রাত ০৯:৫৭ ; শুক্রবার ;  ১৮ অক্টোবর, ২০১৯  

কুনিও হত্যাকাণ্ড, রিমান্ডে থাকা আসামিদের তথ্য ধরেই চলছে তদন্ত

প্রকাশিত:

রংপুর প্রতিনিধি।।

রংপুরে খুন হওয়া জাপানি নাগরিক ওসি কুনিও হত্যাকাণ্ডের রহস্য উন্মোচনে তার ব্যবসায়ীক অংশীদার হুমায়ুন কবির হীরার সন্দেহজনক আচরণের সূত্র ধরে তদন্ত চালানো হচ্ছে। এছাড়া রিমান্ডে থাকা বিএনপি নেতা রশিদুন্নবী খান বিপ্লবের কাছ থেকে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে বলেও দাবি করেছে পুলিশের একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র। হীরা বর্তমানে ১০ দিনের রিমান্ডে রয়েছেন।

তবে কঠোর গোপনীয়তা রক্ষা করেই তদন্ত কাজ চালিয়ে যাচ্ছে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিভিন্ন সংস্থা।

বুধবার সন্ধ্যা পর্যন্ত কুনিওর মৃতদেহ সংশ্লিষ্ট জাপানি কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তরের কোনও সিদ্ধান্ত হয়নি।

এদিকে বুধবার দুপুরে পৌঁনে ১২টার দিকে কঠোর গোপনীয়তার মধ্য দিয়ে জাপানি প্রতিনিধি দল দোভাষী আব্দুর রহমানের নেতৃত্বে রংপুর পুলিশ সুপারের সঙ্গে দেখা করে রুদ্ধদ্বার বৈঠক করেন। পরে তারা জেলা ও দায়রা জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) আব্দুল মালেকের সঙ্গেও বৈঠকে বসেন। যদিও বৈঠক শেষে গণমাধ্যমের সামনে আসেননি তারা। তবে পিপি আব্দুল মালেক সাংবাদিকদের জানান,কুনিও হত্যা মামলা সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয় এবং আইন সম্পর্কে জাপানি প্রতিনিধি দলের সঙ্গে তার আলোচনা হয়েছে। জাপানি প্রতিনিধি দলটি তদন্ত কাজে অগ্রগতি সম্পর্কে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। খুব দ্রুতই এই হত্যা রহস্য উন্মোচিত হবে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।

জাপানি প্রতিনিধি দলটিতে ছিলেন, কূটনীতিক জাকা ইউকি কাওয়াকিনি,প্রধান নিরাপত্তা কর্মকর্তা কিনজু ও চিকিৎসক কারসিয়া মাজিয়াসহ দেশটির চার পুলিশ সদস্য ফুল গোরি,নাওকি ইয়াসি কাওয়া,ইয়োসি তাকা ইয়ামাতা এবং সুয়া মাসকা।

এর আগে কঠোর গোপনীয়তার মধ্য দিয়ে মঙ্গলবার রাত সোয়া ৮টার দিকে রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল মর্গে কুনিওর লাশ পর্যবেক্ষণের জন্য আসেন জাপানের ৪ সদস্যের প্রতিনিধি দল। তাদের সঙ্গে ছিলেন রংপুর মেডিক্যাল কলেজের অধ্যক্ষ ডা. জাকির হোসেন,এএসপি আব্দুল্লাহ আল ফারুক,ফরেনসিক বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ডা. রফিকুল ইসলাম।

এদিকে পুলিশের একটি সূত্র নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানায়,রিমান্ডে থাকা রংপুর মহানগর বিএনপির সদস্য ও স্বেচ্ছাসেবক দলের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি হাবিব উন নবী খান সোহেলের ভাই রাশেদ উন নবী খান বিপ্লব জিজ্ঞাসাবাদে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছেন।

মামলা সূত্রে জানা যায়,রংপুরে আসার পর হুমায়ুন কবির হীরার সঙ্গে কুনিও মোটরসাইকেলে করে কাউনিয়ার সারাই ইউনিয়নের আলুটারী এলাকার ঘাস প্রকল্পে আসতেন। ঘটনার দুদিন আগে থেকে হীরাকে ছাড়াই তিনি মোন্নাফের রিকশায় যাতায়াত শুরু করেন। তদন্তের জন্যে এটিকেও গুরুত্বপূর্ণ সূত্র বলে মনে করা হচ্ছে।

প্রসঙ্গত, গত ৩ অক্টোবর সকাল ১০টার দিকে রংপুরের কাউনিয়া উপজেলা সারাই ইউনিয়নের আলুটারি এলাকার খোকা মিয়ার বাসার সামনে দুর্বৃত্তদের গুলিতে খুন হন ওসি কুনিও।

এ ঘটনায় কাউনিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রেজাউল করিম বাদি হয়ে অজ্ঞাত তিনজনকে আসামি করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। এ মামলার তদন্ত কর্মকর্তা হলেন ওই থানার ওসি মামুনুর রশিদ। এছাড়াও এই হত্যা রহস্য উন্মোচনে ডিআইজি,পিবিআই,র‌্যাবসহ বিভিন্ন সংস্থার প্রধান ও জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের নিয়ে একটি পাঁচ সদস্যের বিভাগীয় তদন্ত দল গঠন করা হয়েছে।

/এইচকে/এসএম/

***বাংলা ট্রিবিউনে প্রকাশিত কোনও সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ। অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করলে কর্তৃপক্ষ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।