাথরুমের স্যাঁতস্যাঁতে ভাব দূর করতে ভেতরে বাতাস চলাচলের ব্যবস্থা করুন। এ্যাজস্ট ফ্যান থাকলে বাথরুম ব্যবহারের পর কিছুক্ষণ ছেড়ে রাখুন। না থাকলে জানালা খুলে রাখুন। ভ্যাপসা ভাব দূর হবে।
     
  • বাথরুমের জানালায় বা কমোডের উপরের অংশে রাখতে পারেন ইনডোর প্ল্যান্ট। সতেজ থাকবে পরিবেশ।
     
  • বাথরুমে কাঠের দরজা থাকলে পানিতে ভিজে দরজার নিচের কাঠের অংশটুকুতে পচন ধরে যায়। তাই দরজার নিচের দিকে তিন থেকে চার ফুট জায়গায় প্লাস্টিকের পাতলা শিট দিয়ে মুড়ে দিন। তাহলে দরজা আর নষ্ট হবে না।

 

লেখক: ইন্টেরিওর আর্কিটেক্ট
ছবি: আর্কিডেন ইন্টিরিওর

/এনএ/

 

***বাংলা ট্রিবিউনে প্রকাশিত কোনও সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ। অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করলে কর্তৃপক্ষ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।