সকাল ১০:০৭ ; শুক্রবার ;  ১৯ জুলাই, ২০১৯  

জাপান-যুক্তরাষ্ট্রসহ ১২ দেশের মধ্যে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি

প্রকাশিত:

বিজনেস ডেস্ক।।

বিগত ৫ বছরে নানা তিক্ততা ও উত্তেজনাপূর্ণ আলোচনা শেষে যুক্তরাষ্ট্র ও জাপানসহ ১২টি দেশের মধ্যে ট্রান্স-প্যাসিফিক পার্টনারশিপ (টিপিপি) চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। তবে, চুক্তিটি কার্যকরে সংশ্লিষ্ট পক্ষসমূহের নিজ নিজ দেশে অনুমোদন পেতে হবে।

পাঁচ দিনের আলোচনা শেষে যুক্তরাষ্ট্রে আটলান্টায় মঙ্গলবার এ মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।    

চুক্তি স্বাক্ষর করা অপর দেশগুলো হচ্ছে নিউজিল্যান্ড, সিঙ্গাপুর, অস্ট্রেলিয়া, কানাডা, ব্রুনাই, চিলি, মালয়েশিয়া, মেক্সিকো, পেরু ও ভিয়েতনাম।

চুক্তির আওতায় অংশীদার দেশগুলো শুল্কগত বাধা নিরসনের পাশাপাশি ব্যবসা-বাণিজ্যে একটি সাধারণ নীতি অনুসরণ করবে। এতে দেশগুলো মধ্যে ব্যবসায়িক অংশীদারিত্ব বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।

কেননা, বিশ্ব অর্থনীতি ৪০ শতাংশ এ দেশগুলোর দখলে। আর এ ১২টি দেশের মোট জনসংখ্যা ৮০ কোটি।

টিপিপি স্বাক্ষরকে একটি বড় ধরনের অর্জন উল্লেখ করে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা বলেন, চুক্তিবদ্ধ দেশগুলোর কৃষক, খামারী ও উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের জন্য সমান সুযোগ (লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড) তৈরি হবে।

তিনি আরও বলেন, এর ফলে চুক্তিবদ্ধ দেশগুলোর পণ্যের ওপর আরোপিত প্রায় ১৮ হাজার ধরেনর শুল্কের সংখ্যা ও পরিমান কমে আসবে।

জাপানের প্রধানমন্ত্রী সিনজো আবে বলেন, এটি শুধু জাপানের নয়, পুরো এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের দেশসমূহের জন্য একটি বড় অর্জন।

তবে, যুক্তরাষ্ট্রের সিনেটর এবং ডেমক্রেটিক পার্টির প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থী বারনাই সেন্ডার্স চুক্তির সমালোচনা করেছেন। তিনি বলেন, এ চুক্তির ফলে পুঁজিবাদী ও বড় করপোরেট প্রতিষ্ঠানগুলোর আবারও জয় লাভ করেছে।

তিনি আরও বলেন, এতে বড় ধরনের কর্মসংস্থান সংকট তৈরি হবে আমেরিকায়। ক্ষতিগ্রস্থ হবেন ভোক্তারাও।

এ চুক্তি যাতে কংগ্রেসে অনুমোদন না পায়, সে জন্য সব ধরনের চেষ্টা তিনি করবেন বলেও জানিয়েছেন।

এদিকে, টিপিপি-তে বেশ কিছু অমীমাংসিত বিষয়ের মধ্যে উল্লেখযোগ্য একটি হচ্ছে ওষুধ কোম্পানিগুলোর উৎপাদিত পণ্যের ওপর একক নিয়ন্ত্রণ। যুক্তরাষ্ট্র এক্ষেত্রে একক নিয়ন্ত্রণের সময়সীমা ১২ বছর চাইছে। অপরেদিকে অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড ও কয়েকটি দেশের গণস্বাস্থ্য বিষয়ক সংস্থা এ সীমা ৫ বছর রাখার পক্ষে। ফলে বিষয়টি অমীমাংসিত রেখেই চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।   

এ ছাড়া, চুক্তিটিকে ঘিরে বেশ কিছু বিষয় নিয়ে আশঙ্কা এবং উদ্বেগের রয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে শুল্ক মুক্ত সুবিধার আওতায় গাড়ি উৎপাদনের সংখ্যা, কৃষি, কানাডা বাজারে দুধ ও দুগ্ধজাত পণ্য ও পোল্ট্রি শিল্পের সুরক্ষা, চাকরি চ্যুতি।

উল্লেখ্য, ব্রুনাই, চিলি, নিউজিল্যান্ড ও সিঙ্গাপুরের মধ্যে এক দশক আগে প্রথম এ চুক্তি সই হয়েছিল।

/এফএইচ/

***বাংলা ট্রিবিউনে প্রকাশিত কোনও সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ। অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করলে কর্তৃপক্ষ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।