রাত ১০:০৯ ; শুক্রবার ;  ১৮ অক্টোবর, ২০১৯  

তিস্তায় ভাঙন শুরু : বসতভিটাসহ বিদ্যালয় নদী গর্ভে

প্রকাশিত:

লালমনিরহাট প্রতিনিধি।।

লালমনিরহাটের হাতীবান্ধার ডাউয়াবাড়ী এলাকায় তিস্তার ভাঙনে বসতভিটাসহ স্কুলভবন নদী গর্ভে বিলীন হয়ে যাচ্ছে। ডাউয়াবাড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি ২৮ সেপ্টেম্বর সোমবার সকালে ভাঙন শুরু হয়। ওইদিন বিকেল গড়তে না গড়তেই তা নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। এর পাশেই দাঁড়িয়ে থাকা নিম্নমাধ্যমিক বিদ্যালয়টিও বিকেল হতে না হতে ক্রমশ নদীতে হেলে পড়েছে।

এলাকাবাসী জানায়, গত দুদিন ধরে তিস্তায় প্রবল স্রোতের তোড়ে উপজেলার ডাউয়াবাড়ী এলাকায় হঠাৎ ভাঙন দেখা দেয়। এতে দুই দিনে ১২টি পরিবারের বসতভিটা নদীতে বিলীন হয়ে যায়। ঈদুল আজহার পরদিন থেকে হঠাৎ নদী ভাঙনের কবলে পড়েছেন ডাউয়াবাড়ী এলাকাবাসী।

স্থানীয় পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তাদের বিষয়টি অবহিত করেও কোনও সাড়া মেলেনি বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। এ অবস্থায় তিস্তার ভাঙনের শিকার পরিবারগুলো সহায়-সম্বল হারিয়ে আশ্রয়ের খোঁজে দিশেহারা হয়ে পড়েছে।

সরজমিনে দেখা গেছে, ডাউয়াবাড়ি এলাকার মোরশেদা বেওয়া (৪০), মারুফ মিয়া (৩৫),আবু বক্কার (৩৫), আসাদুজ্জামান (৩০), এনামুল হক (৪০), আবিয়া বেওয়া (৩৫), সামসুল আলম (৪৫), সফিয়ার রহমান (২৮), শিমুল হোসেন (৩২), আবুল কালামের (৩৪) বসতভিটা তিস্তার হঠাৎ ভাঙনে বিলীন হয়ে গেছে। নদী ভাঙনের তীব্রতায় স্থানীয় এলাকাবাসীর মাঝে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে।

এদিকে ঈদের ছুটি শেষে মঙ্গলবার প্রাথমিক বিদ্যালয় খুললেও পাঠদান নিয়ে চরম দুশ্চিন্তায় পড়েছেন ডাউয়াবাড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা।

ডাউয়াবাড়ি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান দেলোয়ার হোসেন বাবলা জানান, তিস্তার ভাঙনে ১২টি পরিবার তাদের সহায় সম্বল হারিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। শুধু তাই নয়, এরইমধ্যে উত্তর ডাউয়াবাড়ি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি সম্পূর্ণভাবে নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। এছাড়া ডাউয়াবাড়ী নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়টিও নদীতে ভেঙে পড়ছে।

প্রাথমিক বিদ্যালয়টির প্রধান শিক্ষক নুর ইসলাম জানান, বিষয়টি সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে। এখন পর্যন্ত কোনও কার্যকরী পদক্ষেপ দেখা যায়নি।

হাতীবান্ধা উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা হাসান আতিকুর রহমান বলেন, ‘গত সোমবার সরজমিনে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। তিস্তার ভাঙনে যেহেতু স্কুল ভবন নদীতে মিশে গেছে সেহেতু বিকল্প ব্যবস্থা করে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা চালিয়ে নিতে শিক্ষকদের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া বিষয়টি সংশ্লিষ্ট দফতরে প্রতিবেদন পাঠানো হয়েছে।’

হাতীবান্ধা উপজেলা চেয়ারম্যান লিয়াকত হোসেন বাচ্চু ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মাহামুদুল হাসান সোহাগ জানান, তিস্তার ভাঙন ঠেকাতে পানি উন্নয়ন বোর্ডকে অবহিত করা হয়েছে। প্রতিবছর নিম্ন আয়ের মানুষের বসতভিটা-আবাদি জমি তিস্তায় বিলীন হয়ে যাচ্ছে। এবারও একই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। এসব রক্ষায় বাঁধ নির্মাণ করা জরুরি হয়ে পড়েছে।

লালমনিরহাট পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী শিবেন্দু খাস্তগীর বলেন, ‘ডাউয়াবাড়ী এলাকায় হঠাৎ করে তিস্তার ভাঙন দেখা দিয়েছে। এতে কিছু বসতভিটা ও দুইটি স্কুল নদী গর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।’

/জেবি/এফএস/

 

***বাংলা ট্রিবিউনে প্রকাশিত কোনও সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ। অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করলে কর্তৃপক্ষ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।