রাত ১১:১৬ ; রবিবার ;  ২০ অক্টোবর, ২০১৯  

কবিতায় আসল আধুনিকতা এলিয়টকে দিয়েই শুরু || কায়সার হক

প্রকাশিত:

কবি কায়সার হক জন্মেছেন ১৯৫০ সালের ৭ ডিসেম্বর ঢাকায়। তিনি বাংলাদেশের একজন ইংরেজি ভাষার কবি, অনুবাদক, প্রাবন্ধিক, সমালোচক এবং শিক্ষাবিদ। পড়াশুনা করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগে। যুক্তরাজ্যের ওয়ারউইক বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইংরেজি সাহিত্যে পিএইডি। তিনি দীর্ঘকাল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগে অধ্যাপনা করেছেন। বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ চলাকালে তিনি Bangladesh Govt. in exile কর্তৃক সদ্য কমিশনপ্রাপ্ত সেকেন্ড লেফটেনেন্ট হিসেবে পাকিস্তানী হানাদারদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেছেন। ২০১৪ সালে অনুবাদ সাহিত্যের জন্য বাংলা একাডেমি পুরস্কার পান। সাম্প্রতিককালে কায়সার হকের একটি কবিতা সংকলন ফ্রেঞ্চ ভাষায় অনুদিত হয়ে ফ্রান্সে প্রকাশিত হয়েছে। হার্ভার্ড ইউনিভার্সিটি প্রেস প্রকাশ করে তার “দ্যা ট্রাইয়াম্ফ অভ দ্যা স্নেক গডেস”। তিনি মনসামঙ্গল কাব্যকে ইংরেজিতে গদ্য-রূপান্তর করেছেন।

গত ২৬ সেপ্টেম্বর ছিলো টি. এস. এলিয়টের জন্মদিন। এলিয়টের কবিতা, তার চিন্তাজগৎ এবং সমসাময়িক কাল ও কবিতা নিয়ে তার সঙ্গে কথা বলেন, জাহিদ সোহাগ ও ইয়াসমিন ইতি। শ্রুতিলিখন করেন আমিনুল ইসলাম।

 

জাহিদ সোহাগ : স্যার এটা প্রচলিত অর্থে কোনো সাক্ষাৎকার নয়। টি. এস. এলিয়টের জন্মদিনকে কেন্দ্র করে তার সম্পর্কে আমাদের কিছু জিজ্ঞাসা আছে, সেইসব নিয়ে কথা বলতে চাই। পাশাপাশি এও জানতে চাই প্রথম আপনি কবে এলিয়টের কবিতা পড়েন? সেই অভিজ্ঞতা কেমন ছিলো?
কায়সার হক : আমি এসএসসি’র পর প্রথমে তার কবিতা পড়ি।

জাহিদ সোহাগ : সেটা নিঃসন্দেহে স্বাধীনতার আগে?
কায়সার হক : হুমম... ১৯৬৭ সালে।

জাহিদ সোহাগ : তখনতো এলিয়টের কবিতা বাংলায় অনুবাদও হয়নি। ইংরেজিতেই পড়েছেন, তাইতো?
ইয়াসমিন ইতি : কিন্তু ওটা নিশ্চয়ই কোনো টেক্সট বইয়ের অন্তর্ভুক্ত ছিলো না?
কায়সার হক : না, এসএসসি পরীক্ষা যখন দেই ঐ সময়ই কবিতার দিকে ঝুঁকে পড়ি। তার আগ পর্যন্ত চিন্তাভাবনা ছিলো যে আমি গদ্যই লিখব, কিন্তু কবিতা লেখা শুরু করার পর আর গল্প-উপন্যাসের দিকে যাওয়াই হয়নি। কবিতা লেখাটা শুরু করেছিলাম কারণ কবিতার মধ্যে ভাষার সবচেয়ে অনন্য ব্যবহার হয়। লেখালেখির একটা অনুশীলন হিসেবেও কার্যকরী হবে। যাই হোক, এই করতে করতে কবিতার মধ্যেই মজে গেলাম আরকি। তখন এসএসসি’র পর পর নিজেই পড়াশোনা শুরু করি সাহিত্যের ইতিহাস, সংকলনগুলো।

জাহিদ সোহাগ : ইংরেজিতে না বাংলায়?
কায়সার হক : ইংরেজি।

জাহিদ সোহাগ : আপনি কি তখন থেকেই ইংরেজিতে লিখতে শুরু করেন?
কায়সার হক : হ্যাঁ, শুরু থেকেই ইংরেজি।

জাহিদ সোহাগ : বুদ্ধদেব বসুও সম্ভবত প্রথম কবিতা ইংরেজিতে লিখেছিলেন, সে কথা মনে পড়লো আরকি–
কায়সার হক : হ্যাঁ। আমার পড়াশোনা তো চার বছর থেকেই ইংরেজিতে। তো প্রথম কবিতা লেখা শুরু করতে কিন্তু সংকলনগুলো খুব কাজে দেয়। কোন কোন কবির কবিতা পড়ব সেটা সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে এই সংকলনগুলো থেকে অনেক নমুনা পাওয়া যায়। তো সেসব ঘাঁটাঘাঁটি করতে গিয়েই জানতে পারলাম যে ইংরেজির প্রধান আধুনিক কবি টি. এস. এলিয়ট।

জাহিদ সোহাগ : তার আগে নিশ্চয়ই কিটস্, বায়রন এদের কবিতা পড়েছেন, তাইতো?
কায়সার হক : স্কুলের পাঠ্যবইয়ে শেক্সপিয়ার থেকে, উনবিংশ শতাব্দির রোমান্টিক কবিতা পড়া হয়। আধুনিকের মধ্যে আমরা স্কুলে ডি. এইচ. লরেন্স-এর কবিতা পেয়েছি। ঐ কবিতা পড়েই আমার আগ্রহ জন্ম নেয়। মুক্ত ছন্দের ব্যাপারটা খুব ভালো লাগে যে এভাবেও কবিতা লেখা যায়। ইংরেজি কবিতার যে ছন্দরীতি ওটার একদম প্রকৃত রূপটা ইংল্যান্ডের ইংরেজদের (আমেরিকানও না) কাছে যতটা স্বাভাবিক, এটা কিন্তু অন্যদের কাছে ততটা না। যার জন্য আমেরিকাতে দেখা যায় যে সবচেয়ে বড় কবি, আধুনিক কবিতার স্রষ্টাদের মধ্যে একজন ওয়াল্ট হুইটম্যান। তিনি একমাত্র প্রধান কবি যার সবগুলো কবিতা মুক্ত ছন্দের। তো মুক্ত ছন্দ ছাড়াও ইংরেজি বলার ধরনটাও আমেরিকাতে বা আমাদের কিন্তু আলাদা। যার জন্য আমার কাছে মুক্ত ছন্দটাকে আপন করে নেওয়া বেশি সহজ মনে হয়। তার আগের যে ট্রেডিশনাল ভার্সগুলোর প্রতি আগ্রহ আমার পরে আসে।

জাহিদ সোহাগ : এলিয়ট পড়ার পরে কি আপনার মধ্যে কোনো পরিবর্তন আসে বলে মনে করেন?
কায়সার হক : আধুনিক কবিতার দিকে ঝুঁকে পরার পর দেখলাম যে, এলিয়টই প্রধান কবি। আধুনিক কবিতার যে আলাদা একটা ধর্ম আছ সেটা ঐ সময়ই আমি আস্তে আস্তে উপলব্ধি করি। তখনকার অবজার্ভারে সমকালীন কবিদের নিয়ে একটা লেখা পড়ি, যা বিদেশি কোনো পত্রিকা থেকে নিয়ে রিপ্রিন্ট করা হয়েছিল। সেখানে ফিলিপ লারকিনের কয়েকটা লাইন উদ্ধৃত ছিলো, যা বেশ মনে ধরে। তারপর আমি এলিয়টের সিলেকটেড পোয়েমস্ পড়লাম। প্রথমে সংকলন তারপরে ওর বাছাইকৃত কবিতা। সেসময় আবার এলিয়ট নিয়ে মাঝে মাঝে আমাদের টেলিভিশনেও আলোচনা হতো। কারণ আমাদের বাংলার আধুনিক কবিরাও এলিয়ট পাগল ছিলেন।

জাহিদ সোহাগ: মানে আমাদের শামসুর রাহমান, আল মাহমুদ এরা?
কায়সার হক : হুমম... আর এদের আগেও তিরিশের দশকের যে আধুনিক কবিরা তারাও এলিয়ট পাগল ছিলেন। কিন্তু বিষ্ণু দে সবচেয়ে বেশি। এই বিষ্ণু দে’র একটা ইংরেজি প্রবন্ধ আছে ‘ এলিয়ট অ্যামঙ দি আর্জুনস’। এই ভারতীয়রা এলিয়টে কতখানি যে প্রভাবিত হয়েছে– সেসময়ে তো অনেকেরই মুখস্ত ছিলো এলিয়টের কবিতা। বিষ্ণু দে’র অনেক কবিতা তো এলিয়টের অনুবাদ মনে হয়।

জাহিদ সোহাগ : আবার জীবনানন্দের ‘আট বছর আগের একদিন’ কবিতাটি লাশকাটা ঘরে যে চিত হয়ে শুয়ে আছে... এটা তো ‘ওয়েস্ট ল্যান্ড’-এর সঙ্গে অনেক মিল পাওয়া যায়?
কায়সার হক : ঐ মোটামুটি বাংলা কবিতায় আধুনিকতা যারা আনে তাদের সবার মধ্যেই।

জাহিদ সোহাগ : শেষমেষ ইংরেজি কবিতায় এলিয়ট কোনো প্রভাব ফেলতে পেরেছিল বলে আপনি মনে করেন?
কায়সার হক : ইংরেজিতে তো তার মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তিনি আধুনিকতার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কবি ছিলেন। ৬০-এর দশকের দিকে একটা সমালোচনা হয় যে এত বেশি পড়াশোনামূলক লেখা, মনে হয় যেন পাণ্ডিত্যের প্রচার করা, বাহাদুরি দেখানো। এটাকে ততো ভালো চোখে দেখা হতো না, কিন্তু তার যে আধুনিক জগতের যে চিত্রকল্পের ব্যবহার, আধুনিক ভাষার যে ছন্দ এটার প্রভাব কিন্তু কেউ এড়াতে পারেনি। যারা নাকি ওর বিরুদ্ধে প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে তারাও এড়াতে পারেনি।

জাহিদ সোহাগ : এলিয়টের যে দর্শন সেটা তার উত্তরকালে কারা কারা...?
কায়সার হক : এটা কিন্তু ঐ ডব্লিউ এইচ অডেন... তারপর তিরিশের আধুনিক যারা, তারপর আমেরিকায় যারা নিউ ক্রিটিকস্ ছিলো যাদের অনেকেই কবিও ছিলো। যেমন– জন ক্রো র‌্যানসম, অ্যালেন টেইট এরা অনেকেই।

জাহিদ সোহাগ : গিনসবার্গেরও এদের সঙ্গে সর্ম্পক ছিলো?
কায়সার হক : না, গিনসবার্গ বেশ ভিন্ন। তারপর... এই ষাটের দশকে এসে কবিতা আরও পপুলার হয়, পাবলিক আরও রোমান্টিক ধাঁচের কবিতা পছন্দ করে। এটা এই বিট পোয়েট্রি আসে ওদের সমকালীন কবিদের মধ্যে, উইলিয়াম কার্লস উইলিয়ামস্ ছিলো ওইটার মধ্যে। ওখানে একেবারে আধুনিক কবিদের মধ্যে এলিয়ট তো প্রধান, তারপর এজরা পাউন্ড, উইলিয়ামস্।

ইয়াসমিন ইতি : ডব্লিউ বি ইয়েটস্ও তো সে সময়...?
কায়সার হক : হ্যাঁ, তবে ডব্লিউ বি ইয়েটস্ হচ্ছে ভিক্টোরিয়ান কবি, যে আধুনিক হয়ে গেল। শুরু করেছিলো ভিক্টোরিয়ান যুগে তারপর চলে এলো আধুনিকে। ভিক্টোরিয়ান যুগের শেষের মানে দ্বিতীয় অর্ধে আরকি।

জাহিদ সোহাগ : নইলে রবীন্দ্রনাথের কবিতা তাঁর এতো ভালো লাগলো! রবীন্দ্রনাথ তো খুব ভিক্টোরিয়ান ধ্যান-ধারণার লেখক। স্যার, আমরা যদি বোদলেয়ার আর এলিয়ট দু’জনকে পাশাপাশি চিন্তা করি তাহলে (সময়ের ব্যবধানে তো বোদলেয়ার অনেক আগের) বোদলেয়ারের মধ্যেও তো আমরা আধুনিকতার মেটাফোরগুলো দেখতে পাই। আমরা কি বলতে পারি না যে ফরাসি সাহিত্যে...
কায়সার হক : ফরাসি কবিতায় প্রথমে এসেছে, আরো আগে এসেছে, প্রায় ষাট বছর আগে, বোদলেয়ার তো উনবিংশ শতাব্দির মাঝামাঝি...। কিন্তু বোদলেয়ারের প্রভাব ইংরেজি কবিতায় ১৮৯০ এর দিকে দেখা যায়। সেটা কিন্তু পুরোপুরি আধুনিক হয়নি, কেবল কিছু কিছু আধুনিক রূপক, শহরের অন্ধকারাচ্ছন্ন দিকগুলো উঠে এসেছিলো। কবিতায় আসল আধুনিকতা এলিয়টকে দিয়েই শুরু।

জাহিদ সোহাগ : স্যার, আধুনিকতাতে নগরকে খুব গুরুত্ব দেয়া হয় কিন্তু গ্রামীণ প্রেক্ষাপট দিয়ে, গ্রামীণ চেতনা দিয়ে কবিতা কি আধুনিকতার জায়গায় পৌঁছাতে পারে?
কায়সার হক : রবার্ট ফ্রস্ট। রবার্ট ফ্রস্ট তো আধুনিক। তাঁর ২/১ টা ছাড়া সব কবিতাই তো গ্রামীণ প্রেক্ষাপটের। আবার তাঁর ‘নিসর্গ’ কিন্তু ওয়ার্ডসওয়ার্থ-এর রোমান্টিক নিসর্গ না।

জাহিদ সোহাগ : মানে প্রকৃতি, ঈশ্বর ওই ব্যাপারগুলো না?
কায়সার হক : এখানে পটভূমি ও যেসব চরিত্র আছে ওদের সমস্যাগুলো তো আধুনিক সমস্যা।

জাহিদ সোহাগ : এই আধুনিক কবিতায়– শিল্পসাহিত্যে– আধুনিক চেতনা বলা হয়ে থাকে যে, দুইটা বিশ্বযুদ্ধের পরের পরিবর্তিত বিশ্বব্যবস্থা, তার রাজনৈতিক ধ্যান-ধারণা ইত্যাদি মানুষের সর্বোপরি একটা অনিশ্চয়তাবোধ, হতাশাবোধ যা থেকে মানুষ কখনো মুক্তি পেতে পারে না, এই চেতনা থেকেই আধুনিকতা এসেছে, তাহলে সেটা গত শতকের ঘটনা, এর মধ্যে বহু বছর পার হয়ে গেল। আজকের যুগে আমরা আধুনিকতাকে কীভাবে ব্যাখ্যা করবো, এটা কি একই রকম আছে বলে আপনি মনে করেন?
কায়সার হক : ওটাতো ঐ যে শুরু হলো, এখনো চলছেই। এটা হলো যে ক্রাইসিসের আশঙ্কা যেটা উনবিংশ শতাব্দিতে ভালোভাবে শুরু হয়। এটা আস্তে আস্তে ধারণা দেয় যে সভ্যতা শেষ হয়ে যাবে। অনেকটা অ্যাপোক্যালিপস্ বা কেয়ামতের মতো। প্রথম বিশ্বযুদ্ধটাই ঐ অ্যাপোক্যালিপসের রূপ নেয়। এই একটা সভ্যতা শেষ হয়ে গেল। আবার একটা নতুন যুগ আসল, অশ্চিয়তার যুগ। এখন এই ধারণাটার পেছনে ইতিহাস সম্পর্কে একটা দর্শন আছে, যে ইতিহাস চক্রাকারে ঘুরে, একটা সভ্যতা জন্ম নেয়। শক্তিশালী হয়, অবক্ষয় আসে, শেষ হয়ে যায়, আরেকটা চলে আসে। কিন্তু এই প্রথম যুদ্ধের পর যে আরেকটা সভ্যতা শুরু হলো এবং এটা নিয়ে যে নতুন করে আশাবাদী হওয়া যায় তা আর হলো না। ঐ যে শুরু হলো সংকটের উপলব্ধি সেটা এখন পর্যন্ত চলছেই। বিশ্বযুদ্ধ গেল তারপর নতুন নতুন সংঘাত– স্পেনে সিভিল যুদ্ধ, রুশ বিপ্লব, দ্বিতীয় মহাযুদ্ধ, হলোকাস্ট ইত্যাদি। প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পরে ‘লীগ অব নেশনস্’ হলো, দ্বিতীয় মহাযুদ্ধের পরে ‘ইউনাইটেড নেশনস্’ করা হলো...কিন্তু সংকটের উপলব্ধি আর কমেনি।

জাহিদ সোহাগ : কিন্তু স্যার রুশ বিপ্লবের পরে মানুষের মধ্যে একধরণের আশা তৈরি হয়েছিলো...
কায়সার হক : হ্যাঁ, সেটা হয়েছিলো। আর অ্যাপোক্যালিপসের পর যে আবার নতুন সভ্যতা আসবে ঐ ধারণা কমিউনিস্ট আন্দোলনের পেছনে ছিলো। ৬০-৭০ এর দশক পর্যন্ত ছিলো। তারপরে সোভিয়েত ইউনিয়ন ধ্বসের পরে একেবারেই গেল। যার কারণে এখনকার ছাত্রদের বোঝানোই যায় না যে, এরকম একটা আশাবাদী ধারণা ছিলো কমিউনিস্ট আন্দোলনের পেছনে। এরা কল্পনাও করতে পারে না।

জাহিদ সোহাগ : আমি একটা কবিতার উদাহরণ দিতে পারি। মলয় রায়চৌধুরীর কবিতা– চরম নৈরাশ্যবাদের কবিতা। যেখানে বলা হচ্ছে যে, সবকিছু ব্যর্থ হচ্ছে, মানুষের সমস্ত সভ্যতার অর্জন ব্যর্থ হচ্ছে, সমাজতন্ত্র ব্যর্থ, ঈশ্বরও ব্যর্থ... শেষমেষ মানুষের সঙ্গে কিছুই থাকে না। এই ব্যর্থতাবোধ আমরা দুইভাবে চিন্তা করতে পারি। এক হচ্ছে যে, মানুষ সীমাহীন বা চূড়ান্ত অর্থহীনতাকে স্বীকার করে নিচ্ছে। আরেকটা ব্যাপার হলো বিশ্ব রাজনীতিতে একটা শ্রেণি আছে যারা পুরো বিশ্বে একটা আধিপত্য ধরে রাখতে চায় এবং লুণ্ঠন করে যাচ্ছে। যার ফলে সমাজে বৈষম্য, বিচ্ছিন্নতাবোধ তৈরি হচ্ছে। কিন্তু সেই জায়গা থেকে আমাদের দেশের লেখকরা বা কবিরা আধুনিক কবিতায় কিছু বলতেও চান না। কিন্তু আমরা একটা চিরায়ত নিঃসঙ্গতাবোধ, বিচ্ছিন্নতাবোধ এসবের কথাই ভাবি। এইখানে কি আমরা বলতে পারি যে, বিশ্ব-রাজনীতির ফলাফলও এই আধুনিকতার জন্ম দিচ্ছে, একটা হতাশাবোধের জন্ম দিচ্ছে?
কায়সার হক : রাজনীতি কখনোই আধুনিকতাবাদ থেকে আলাদা ছিলো না। আধুনিকতাবাদ থেকে তো রাজনীতিকে আালাদা করে ভাবা যাচ্ছে না। সেই প্রথম বিশ্বযুদ্ধ তো সেই সাম্রাজ্যবাদী ধারণার সঙ্গে জড়িত। দ্বিতীয়টাও তো তাই না? তারপর কোল্ড ওয়ারটাও তো সেই দুইটা মতাদর্শের সংঘর্ষ। এই ভিয়েতনাম ওয়ার, গাল্ফ ওয়ার, বসনিয়ান ওয়ার সবই তো রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। ল্যাটিন আমেরিকার যে গণহত্যার কথা মার্কেজের লেখাতে বলা হয়েছে– ইউনাইটেড ফুড কোম্পানি, কলা কোম্পানি এসে একটা গোটা গোষ্ঠী ধ্বংস করে চলে গেল। চিলিতে সবচেয়ে বিখ্যাত যেইটা... এখনো চলছে। প্রথমে ঘটনা ঘটায়। তারপরে ক্ষমা চায়...এগুলো চলছেই।

জাহিদ সোহাগ : এলিয়টের কবিতা নিয়ে যে দুর্বোধ্যতার কথা বলা হয়...
কায়সার হক : দুর্বোধ্যতা নিয়ে এলিয়ট যেটা বলেন, আধুনিক কবিতা একটু দুর্বোধ্য হওয়া প্রয়োজন। আমাদের সভ্যতা যেমন জটিল সেরকম কবিতাও জটিল না হলে মানানসই হবে না। ঠিক মনোভাব প্রকাশ করা যাবে না।

জাহিদ সোহাগ : কিন্তু আমরা বাইরে থেকে ঠাট্টা করে বলি যে, এলিয়ট তো কবিতা লিখে পাউন্ডের কাছে গেছে আর পাউন্ড ইচ্ছেমতো এডিট করে যে ঘটনাটা দাঁড়িয়েছে তা শুধু উল্লম্ফন, জাম্পিং, অস্পষ্টতা। যদিও এগুলোর সাহিত্যিক কোনো সমালোচনা নাই।
কায়সার হক : এখনতো এডিট করা ছাড়া আসল লেখাটাও পাওয়া যায়। সেটা ছাপা হয়েছে। ঐটা পড়ে কিন্তু কেউ পাউন্ডের সম্পাদনার সমালোচনা করেনি।

জাহিদ সোহাগ : একটা ব্যাপার যেটা উৎপলকুমার বসু বলেছেন, পৃথিবীর সমস্ত সাহিত্যই যাকে বলা হচ্ছে কমোন প্রোপার্টি বা বাপের সম্পত্তি। যা খুশি ইচ্ছে মতো ব্যবহার করো, সেটা তো এলিয়ট-এর মধ্যেও দেখা যায়। যাকে বলা হচ্ছে ‘শিল্পের বিশ্বায়ন’ এটা কি এলিয়টের মধ্যে প্রথম লক্ষ্য করা যায় বলে আপনি মনে করেন?
কায়সার হক : না, না। এটা আগেই ঘটেছে। পরে ইউরোপিয় ইউনিয়নের কলোনিজমের মাধ্যমে বিস্তার লাভ করলো তখন থেকে ওরিয়েন্টাল যখন শুরু হলো আরকি, ওরা যখন অন্যান্য সংস্কৃতির টেক্সটগুলো খুঁজে বের করলো, পরে অনুবাদের মাধ্যমে বিকাশ লাভ করতে থাকে। তবে আসলে এর বিশ্বায়ন যেটা তা শুরু হয় রোমান্টিক যুগে। এর আগেও গ্যাটের মধ্যেও দেখা যায় এই শিল্পের বিশ্বায়নের– ‘শকুন্তলা’ অনুবাদের মধ্য দিয়ে।

জাহিদ সোহাগ : আচ্ছা স্যার, এলিয়টকে কি আমরা পুরোপুরি ধার্মিক হিসেবে আখ্যায়িত করতে পারি কিনা?
কায়সার হক : হ্যাঁ, বলা যায়। তবে শুরুতেই তিনি পুরোপুরি ধার্মিক ছিলেন না। পরে হয়েছেন।

জাহিদ সোহাগ : তার মানে বলা যায় যে, তিনি নাস্তিক ছিলেন না। কিন্তু আধুনিকতার সঙ্গে তো ধর্মীয় বিশ্বাস...?
কায়সার হক : একটা মজার ব্যাপার হলো, এলিয়ট নিজেই কিন্তু পরে বেশ ধার্মিক হয়ে গেল। অডেনও তো ধার্মিক হয়ে গেল। ধর্মীয় চেতনা  কিন্তু সমকালীন কবিতাতে বেশ প্রবল। ধর্মীয় মানে একটা বিশেষ ধর্মকে অন্ধভাবে কল্পনা করা তা নয়। বিভিন্ন ধর্মের চেতনা এখানে প্রবলভাবে কাজ করে বলে আমি মনে করি। তবে বিট জেনারেশনের উপর এই ধর্মীয় চেতনার প্রভাব বেশ প্রবলভাবে পড়েছে। যেমন ধরো, জেমস্ জাপানে গিয়ে কতদিন কাটিয়েছে, ভারতে কতদিন কাটিয়েছে।

জাহিদ সোহাগ : আমি দেখলাম এলিয়টদের তুলনায় রবীন্দ্রনাথের একটা জায়গায় আধুনিকতার লক্ষ করা যায়। সেটা হচ্ছে রবীন্দ্রনাথ শুরু থেকেই তাঁর কবিতায় জীবনদেবতার অনুসন্ধান করেছেন। কিন্তু শেষ কবিতায় ‘প্রথম দিনের সূর্য/ প্রশ্ন করেছিল/ সত্ত্বার নতুন/ আবির্ভাবে/ কে তুমি?/ মেলেনি উত্তর…’ ঐ জায়গাটায়। এখানে তিনি পুরোপুরি একটা সংশয়বাদীতার মধ্যে পড়ে গেছেন। অর্থাৎ তিনি পুরোপুরি তাঁর জীবনদেবতাকে বিশ্বাস করে মরতে পারেননি। কিন্তু এলিয়টরা প্রথমদিকে নিরিশ্বরবাদী আবার পরে গিয়ে আত্মসমর্পণ করলো। এ ব্যাপারটা আপনি কীভাবে দেখেন?
কায়সার হক : রবীন্দ্রনাথের শেষ যে কবিতাটা ওটা আমার তেমন ভালোভাবে পড়া নেই। তবে সংশয় আধুনিক সময়েরই একটা তোলপাড় করা বিষয়। আমি বলবো যে, আধুনিক সময়ের এক ধরনের রিয়াকশনই হচ্ছে সংশয়। শুধু আধুনিককালেই নয় এ সংশয়টা ঋকবেদেও আছে। ওখানে হয়তো কোনো প্রশ্নের উত্তর স্রষ্টা জানেন হয়তো জানেন না, এরকম একটা কিছু আছে। আমার ঠিক এখন ঐভাবে মনে পড়ছে না। এটা আমি আমার এক কবিতায় ব্যবহার করেছি। প্রথমে সৃষ্টি তারপরে দেব-দেবীরা আসলেন।

জাহিদ সোহাগ : তার মানে আপনি বলতে চান যে, রবীন্দ্রনাথ এই ব্যাপারটা (সংশয়) দ্বারা...
কায়সার হক : এগুলো জানতে হচ্ছে। তবে ঐ সময়টা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ শুরু হয়েছে তখন ‘দ্যা ক্রাইসিস ইন সিভিলাইজেশন’ প্রবন্ধ, ঐটাও একটা বিশেষ পরিস্থিতির রিয়াকশন বলে আমি মনে করি।

জাহিদ সোহাগ : তার মানে ঈশ্বর বিশ্বাস নিয়ে বলা যাবে না?
কায়সার হক : নাহ্। কারণ এই সংশয়টা কিন্তু ধর্মের ভেতরে অন্তর্গত। রোমান ক্যাথলিসিজমে ডাউট একটা গুরুত্বপূর্ণ জিনিস। ধরে নেওয়া হয় যে, সবার মধ্যেই ডাউট জাগবে। যারা নাকি প্রাদ্রি হয় এদেরকে বলা হয় ডাউটিজমি এ্যানিমি। এছাড়াও এটা ন্যাচারাল যে, তোমার ডাউট হবে এবং এ ডাউটকে তুমি ওভারকাম করবে। সুতরাং এই ডাউট জিনিসটা কিন্তু ধর্মের ভিতর আছে।

জাহিদ সোহাগ : স্যার, আপনার কবিতায় এলিয়ট কিভাবে আছে?
কায়সার হক : না, যদিও প্রথমদিকে এলিয়ট পড়তাম খুব। কিন্তু সরাসরি ওরকম প্রভাব নেই। তবে এলিয়টে নাগরিক বা নগরের যে প্রভাব আছে তার প্রভাব বা নগরের প্রভাব পাওয়া যাবে আমার কবিতায়। ছন্দের মধ্যে আছে যদিও আমি ডিসিপ্লিন ছন্দ খুব একটা ব্যবহার করি না। তবে সরাসরি প্রভাব না থাকলেও কিছুটা প্রভাব আছে।

জাহিদ সোহাগ : উত্তরাধুনিক কবি যারা তাদের ধ্যান-ধারণার সঙ্গে এলিয়টীয় যে আধুনিকতা তার খুব বেশি পার্থক্য কী আছে?
কায়সার হক : কবিতায় উত্তরাধুনিকতা আসলে সে অর্থে তেমন আসে নাই বা পাওয়া যায় না। উত্তরাধুনিকতা এই ধারণাটা কবিতার ক্ষেত্রে খুব বেশি আসে নাই।

জাহিদ সোহাগ : পশ্চিমবঙ্গে তো একটা আন্দোলনই ছিলো ‘হাংরি জেনারেশন’ যারা নিজেদের পোস্ট-মডার্ন কবি মনে করতো...
কায়সার হক : ‘হাংরি জেনারেশন’-এর কবিরা তো রোমান্টিক ছিলো। তবে আধুনিকতার পরে যেহেতু সেদিক থেকে এরা কিছুটা উত্তরাধুনিক ছিলো বলে ধারণা করা হয়। ওই যে বলেছিলাম বিট জেনারেশন ওরা এলিয়ট থেকে সরে গিয়ে একটা আলাদা যেটাকে বলা যায় আধুনিক রোমান্টিক ধাঁচ যেখানে গিন্সবার্গ...।

ইয়াসমিন ইতি : আমার প্রশ্ন হচ্ছে টি.এস.এলিয়ট নিজে নাকি তাঁর নিজের ‘ফোর কোয়ার্টেটস্’-কে সেরা সৃষ্টি বলে মনে করেছে এবং সেটার জন্যই তাঁকে ‘নোবেল পুরস্কার’ দেওয়া হয়। কিন্তু এলিয়টকে যারা খুব একটা জানেনও না, তারাও যতটুকু জানেন তার ‘ওয়েস্ট ল্যান্ড’-এর জন্য জানে।
কায়সার হক : বিশের দশককে আধুনিকতার চূড়ান্ত সময় বলা হয়। ওই সময়ে কিছু কিছু কালজয়ী যেমন এলিয়টের ‘ওয়েস্ট ল্যান্ড’, প্রুস্তের ‘ইনসার্চ অফ টাইম পাস’, টমাস মাউনের ‘ ম্যাজিক মাউন্টেইন’ প্রভৃতি। তবে আমি মনে করি আধুনিকতাবাদ বুঝতে হলে এলিয়েটের ‘ওয়েস্ট ল্যান্ড’-কে পড়া উচিত। কিন্তু ‘ওয়েস্ট ল্যান্ড’ ড্রামাটিক পোয়েট্রি, যার আসল রূপ ছিলো নাটকের মতো। প্রথমে ভাবছিলো রেডিও ভয়েসের নাটক হবে। ঠিক চরিত্র না, কতকগুলো ভয়েস থাকবে।

জাহিদ সোহাগ : আধুনিক সাহিত্যের চর্চা যদিও আমাদের দেশে তিরিশের দশক থেকে শুরু হলো কিন্তু এর পরে আধুনিক ধ্যান-ধারণার বাইরেও কিন্তু বিশেষ করে জসীম উদ্দীন যাঁকে আমরা পল্লীকবি হিসেবে আখ্যায়িত করে থাকি, তিনি পুরোটাই পল্লী নিয়ে কাজ করেছেন কিন্তু সেই পল্লীর মধ্যে আধুনিকতাবোধের তেমন কোনো ছোঁয়া পাওয়া যায় না। অন্যদিকে আল মাহমুদে গ্রামীণ আবহ থাকলেও সেখানে কিন্তু আধুনিকতাবোধ আছে। কিন্তু এই জসীম উদ্দীনকে সামনে রেখেই আমাদের এখানে সমসাময়িকেরা একধরনের চর্চা করেন যে, তারা আধুনিক কবি নন, তারা মনে করেন যে আধুনিকতা হচ্ছে সাম্রাজ্যবাদীদের চাপিয়ে দেওয়া একটা বিষয়। এর বাইরে জসীম উদ্দীনকে আদর্শ ধরে যেহেতু আমাদের যাপিত জীবন নাগরিক, নগর জীবনের সংশ্লেষ ইত্যাদি থাকে। এই জায়গাটাকে কি পলায়নপর বলা যায় কিনা?
কায়সার হক : এটা কিন্তু তোমার আধুনিক বেষ্টনের বাইরে না। কারণ পলাশীর আগে কিন্তু এধরনের কবিতা আমাদের দেশে ছিলো না। অর্থাৎ জসীম উদ্দীনের কবিতা ইংরেজরা আসার আগে ছিলো না, এবং গ্রামীণ যে ফোক সংস্কৃতি আমি দেখেছি এটাও কিন্তু ওই আধুনিকতার পর। ইংরেজি কবিতায় তোমার যেমন জর্জিয়ান মুভমেন্টটা ছিলো; জর্জিয়ান কবিরা গ্রামীণ জীবন নিয়েই লিখতো। এটা লেখার কারণ হচ্ছে আধুনিকতার যে ইয়ে আছে ঠিক আমার এটা ভালো লাগছে না। এলিয়টও কিন্তু ক্রিটিসিজম করতো আধুনিক সভ্যতার যে সমস্যাগুলো আছে তা নিয়ে। জসীম উদ্দীনও ঠিক ওই জায়গা থেকেই নগর থেকে বেরিয়ে অর্থাৎ ভালো না লাগার ব্যাপার থেকেই আমি একটু অন্য কিছু করি। কিন্তু তিনি যে ধাঁচের বা মানের কবিতা লিখছেন এটা কিন্তু আধুনিক শিক্ষা, উপনিবেশবাদের আগে আমাদের দেশে লেখা হয় নাই।

জাহিদ সোহাগ : তাঁর লেখায় গ্রামীণ মানে সমান্তবাদী একটা সমাজ দেখতে পাই। আধুনিকতা কোথায়?
কায়সার হক : সেটা কিন্তু আমাদের ট্র্যাডিশনাল সোসাইটিতেও ছিলো এবং আধুনিককালেও এটা আছে। এবং তিনি যে এটা এইভাবে দেখিয়েছেন এটারও কিন্তু মূল্য আছে। আমার মনে হয় এটা আধুনিকতার ভেতরেরই একটা ভিন্ন ধরনের প্রচেষ্টা।

জাহিদ সোহাগ : হুমায়ূন আজাদ একটা কথা প্রায়ই বলতেন, আধুনিক কবিতার সঙ্গে নিরিশ্বরবাদিতার বিষয়টি জড়িত। যে কারণে তাঁর আধুনিক বাংলা কবিতার যে সংকলন সেখানে আল মাহমুদকে রাখেননি; আল মাহমুদের ধর্মীয় বিশ্বাসের কারণে। অথচ আপনি বললেন যে, এলিয়টসহ আরো অনেক বড় বড় কবিরা ধর্মে বিশ্বাসী ছিলেন। তাহলে তাঁর এই বিবেচনাটা আমরা কীভাবে দেখবো বা আধুনিকতার সঙ্গে ঈশ্বরকে রাখতে পারি কিনা?
কায়সার হক : বহু আধুনিক কবি আছেন যাদের মধ্যে ঈশ্বর আছে, ধর্ম আছে এবং আধ্যাত্মিকতা আছে।

জাহিদ সোহাগ/ ইয়াসমিন ইতি : স্যার, আজকের আলাপ অসম্পূর্ণ থেকে গেল, এই বিষয় মানে ধর্ম নিয়ে আর একদিন কথা বলতে পারবো আশা করি। আমাদের সময় দেবার জন্য আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ
কায়সার হক : তোমাদেরও ধন্যবাদ। ভালো থেকো।

 


 

 

***বাংলা ট্রিবিউনে প্রকাশিত কোনও সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ। অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করলে কর্তৃপক্ষ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।