রাত ০১:৫৫ ; রবিবার ;  ২৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২০  

আভিজাত্য ও স্বাদের সমন্বয়

রেস্টুরেন্ট রিভিউ- ওয়াটারক্রেস

প্রকাশিত:

লাইফস্টাইল প্রতিবেদক।।

সবুজের আবহে ঘেরা প্রবেশ পথটি। ভেতরে ঢুকতেই পাশ্চাত্যের ঢঙে সাজানো ছিমছাম পরিবেশে মুগ্ধ হতে হয়। আর সঙ্গে যদি থাকে রুচিশীল খাবার ও চমৎকার আপ্যায়ন রীতি, তাহলে তো কথাই নেই! কথা হচ্ছে ওয়াটারক্রেস রেস্টুরেন্টের। তেজগাঁও-গুলশান সংযোগ সড়কে অবস্থিত শান্তা ওয়েস্টার্ণ টাওয়ারে মিলবে ওয়াটারক্রেস রেস্তোরাঁর দেখা। অলিভ ট্রি ফুডস লিমিটেড- এর মালিকানায় পরিচালিত রেস্টুরেন্টটি যুক্তরাষ্ট্র্রের লস এঞ্জেলেসভিত্তিক আন্তর্জাতিক খাদ্য ও পানীয় প্রতিষ্ঠান কোম্পানি দ্য নেক্সট আইডিয়ার একটি কনসেপ্ট। ২০১৩ সালে বাংলাদেশে যাত্রা শুরু করে ওয়াটারক্রেস।

কন্টিনেন্টাল, থাই, জাপানিজ, চাইনিজ- সবই খুঁজে পাওয়া যাবে রেস্টুরেন্টটির মেন্যুতে। ওয়াটারক্রেস- এর বিশেষত্ব কী? প্রতিষ্ঠানটির হেড অব মার্কেটিং জিতু আহসান বললেন, ‘এখানে এসে একদম নিশ্চিন্তে খেতে পারবেন। এটাই বিশেষত্ব!’ একদম নিশ্চিন্তে মানে? জিতু খোলাসা করে বলেন, এখানে তৈরি করা প্রতিটি খাবার একদম ফ্রেশ। স্বাস্থ্যকর খাবার ওয়াটারক্রেসের সবচেয়ে বড় বিশেষত্ব। প্রতিদিনের খাবার এখানে প্রতিদিন তৈরি করা হয়। তাছাড়া স্বাদ নিয়েও কোন ধরনের ছাড় দিতে রাজি নয় ওয়াটারক্রেস।
 

একটি নতুন খাবার নিয়ে আসার আগে সেটি নিয়ে চালানো হয় ব্যাপক নিরীক্ষা। মেন্যুতে যোগ করার আগে রেসিপিটি যুক্তরাষ্ট্রে পাঠানো হয়। সেখান থেকে কোনও অভিযোগ পাওয়া না গেলে সেটি ওয়াটারক্রেসের আরএনডি টিম চেখে দেখে। কারোর যদি কোনও ধরনের অভিযোগ থাকে তাহলে সে অনুযায়ী পরিবর্তন করা হয় রেসিপি। এভাবে অনেক ধরনের নিরীক্ষার পর তবেই খাবারটি ঠাঁই পায় ক্রেতার টেবিলে। শুধু খাবার নয়, চেয়ার টেবিল থেকে শুরু করে ওয়াটারক্রেসের প্রতিটি উপকরণেই রয়েছে যত্নের এ ছাপ। জিতু জানান, ম্যানেজিং ডিরেক্টর শেখ আফতাব আহমেদ একজন ভোজনবিলাসী মানুষ। তিনি নিজে খেতে পছন্দ করেন। আর পছন্দ করেন মানুষকে খাওয়াতে। আরেকটা মজার ব্যাপারও জানা গেলো। কেউ ওয়াটারক্রেস- এর খাবার খেয়ে যদি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অভিযোগ করেন, তাহলে তার সঙ্গে যোগাযোগ করা হয় এবং খাবারটি আবার পরিবেশন করা হয় বিনামূল্যে! কারণ হিসেবে জিতু জানান, ‘ওয়াটারক্রেস-এর প্রতিটি খাবার ফ্রেশ এবং সুস্বাদু। যদিও সবার পছন্দ একরকম নয়। কিন্তু খুব বাজে বলার মতো খাবারও অবশ্যই না, এ আত্নবিশ্বাস আমাদের আছে। তাই এ ধরনের অভিযোগ আসলে আমরা সম্মানের সঙ্গেই অভিযোগকারীকে অনুরোধ করি যেন তিনি খাবারটি আরেকদিন এসে খেয়ে যান। হয়তো সেদিন কোনও কারণে তার খেতে ইচ্ছা করছিলো না বলে স্বাদ ভালো লাগেনি!’   

ওয়াটারক্রেস-এ সববয়সী গ্রাহকের আনাগোনা দেখা গেলেও পরিবার-পরিজন নিয়ে মানুষ খেতে আসেন বেশি। পাশাপাশি কর্পোরেট মিটিংও হয় প্রায়ই। মার্কেটিং সিনিয়র এক্সিকিউটিভ রাইয়ান জামান জানালেন চমৎকার এক সুযোগের কথা। প্রতিদিন বিকাল ৪ টা থেকে সন্ধ্যা ৭ টা পর্যন্ত ওয়াটারক্রেস-এর হ্যাপি আওয়ার। এ সময় গ্রাহকরা বেশিরভাগ খাবারই পাবেন একদম অর্ধেক দামে। চাইলে হ্যাপি আওয়ারে বাসার জন্য নিয়ে যেতে পারেন রকমারি খাবার।

কথা বলতে বলতেই টেবিলে আসতে থাকলো খাবার। ফ্রাইড রাইসের পাশাপাশি মজাদার চিকেন ইনভলটিনি, গাডো গাডো সালাদ, ধোঁয়া ওঠা গ্রিলড প্রণ, ভিয়েতনামিজ বারবিকিউ বিফ, বিশাল আকারের ওয়াটারক্রেস চিকেন সুপ্রিম পিৎজাসহ বিভিন্ন খাবারে চলে এলো টেবিলে। প্রতিটি খাবারই স্বাদের ভিন্নতায় অনন্য।

ওয়াটারক্রেস রেস্টুরেন্টের নির্বাহী শেফ হিসেবে কর্মরত আছেন সৈয়দ তোজাম্মেল হক তারেক। তিনি জানালেন খাবারের মান ও পরিবেশ নিয়ে কোন ধরনের অভিযোগ করার সুযোগ গ্রাহকরা যেন না পান, সেভাবেই রান্না থেকে শুরু করে প্রতিটি কাজ করা হয় এখানে।    

নির্বাহী শেফ সৈয়দ তোজাম্মেল হক তারেক

লাঞ্চ শেষ করে গল্প করতে করতে যদি পেরিয়ে যায় বেশ খানিকটা সময়, তবে যাওয়ার সময় একবার ঢুঁ মারতে পারেন নীচতলার অরেঞ্জ হাফ ক্যাফেতে। একই মালিকানায় পরিচালিত ক্যাফেটির গরম কফি কিংবা স্ন্যাকসে মুহূর্তেই চাঙ্গা করে তুলবে আপনাকে। যাওয়ার সময় জিতু আহসান জানালেন, ওয়াটারক্রেস-এ একবার আসলে আপনাকে মুগ্ধ হতেই হবে। আর সেই মুগ্ধতার টানে ফিরে আসতে হবে বারবার!  

অরেঞ্জ হাফ ক্যাফে


রেস্টুরেন্ট রেসিপি

গ্রিলড জাম্বো প্রণ

উপকরণ:
চিংড়ি মাছ- ৬০০ গ্রাম
লবণ- স্বাদ অনুযায়ী  
গোলমরিচ- স্বাদ অনুযায়ী
লেবুর রস- ২০ মিলি লিটার
মরিচ কুচি- ৫ গ্রাম
রসুন কুচি- ২০ গ্রাম
হলুদ সরিষা- ৫ গ্রাম
অলিভ অয়েল- ২০ মিলি লিটার    

যেভাবে প্রস্তুত করবেন:
একটি পাত্রে চিংড়ি মাছসহ সব উপকরণ একসঙ্গে মিশিয়ে ২০-৩০ মিনিট ফ্রিজে রেখে দিন। প্যানে চিংড়ি রান্না করুন। প্রতিটি সাইড ২-৩ মিনিট করে ভাপে রাখতে হবে। গরম গরম পরিবেশন করুন।

 

ছবি: সাজ্জাদ হোসেন

/এনএ/

***বাংলা ট্রিবিউনে প্রকাশিত কোনও সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ। অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করলে কর্তৃপক্ষ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।