রাত ১১:১৮ ; বুধবার ;  ১১ ডিসেম্বর, ২০১৯  

অ্যাডভেঞ্চারে যাওয়ার আগে..

প্রকাশিত:

কুঞ্জ বিহারী।।

শরতের আকাশে সাদা মেঘের ভেলা ভাসছে। বছরের এই সময়টা উৎসব মুখর থাকে বলেই মন চাই সাদা মেঘের মতো ঘুরে বেড়াতে। বৃষ্টির ধারা ধুয়ে এরমধ্যেই সবুজ হয়ে উঠেছে পাহাড় আর বন-বনানি। শরতের শুভ্র আমেজ ও তার সৌন্দর্য যখন চারদিকে ম ম করছে তখন অভিযান প্রিয় তারুণ্য কি ঘরে বসে থাকতে পারে? সেজন্যই শুরু হয়েছে তারুণ্যের অভিযান মৌসুমের।

তবে অভিযানে যাব বল্লেইতো হয় না, তারজন্য নিতে হয় বেশ কিছু প্রস্তুতিও। নয়তো অচেনা অজানা পরিবেশ বিপদে পড়ে যাওয়ার সমুহ সম্ভাবনা থাকে। সেজন্যই পাহাড় কিংবা বন অথবা সাগর যাই হোক না কেনও কিছু প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম সঙ্গে নিতে হবেই। তবে দৈনন্দিন প্রয়োজনে আমাদের অনেক কিছুই লাগে। কিন্তু অভিযানে যাওয়ার সময় এমন কোনও সরঞ্জাম নেওয়া উচিত নয় যার ওজন অত্যন্ত বেশি। সেজন্য হালকা এবং সহজে বহনযোগ্য সরঞ্জামকেই অগ্রাধিকার দিতে হবে। এজন্য আজ রইলো ব্যাগপ্যাক গোছানোর কিছু টিপস...

ব্যাগপ্যাক:

অভিযানে যেখানেই যান কখনোই ট্রাভেল ব্যাগ না নেওয়াই সর্বাপেক্ষা বুদ্ধিমানের কাজ। যদি অভিযানটি হয় পাহাড়ে তাহলে তো সেখানে ট্রাভেল ব্যাগ নেওয়া প্রায় অপরাধের পর্যায়ে পড়ে। কারণ পাহাড়ে একটু চড়ার পরই দুই কেজি ওজনের ব্যাগটি হয়তো মনে হবে বিশ কেজির পাথর। তাই এক্ষেত্রে যেখানেই যান না কেনও কাঁধে ঝোলানোর মতো ব্যাগ নিন। সবচেয়ে ভালো হয় যদি সঙ্গে ব্যাগপ্যাক রাখেন। কারণ এতে অল্প জায়গাতেই বেশি জিনিস আটানো যায় সহজেই। যা বহন করাও সহজ। মাত্র ১৫০০-২৫০০ টাকার মধ্যে এসব ব্যাগ আপনি কিনতে পারবেন।

ব্যাগপ্যাক কাভার:

যেখানেই যান না কেনও এসময় হঠাৎ করেই আপনার আনন্দে হানা দিতে পারে বৃষ্টি। তাই ব্যাগের প্রয়োজনীয় জিনিসগুলো যাতে ভিজে না যায় তার জন্য সঙ্গে ব্যাগপ্যাক কভার রাখুন। এক হাজার থেকে ১৫’শ টাকার মধ্যে এই কভার কিনতে পারবেন।

ট্রাকিং কেডস:

পাহাড় বা জঙ্গলে হাঁটার জন্য অবশ্যই আপনার একজোড়া ট্রাকিং কেডস ব্যবহার করতে হবে। কারণ সাধারণ কেডস অনেক সময় ভেজা ঢালু মাটিতে গ্রিপ পায়না। ট্রাকিং কেডসের নিচে ছোট ছোট স্পাইক বা খাঁজকাটা থাকায় সেগুলো খুব সহজেই মাটি কামড়ে ধরে।

সানগ্লাস ও টুপি:

সমুদ্র বা পাহাড়ে প্রখর রোদ থেকে বাঁচতে অবশ্যই ব্যাগে পছন্দের সানগ্লাসটি ও একটি টুপি/হ্যাট রাখুন। যা আপনাকে চোখকে রোদের হাত থেকে বাঁচাবে।

ক্যামেরা:

প্রকৃতির বিমোহিত সৌন্দর্যের সামনে পড়লে যে জিনিসটির সবচেয়ে অভাববোধ করবেন তা হলো এর একটি চিত্র নিজের কাছে ধরে রাখা। সেজন্যই অভিযানে বের হওয়ার আগে অবশ্যই নিজের ক্যামেরাটি ব্যাগে ঢোকাতে ভুলবেন না।

টর্চ ও ম্যাচবক্স:

অভিযাত্রিকদের কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি জিনিস হলো টর্চ। তাই যাবার আগে ব্যাগে টর্চ ও তার জন্য পর্যাপ্ত ব্যাটারি নেবেন। সেইসঙ্গে জরুরি প্রয়োজনে আগুন জ্বালানোর জন্য পর্যাপ্ত ম্যাচবক্স সঙ্গে রাখুন।

ছোট ছুরি ও কম্পাস:

পাহাড়ে বা জঙ্গলে ট্রাকিংয়ে গেলে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি জিনিস হলো ছুরি। কোনও কিছু কাটা, ছেঁড়ার জন্য ছোট একটি ছুরি এখনই ব্যাগে ঢোকান। আর ট্রাকিংয়ে যেন পথ ভুল না হয়, সেজন্য দিকনির্ণয়ে একটি কম্পাসও সঙ্গে রাখতে পারেন।

এসব ছাড়াও আরও কিছু ছোট ছোট জিনিস অবশ্যই সঙ্গে রাখার চেষ্টা করবেন। যেমন-বড় পলিথিন, কাগজ-কলম, ভিজলে দ্রুত শুকিয়ে যায় এমন টি-শার্ট, রেইনকোট, দুই সেট হাফ প্যান্ট, এক জোড়া রাবারের স্যান্ডেল, ব্যক্তিগত জরুরি ওষুধপত্র, ছোট পানির পাত্র, ওডোমস মশার ক্রিম,ব্যাক্তিগত টুথপেস্ট/ ব্রাশ/ সাবান/ শ্যাম্পু।  
 

যেখানেই যান না কেনও অভিযাত্রীদের অবশ্যই কিছু কিছু জিনিসের প্রতি মনোযোগী হওয়া প্রয়োজন।  মনে রাখবেন, আপনার নিজের আনন্দের জন্য কোনওভাবেই প্রকৃতি ও বনের পশু-পাখিকে বিরক্ত করবেন না। কোনও প্রাণীকে মারতে চেষ্টা করবেন না। চলতি পথে স্থানীয় কোনও  জাতিগোষ্ঠীর দেখা পেলে তাদের সঙ্গে বন্ধুত্ব সম্পর্ক ছাড়াও সম্মান দেখাতে হবে শতভাগ। আর সঙ্গে এমন কিছু বহন করবেন না যা নিজের কাছে রাখা আইন বিরুদ্ধ (কোনও ধরনের মাদক/ আগ্নেয়াস্ত্র)।

 

আরএফ 

***বাংলা ট্রিবিউনে প্রকাশিত কোনও সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ। অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করলে কর্তৃপক্ষ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।