রাত ১০:২৩ ; শনিবার ;  ২০ এপ্রিল, ২০১৯  

‘ঈদের পরে এসে ডাক্তার দেখান’

প্রকাশিত:

জাকিয়া আহমেদ।।

২৩ সেপ্টেম্বর দুপুর দেড়টা। শ্যামলীর জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের বহির্বিভাগ। গুড়ি গুড়ি বৃষ্টি মাথায় নিয়ে বড় ভাইকে নিয়ে বসে আছেন দিনাজপুর থেকে আসা ‌‌‌সোহেল। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞানের দ্বিতীয়বর্ষের ছাত্র তিনি। বড় ভাই মামুন মাদকাসক্ত হয়ে এখন অনেকটাই মানসিক ভারসাম্যহীন। কিন্তু চিকিৎসা করাতে সরকারি এই হাসপাতালে এসে মাথায় হাত দিয়ে হাসপাতালের মেঝেতে বসে আছেন সোহেল।

এ প্রতিবেদকের সঙ্গে কথা হয়েছিল সোহেলের। ভাইকে ডাক্তার দেখানোর কথা ঈদের আগেই। কিন্তু তা আর হয়নি। সরকারি এ হাসপাতালে ঈদের আগেই ছুটিতে চলে গিয়েছিলেন বেশিরভাগ ডাক্তার। রোস্টার অনুযায়ী ডাক্তার থাকার কথা থাকলেও তাদের পাওয়া যাবে না বলে জানিয়েছেন ওই হাসপাতালেই চাকরি করা সোহেলের এক পরিচিত ব্যক্তি। অন্য কর্মকর্তা-কর্মচারীদেরও এক কথা, ‘ঈদের পরে এসে ডাক্তার দেখান’। তাই ভাইকে নিয়ে গ্রামেই ফিরে যান সোহেল।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেল, বেশিরভাগ ডাক্তার-নার্সই এখন ছুটিতে। ডিউটির তালিকায় যারা আছেন, তাদেরও আনাতে হয় ফোন করে। কেউ কেউ তাও আসেন না। ডিউটিরত নার্সদের বেলাতেই ক্ষেত্রেও। ডাকতে হয় তাদেরকেও। আর ঈদের  ছুটিতে হাসপাতালে থাকলে তাদের ‘মেজাজ খারাপ’ থাকে বলে অভিযোগ করেছেন অনেকে। তাই ডাকলে ঠিকমতো পাওয়া যায় না।

সূত্রে আরও জানা গেছে, জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটের বেশিরভাগ রোগীকেই বাধ্যতামূলক ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছে ২৩ সেপ্টেম্বর। ২২ তারিখ দেড়শ রোগী থাকলেও পরদিন ছিল ৯০ জনের মতো।

একই চিত্র ঢাকার অন্যান্য সরকারি হাসপাতালগুলোতেও। বেশিরভাগ ডাক্তারই ডিউটিতে অনিয়মিত ছিলেন। ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে গিয়ে জানা যায়, ঈদের ছুটিতে ডাক্তার-স্বল্পতা সাধারণ ঘটনা। বিশেষ করে সিনিয়র চিকিৎসকরা আসেন না বললেই চলে। ছুটির সময় বেশিরভাগ কাজ চালানো হয় ইন্টার্ন চিকিৎসকদের দিয়ে।

ঢামেক হাসপাতালে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, হাসপাতালে ভর্তি হওয়া অনেক রোগীকে বাধ্যতামূলক ছাড়পত্র দেওয়া হয়। তাদের বলে দেওয়া হয়, কোনও সমস্যা হলে যেন তারা ঈদের পরে এসে ডাক্তার দেখান।

ভুক্তভোগী নূরজাহান বেগম বলেন, ‘স্বামীকে নিয়ে আসছিলাম, হাসপাতাল থেকে কইছে বাড়ি যাইতেগা। আর কোনও সমস্যা হইলে ঈদের পরে আবার আইতে। কিন্তু এহন যামু আবার আমু এইডা যে কতো কষ্ট তা যদি বুঝতো ডাক্তাররা। আর অহনতো বাড়ি যাইতেও অনেক কষ্ট হইবো। এই বুড়া মানুষ লইয়া ক্যামনে যামু।’

জানতে চাইলে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ডাক্তার বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আপনার সবাই ঈদ করবেন, ডাক্তারদের কি ঈদ নেই? তবু রোগীদের কথা মাথায় রেখে ডিউটি দিচ্ছি। এটাকে এপ্রিশিয়েট করবেন না, অথচ ডাক্তাররা যে থাকছেন না- এটাই নিউজ আপনাদের কাছে।’

 

/এফএ/

***বাংলা ট্রিবিউনে প্রকাশিত কোনও সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ। অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করলে কর্তৃপক্ষ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।