সকাল ১০:১৪ ; সোমবার ;  ২২ জুলাই, ২০১৯  

লবণের ভালোবাসা সত্যি তো!

পুষ্টিবিদের পরামর্শ

প্রকাশিত:

লাইফস্টাইল ডেস্ক।।

পুষ্টিবিদ আদিবা ফারজিন

আমরা যে লবণ খেয়ে থাকি তা হচ্ছে সোডিয়াম ক্লোরাইড। তার সাথে আয়োডিন ও যুক্ত থাকে। লবণ খাবারকে সুস্বাদু ও সংরক্ষণে সাহায্য করে। খুব অল্প পরিমান লবণই প্রত্যেকটি জীবন্ত কোষে প্রয়োজন হয় শরীরের পানি ভারসাম্য রক্ষায় বা নার্ভাস সিস্টেমের সুস্থতায়। চাহিদার অতিরিক্ত লবণ সেবনে বিভিন্ন সমস্যা হয়ে থাকে। আজ অতিরিক্ত লবণের কুফল সম্পর্কে বলছেন পুষ্টিবিদ আদিবা ফারজিন।

স্বল্পমেয়াদী কুফল:

অল্প সময়ে বেশি লবণ গ্রহণের ফলে মাংসপেশিতে ব্যাথা,ঘোর ঘোর লাগা, ইলেক্ট্রোলাই ডিস্টারবেন্স হয়ে যায়। এগুলোর ফলে নিউরোলজিকাল প্রবলেম, এমনকি মৃত্যুও হতে পারে!

দীর্ঘমেয়াদি কুফল:

  • বেশি ওজন, কম পরিশ্রম এবং বেশি বেশি  লবণ খাওয়ার ফলে যেকোনও বয়সেই উচ্চ রক্তচাপ হতে পারে।
  • স্ট্রোক উচ্চ রক্তচাপ থেকে হয়। আর উচ্চ রক্তচাপের একটা প্রধান কারণ হল লবন।
  • রক্তচাপ বেশি হলে বিভিন্ন করোনারি হৃদরোগও হতে পারে।
  • খাবারের সাথে অতিরিক্ত লবণ পাকস্থলীতে ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়ায়।
  • লবণ বেশি খেলে হাড় থেকে ক্যালসিয়াম প্রস্রাবের সাথে বের হয়ে হাড়কে দুর্বল করে। আর এ থেকে বয়স্কদের হাড় ভাঙ্গা ও অস্টিওপরোসিস বেড়ে যায়।
  • অবেসিটি বা স্থুলতার জন্য পরোক্ষভাবে দায়ী লবণ।
  • অতিরিক্ত লবণ ও উচ্চ রক্তচাপ উভয়ই কিডনিতে পাথরসহ অন্যান্য কিডনি সংক্রান্ত রোগের ঝুঁকি বাড়ায়।
  • অনিয়ন্ত্রিত রক্তচাপ বা স্ট্রোক  করলে মস্তিষ্কের বিভিন্ন কার্যকলাপ যেমন-স্মৃতিশক্তি, চিন্তা চেতনা, ভাষা, আচার ব্যবহার প্রভৃতির   উপর প্রভাব ফেলে। কিন্তু লবণ কম খেলে এসব থেকে পরিত্রাণ পাওয়া যেতে পারে।
  • অতিরিক্ত লবণ শরীরে পানি (প্রায় ১.৫ লিটার)ধরে রাখে  ওয়াটার রিটেনশন। তাই লবণ খাওয়া কমালে নেফ্রোটিক সিনড্রোম, হার্ট ফেইল এবং লিভারের রোগ কমে যায়।  
  • অ্যাজমার সঙ্গে লবণের সরাসরি সম্পর্ক না থাকলেও অ্যাজমা আক্রান্ত শিশুদের লবণ কম খাওয়ান উচিৎ।
  • লবণ রক্তচাপ বাড়িয়ে দেয় যা ডায়াবেটিস হওয়ার ঝুঁকি এবং ডায়বেটিক রোগীদের দীর্ঘমেয়াদি জটিলতা বৃদ্ধি করে।

কাদের লবণ কম খাওয়া উচিৎ:

  • যাদের বয়স ৫০-এর উপরে
  • উচ্চরক্ত আছে
  • ডায়বেটিক রোগীর

লবণের চাহিদা:

বয়সের ভিত্তিতে প্রতিদিন ১৫০০-২৩০০ মিলিগ্রাম সোডিয়াম অর্থাৎ ৩৭৫০-৫৭৫০ গ্রাম লবণ প্রয়োজন ।

সুতরাং ভাতের সাথে আলাদা লবণ, আচার, চিপস, প্রক্রিয়াজাত খাবার না খাওয়া উচিৎ। 

 

 

আরএফ 

***বাংলা ট্রিবিউনে প্রকাশিত কোনও সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ। অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করলে কর্তৃপক্ষ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।