দুপুর ০৩:৩৩ ; সোমবার ;  ২০ মে, ২০১৯  

তিন মাসে আমদানি হচ্ছে প্রায় ৮ লাখ টন জ্বালানি তেল

প্রকাশিত:

বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট ॥

আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম কম থাকার সুযোগ নিয়ে চলতি বছরের ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে জ্বালানি তেলের মজুদ বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার।

এই সময়ের মধ্যে রাষ্ট্রীয় উদ্যোগে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশ বিশেষ করে মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কুয়েত, ফিলিপাইনসহ অন্যান্য দেশ থেকে প্রায় ৮ লাখ টনের মতো জ্বালানি তেল আমদানি করা হবে।  

জানা গেছে, বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিসিপি) প্রস্তুতকৃত এই পরিমাণ জ্বালানি তেল আমদানির প্রিমিয়াম নির্ধারণের দরপ্রস্তাব অনুমোদনের জন্য সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির পরবর্তী সভায় উপস্থাপন করা হবে।

জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের হিসাব অনুযায়ী, জুলাই-ডিসেম্বর প্রান্তিকে সারাদেশে জেট এ-১-এর চাহিদা রয়েছে ১ লাখ ৮৮ হাজার, ডিজেলের (গ্যাস অয়েল) চাহিদা রয়েছে ১৭ লাখ ২৫ হাজার টন, ফার্নেস অয়েলের চাহিদা রয়েছে ৫ লাখ ৯০ হাজার টন ও মোগ্যাস-এর চাহিদা হচ্ছে ৬৭ হাজার টন। বর্তমানে মজুদ রয়েছে সাড়ে ৮ লাখ টন। পাইপলাইনেও রয়েছে কয়েক লাখ টন জ্বালানি তেল।

জ্বালানি মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, ৩২ কোটি ৪৩ লাখ ডলার বা ২ হাজার ৫৪২ কোটি ৮১ লাখ টাকা ব্যয়ে কুয়েতের রাষ্ট্রীয় সংস্থা কুয়েত পেট্রোলিয়াম করপোরেশন থেকে ৫ লাখ ৭০ হাজার মেট্রিক টন জ্বালানি তেল ক্রয় করা হবে। এর জন্য মোট ব্যয় হবে এর মধ্যে ৪ লাখ ৫০ হাজার টন (৩৩ লাখ ৫৭ হাজার ব্যারেল) ডিজেলের মূল্য বাবদ ২৫ কোটি ১০ লাখ ডলার (১ হাজার ৯৬৭ কোটি ৩৪ লাখ টাকা) এবং  ১ লাখ ২০ হাজার টন (৯ লাখ ৬০ হাজার ব্যারেল) জেট এ-১-এর মূল্য বাবদ ৭ কোটি ৩৪ লাখ ডলার (৫৭৫ কোটি ৪৭ লাখ টাকা) পরিশোধ করতে হবে।

মালয়েশিয়ার পেটকো ট্রেডিং লাবুয়ান কোম্পানি লিমিটেড থেকে ১ হাজার ৪১৬ কোটি ৭৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ৩ লাখ ৫৫ হাজার টন জ্বালানি তেল ক্রয় করা হবে। এর মধ্যে ১ লাখ ৯৫ হাজার টন ডিজেলের মূল্য বাবদ ৮৬২ কোটি ৩২ লাখ টাকা, ৪০ হাজার টন জেট এ-১ -এর মূল্য বাবদ ১৯১ কোটি ৮২ লাখ টাকা এবং ১ লাখ ২০ হাজার টন ফার্নেস অয়েলের মূল্য বাবদ ৩৬২ কোটি ৬৪ লাখ টাকা পরিশোধ করতে হবে।

ফিলিপাইনের পেনোক এক্সপ্লোরেশন করপোরেশন থেকে ২ লাখ ১০ হাজার টন জ্বালানি তেল ক্রয় করা হবে। এতে ব্যয় ৮৫৯ কোটি ২৭ লাখ টাকা। এর মধ্যে ১ লাখ ৪১ হাজার টন ডিজেলের মূল্য বাবদ ৬২৩ কোটি ৫২ লাখ টাকা, ৯ হাজার টন মোগ্যাসের মূল্য বাবদ ৫৪ কোটি ৪৩ লাখ টাকা এবং ৬০ হাজার মেট্রিক টন ফার্নেস অয়েলের মূল্য বাবদ ১৮১ কোটি ৩২ লাখ টাকা পরিশোধ করতে হবে।

সংযুক্ত আরব আমিরাতের ‘আমিরাত ন্যাশনাল অয়েল কোম্পানি থেকে ৬৩৯ কোটি ৭৫ লাখ টাকা ব্যয়ে ১ লাখ ৭০ হাজার মেট্রিক টন জ্বালানি তেল ক্রয় করা হবে। এর মধ্যে ৯০ হাজার মেট্রিক টন ডিজেলের মূল্য বাবদ ৩৯৭ কোটি ৯৯ লাখ টাকা এবং ৮০ হাজার মেট্রিক টন ফার্নেস অয়েলের মূল্য বাবদ ২৪১ কোটি ৭৬ লাখ টাকা পরিশোধ করতে হবে।

/এসআই/এফএইচ/

***বাংলা ট্রিবিউনে প্রকাশিত কোনও সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ। অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করলে কর্তৃপক্ষ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।