ভোর ০৭:২৯ ; বুধবার ;  ১৫ আগস্ট, ২০১৮  

পৌরসভা ও ইউপি নির্বাচন নিয়ে দুশ্চিন্তায় আ. লীগ!

প্রকাশিত:

সম্পাদিত:

পাভেল হায়দার চৌধুরী।।

চলতি বছরের ডিসেম্বর থেকেই সারা দেশে শুরু হতে যাচ্ছে পৌরসভা নির্বাচন। এরপরই শুরু হবে ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচন। এ দুটি গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচনের দিনক্ষণ যতই ঘনিয়ে আসছে, আওয়ামী লীগে দুশ্চিন্তার মাত্রা ততই বাড়ছে। এবারের পৌরসভা ও ইউপি নির্বাচনে দল-সমর্থিত সর্বাধিক প্রার্থীকে বিজয়ী করতে চায় ক্ষমতাসীনরা। কিন্তু এ ক্ষেত্রে প্রধান সমস্যা আওয়ামী লীগের সম্ভাব্য প্রার্থীর ছড়াছড়ি। এ কারণে স্থানীয় পর্যায়ে প্রায় অভ্যন্তরীণ কোন্দলের সৃষ্টি হচ্ছে। এটাই ক্ষমতাসীন দলটির দুশ্চিন্তার মূল কারণ। তবে, কেন্দ্র থেকে জনপ্রিয় ও কর্মীবান্ধবদেরই পৌর মেয়র ও ইউপি চেয়ারম্যান হিসেবে সমর্থন দেওয়া হবে। এ লক্ষ্যে বিশেষ একটি দলীয় টিম ও গোয়েন্দা সংস্থা জরিপ চালিয়ে যাচ্ছে। জরিপ শেষে স্থানীয় নেতাদের সঙ্গে কেন্দ্রীয় নেতারা বৈঠক করে প্রার্থী সমর্থনের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন। দলটির একাধিক কেন্দ্রীয় নেতা বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

উল্লেখ্য আগামী ডিসেম্বর থেকে মার্চ পর্যন্ত সারা দেশে প্রায় ২৫০টি পৌরসভা নির্বাচন সম্পন্ন করবে নির্বাচন কমিশন। এরপর ইউপি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। সে অনুযায়ী নির্বাচন কমিশন ইতোমধ্যে কাজ শুরু করেছে।     

ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের নীতি-নির্ধারণী নেতাদের মতে, পৌর ও ইউপি নির্বাচনে দল-সমর্থিত সর্বাধিক প্রার্থী বিজয়ী করতে হলে একক প্রার্থী নির্বাচনই কেবল সুফল নিয়ে আসতে পারে। তাদের মতে, সরা দেশে একক প্রার্থী দিতে না পারলে গতবারের পৌরসভা নির্বাচনের মতো এবারও ভরাডুবি হতে পারে। তারা জানান, আসন্ন নির্বাচনে সর্বাধিক গুরুত্ব দিতে হবে একক প্রার্থী সমর্থনকে। যাকেই দল প্রার্থী হিসেবে সমর্থন দেবে, তার পক্ষেই সবাইকে কাজ করতে হবে। একাধিক নেতা জানান, বিশেষ করে পৌরসভা নির্বাচনে যেকোনও মূল্যে বিদ্রোহী প্রার্থীর আধিক্য ঠেকাতে বেশি তৎপর থাকবেন কেন্দ্রীয় নেতারা।  

সূত্র মতে, প্রায় জেলা-উপজেলায় পৌরসভা নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে ইচ্ছুক আওয়ামী লীগের একাধিক প্রার্থী রয়েছেন। এটাই দুশ্চিন্তার অন্যতম কারণ। প্রার্থী হতে চান, এমন কারও ছাড় দেওয়ার মানসিকতা নেই। কিন্তু নির্বাচনে দল-সমর্থিত প্রার্থী হতে পারবেন মাত্র একজন। এ কারণে সম্ভাব্য প্রার্থীরাও একজন আরেকজনকে সহ্য করতে পারছেন না। ফলে যেকোনও ছুতো ধরে, মারামারিতে লিপ্ত হতে চলেছেন নিজেরা। নির্বাচন ঘনিয়ে আসায় এর মাত্রা আরও বৃদ্ধি পেতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন কেন্দ্রীয় নেতারা।

আওয়ামী লীগ নীতি-নির্ধারণী নেতাদের মতে, এ মুহূর্তে বিভিন্ন স্থানে আওয়ামী লীগের নেতায়-নেতায় মারামারির যেসব ঘটনা ঘটছে, এর অধিকাংশই পৌরসভা ও ইউপি নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সংঘটিত হচ্ছে। প্রভাব-প্রতিপত্তি প্রতিষ্ঠা করতে বিভিন্ন স্থানে এ সব অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটছে। পাশাপাশি এ সব ঘটনা ঘটিয়ে দলীয় হাইকমান্ডের দৃষ্টি ফেরাতে চান স্থানীয় এ সব নেতা। সমর্থন আদায় ও নিজেকে গুরুত্বপূর্ণ বোঝাতে সারাদেশে দলের আধিপত্যের লড়াই শুরু হয়েছে।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য কাজী জাফরউল্যাহ বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, আওয়ামী লীগ বড় একটি সংগঠন। নেতাকর্মীও অসংখ্য। কিন্তু নির্বাচনে প্রার্থী সংখ্যা থাকে সীমিত। তিনি বলেন, এখানে একজনকে বাদ দিয়ে অন্যজনকে সমর্থন দেওয়ার ক্ষেত্রে একটু জটিলতা তৈরি হয়। এই নিয়ে সবসময়ই বাড়তি দুশ্চিন্তা কাজ করে নীতি-নির্ধারণী মহলে।

জাফরউল্যাহ বলেন, কর্মী-সমর্থক সবাই প্রার্থী হতে ইচ্ছা পোষণ করে। এ ক্ষেত্রে সমন্বয় সাধন করা আওয়ামী লীগের জন্যে কঠিন হয়ে ওঠে। তিনি বলেন, তবু আমাদের টার্গেট আসন্ন পৌরসভা ও ইউপি নির্বাচনে দল যাকে সমর্থন দেবে, তার সঙ্গে সবাইকে কাজ করতে হবে। এমনি নিশ্চিত করতে হবে নীতিনির্ধারণী মহলকেই। নাহলে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রার্থী হওয়া নিয়ে অভ্যন্তরীণ কোন্দল বাড়তে পারে।

দলের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মাহাবুবউল আলম হানিফ বলেন, বিভিন্ন সময়ে দলের অভ্যন্তরীণ মারামারির পেছনের মূল কারণ আসন্ন পৌরসভা নির্বাচন। এছাড়া বিভিন্ন জেলায় আধিপত্য বিস্তারের মানসিকতাও নেতাকর্মীদের অভ্যন্তরীণ কোন্দলের দিকে নিয়ে যাচ্ছে। তবে শিগগিরই এ সব নিয়ন্ত্রণ হয়ে যাবে বলে জানান তিনি। 

আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন বলেন, সারা দেশে আওয়ামী লীগের অভ্যন্তরে এই মুহূর্তে যেসব মারামারির ঘটনা ঘটছে, তার বেশির ভাগই আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে কেন্দ্র করে। তিনি বলেন, আমাদের কাছে তথ্য আছে, আধিপত্য প্রতিষ্ঠা করতে প্রার্থী হতে ইচ্ছুকরা একে অন্যের সঙ্গে মারামরিতে লিপ্ত হচ্ছেন। স্বপন বলেন, এলাকায় বিভিন্নভাবে খোঁজ নিয়ে দেখেছি,  অধিকাংশ ক্ষেত্রেই পৌরসভা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে মারামারির ঘটনা ঘটেছে। তিনি বলেন, শিগগিরই এগুলো বন্ধ করতে তৃণমূলে নির্দেশ যাবে।

/এমএনএইচ/

***বাংলা ট্রিবিউনে প্রকাশিত কোনও সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ। অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করলে কর্তৃপক্ষ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।