বিকাল ০৫:৩৩ ; বৃহস্পতিবার ;  ২৩ মে, ২০১৯  

ব্রিটেনে নাদিয়ার মিষ্টি অর্জন

প্রকাশিত:

রুম্পা সৈয়দা ফারজানা জামান।।

কেন যেন সমাজে গৃহবধূদের সাধারণ বলা হয়! কেন যেন মনে করা হয় বাসায় আসলে তাদের কোনও কাজ থাকে না। আসলেই কি তাই? বাসার কাজকে আজও কেন “কাজের তালিকায়” ধরা হয় না- সেটা আধুনিক সমাজে প্রশ্ন বটে। সেই প্রশ্নের উত্তর যাই হোক- থেমে থাকেনি সমাজের চোখে সাধারণ হয়ে থাকা মানুষগুলোর অসাধারণ হয়ে ওঠার গল্প। সম্প্রতি এমনই একটি গল্প জাগিয়েছে এদেশের মানুষকে। করেছে আন্দোলিত। সাত সমুদ্র তের নদীর ওপার থেকে ভেসে আসা এক সংবাদে নড়েচড়ে বসেছে দেশের মিডিয়া। শিরোনামে “সাধারণ” উল্লেখ করেই বলা হচ্ছে নাদিয়া হোসেনের কথা। হতে পারে তিনি গৃহবধূ বলেই এমন বিশেষণ! অনেকের চোখে বা উপমায় সাধারণ হলেও রান্নার কৌশলে অসাধারণ। তিনি গ্রেট ব্রিটিশ বেক অফ ২০১৫-এর বিজয়ী।

এ বিজয় ছিনিয়ে এনেছেন অসংখ্য প্রতিযোগীকে পেছনে ফেলে। বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত নাদিয়ার গল্প এখানেই শেষ নয়। শুরু মাত্র।

নাদিয়া জামির হোসেন

এবারের গ্রেট ব্রিটিশ বেক অফ প্রতিযোগিতার ষষ্ঠ আয়োজন যখন শুরু হয়- তখন কে ভেবেছিল নাদিয়া ছিনিয়ে নেবে বেকিং-এর বর্ষসেরা মুকুট? বিশ্বের অন্য কোনও প্রান্তের কেউ না ভাবলেও, অন্তত শো’র দর্শকরা অবশ্যই ভেবেছিলেন। একারণেই তিনি ছিলেন সবার মধ্যমণি। এমনকী ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরনেরও প্রিয় তালিকায় আছেন নাদিয়া।

৩০ বছর বয়সী নাদিয়া তিন সন্তানের মা। পুরো নাম নাদিয়া জামির হোসেন। লুটনে বেড়ে ওঠা নাদিয়ার শিরায় বাংলাদেশের রক্ত। এজন্যই তিনি হার মানার পাত্রী নন। শোটির অন্যান্য দর্শকরাও তা মনে করেন নাদিয়ার সম্বন্ধে। এজন্যই প্রতিযোগিতায় যখন একবার তার তৈরি করা বিস্কিটের পাত্র ভেঙে যায় তিনি একটুও বিচলিত না হয়ে সেটা নিয়ে উল্টো মজা করেন। সামলে নেন পরিস্থিতি। শো-এর ধাপে ধাপে নাদিয়া বেকিং-কৌশলে সৃজনশীলতার যে পরিচয় দিয়েছেন তা তাক লাগিয়ে দিয়েছে বিশ্ববাসীকে। এর আগে স্টার বেকারস শোতে তিনি তিনবার অংশগ্রহণ করেন। তবে এবারই তাক লাগিয়ে মাত করেছেন বিশ্বকে। বিশ্বকে দেখিয়ে দিয়েছেন চাইলে যে কেউ পারে মনের ইচ্ছা পূরণ করতে। তাই নিজের বিয়েতে কেক না থাকার দুঃখটা তিনি লাঘব করলেন। বানালেন লেমন ড্রিজল কেক। লক্ষ লক্ষ দর্শকের সামনে স্বামীর পছন্দের স্বাদে ভরা কেক বানিয়ে জয় করলেন বিচারকদের মন। 

সহজ- সুন্দর জীবনযাপনে অভ্যস্ত নাদিয়া হোসেন নিজের সাফল্যের পেছনে পরিবারের ভূমিকাকে বড় বলে মনে করেন। স্বামী আর সন্তানদের সহযোগিতা ছাড়া এমন মধুর অস্ত্রে পৃথিবীকে মাত করা হয়তো সম্ভব হতো না। এবারের বিজয় তাকে আত্মবিশ্বাসী করে তুলেছে। পাশাপাশি পরিবারের আরও কাছে নিয়ে এসেছে বলে তিনি মনে করেন।

প্রতিযোগিতার তিন ফাইনালিস্ট-  ইয়ান কামিং, তমাল রায় এবং নাদিয়া হোসেন 

গ্রেট ব্রিটিশ বেক অফ প্রতিযোগিতার বিজয়ী নাদিয়া হোসেনকে নিয়ে আজ বিশ্ব তোলপাড় হলেও, শো-এর দর্শকরা আগে থেকেই তাকে নিয়ে বেশ গবেষণা করে রেখেছিলেন। নাদিয়ার অভিব্যক্তি, ভুলের পরে হাসিতে সামলে নেওয়া, বেকিং-এর মাঝে ছোটখাটো কিন্তু অসাধারণ সব সংযোজন এবং সহজ সরল ভাবের প্রকাশ – সব মিলিয়ে সবার পছন্দের তালিকার উপরেই ছিলেন নাদিয়া।

নাদিয়ার বিজয়ী কেক

আর না বললেই নয়, নাদিয়া হোসেন যে কেকটি বানিয়ে ব্রিটিশদের মাঝে জয় লাভ করলেন- সেই কেকটিতে ছিল একদম বাংলাদেশের বিয়ে বাড়ির আমেজ। হয়তো এর মাধ্যমেই নাদিয়া নিজের বিয়ের স্মৃতির মাঝে থাকা অপূর্ণ স্থানটিকে পূরণ করলেন কেক বানিয়ে। আর উপহার হিসেবে নিলেন কেক সম্রাজ্ঞীর মুকুট। এখনও কি তাকে ‘সাধারণ গৃহবধূ’ বলা যায়?

 

সুত্র: বিবিসি

ছবি: সংগ্রহ

***বাংলা ট্রিবিউনে প্রকাশিত কোনও সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ। অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করলে কর্তৃপক্ষ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।