রাত ১০:২০ ; রবিবার ;  ২০ অক্টোবর, ২০১৯  

ঈদুল আজহা দেশে দেশে

প্রকাশিত:

নাঈম রায়হান ভূঁইয়া।।

এ মুহূর্তে ঈদের আনন্দে ভাসছে গোটা দুনিয়ার মুসলমানরা। ২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৫ বৃহস্পতিবর সৌদি আরবসহ বিশ্বের অধিকাংশ দেশে পালিত হয় পবিত্র ঈদুল আজহা। একদিন পর শুক্রবার ঈদের আনন্দে ভাসছে বাংলাদেশ। একদিকে ত্যাগের মহিমা অন্যদিকে উৎসবের আমেজ। সকালে ঈদের নামাজ, আল্লাহ তাআলার নামে পশু কোরবানি, এরপর সারাদিন কেটে যাবে আত্মীয়-স্বজন, বন্ধু-বান্ধবের সঙ্গে আড্ডায়। দুনিয়ার সর্বত্র ঈদুল আজহার মূল বিষয়বস্তু একই। তারপরও স্থান-কালভেদে উৎসব পালনের রীতিতে কিছুটা পার্থক্য রয়েছে।

সৌদি আরব

সৌদি আরবে ব্যাপক আয়োজনের মধ্য দিয়ে ঈদ উদযাপিত হয়। সুন্দর করে সাজানো হয় ঘরবাড়ি। চলে ভূরিভোজ। ঈদের দিন লোকজনের আতিথেয়তা সহজেই নজর কাড়ে। রাস্তাঘাটে পথচারীরা ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। এমনকি অনেক সময় অচেনা শিশুদের মধ্যেও খেলনা ও বিভিন্ন ধরনের উপহার বিতরণ করা হয়। ছোটরা সালামির আশায় বড়দের সামনে গিয়ে ভিড় করে। এ সময় তাদের নগদ অর্থসহ বিভিন্ন উপহার দেওয়া হয়।

তুরস্ক

ঈদের দিন সকালে ঘুম থেকে উঠে গোসল করে, নতুন পোশাক পরে ঈদের নামাজ আদায় করেন তুর্কীরা। একে অন্যের বাড়িতে বেড়াতে যান। অনেকে কবরস্থানে গিয়ে তাদের পূর্বপুরুষের জন্য দোয়া করেন। শিশুরা প্রতিবেশীদের বাড়িতে ঘুরে বেড়ায়। এ সময় তাদের ক্যান্ডি, চকলেট, ঐতিহ্যবাহী খাবার খেতে দেওয়া হয়। একই সঙ্গে সালামিও দেওয়া হয়।

অস্ট্রেলিয়া

ঈদুল আজহার দিন অস্ট্রেলিয়ায় সরকারি ছুটি থাকে না। তবে ইসলামিক স্কুল, সামাজিক ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলো এ দিনটিতে বন্ধ থাকে। অস্ট্রেলিয়ার মুসলিম সম্প্রদায়ের বসবাস প্রধানত সাবারবান শহরকে কেন্দ্র করে। এখানে আলাদা কোরবানির পশু কিনে লালন-পালন করার সুযোগ না থাকায় কয়েকটি পরিবার মিলে একজনকে পশু কেনার এবং যত্ন করার দায়িত্ব দেওয়া হয়।

ঈদের দিন সকালে নামাজ শেষে বাড়ি ফিরে কোরবানি করেন। কোরবানির গোশত এবং চামড়ার টাকা গরিবদের দান করেন। মুসলমান ছাড়াও অন্য ধর্মাবলম্বীদেরও কোরবানির গোশত উপহার হিসেবে দান করা হয়। অস্ট্রেলিয়ার মুসলমানরা এদিন 'বাকলাঙা' এবং 'লোকুম' নামের দুটি তার্কিশ ডিম রান্না করে।

মিসর

মিসরে হালকা খাবারের মধ্য দিয়ে শুরু হয় ঈদের সকাল। এরপর ঈদের নামাজ আদায়ের পর শুরু হয় সবার সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময়। কোরবানির পশু সংক্রান্ত কাজ শেষ করে অনেক ঘুরতে বের হন। শিশুদের দেওয়া হয় নতুন পোশাক, সালামি।

দক্ষিণ আফ্রিকা

দক্ষিণ আফ্রিকা : বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো পবিত্র ঈদুল আজহা উদযাপন করেন দক্ষিণ আফ্রিকার ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা। প্রতি বছরই দেশটির রাজধানীতে ঈদের জামাতগুলোতে চোখে পড়ে লাখো মুসলি্লদের ঢল। নামাজ শেষে তারা নির্দিষ্ট স্থানে পশু কোরবানি করেন। ধনী-গরিব, মালিক-শ্রমিক ভেদাভেদ ভুলে সবাই মশগুল হন একে অপরকে দাওয়াত দিতে ও দাওয়াত নিতে। দিন শেষে বাঙালিসহ অধিকাংশই প্রবাসীরাই দেশে পরিবার ও স্বজনদের সঙ্গে ঈদের কুশল এবং শুভেচ্ছা বিনিময় করেন ফোন, ফেসবুক ও টুইটারসহ সামাজিক বিভিন্ন সাইটের মাধ্যমে।

যুক্তরাজ্য

২০১১ সালের আদম শুমারি অনুসারে যুক্তরাজ্যে মুসলমান আছেন সাড়ে ২৭ লাখ। যা মোট জনসংখ্যার ৪.৮ ভাগ। অধিকাংশ মুসলমানই ইংল্যান্ডে ও ওয়ালেসে বসবাস করেন। যুক্তরাজ্যের মুসলমানরা ততটা ধর্মভীরু নন। যারা কেবল মসজিদ ও তাবলিগ জামাতের সঙ্গে সম্পৃক্ত তারাই দৃঢ়ভাবে ইসলাম পালন করে থাকেন। দুই ঈদে মুসলমানরা ট্রাফালগার স্কয়ারে মিলিত হন এবং ঈদ উদযাপন করেন। তবে সেখানকার ঈদ বাংলাদেশ বা উপমহাদেশের অন্যান্য দেশের মতো তেমন আড়ম্ব্বরপূর্ণ হয় না।

যুক্তরাজ্যে প্রকাশ্য পশু জবাই করা নিষিদ্ধ হলেও নির্ধারিত এলাকায় সরকার নিয়ন্ত্রিত প্রতিষ্ঠান থেকে কোরবানি দেওয়া যায়। স্থানীয়ভাবে অনেক এশিয়ান বা বাংলাদেশি গ্রোসারি ঈদের সময় কোরবানির জন্য আগ্রহীদের নাম সংগ্রহ করে থাকে।

ঈদের প্রায় এক মাস আগে থেকে দোকানে দোকানে সাইনবোর্ড ঝোলানো থাকে : 'এখানে কোরবানির অর্ডার নেওয়া হচ্ছে'। এর অর্থ হচ্ছে এখানে নাম লিখিয়ে প্রতি নামের বিপরীতে অর্থ দিয়ে যেতে হবে। বেশির ভাগ ক্ষেত্রে কোরবানির পর গরু বা ভেড়ার গোশত ঈদের পরের দিন গ্রাহকদের কাছে সরবরাহ করে তারা।

চীন

চীনের জনসংখ্যার শতকরা ১২ জন মুসলমান। এ হিসাবে ১৩৬ কোটি মানুষের চীনে আছেন সাড়ে ১৬ কোটি মুসলমান। হুই, উইঘুর, কাজাক, উজবেক, তাজিক তাতার, খালখাস, সালার, ডংঝিয়াং ও বাওয়ান ইত্যাদি সংখ্যালঘু গোষ্ঠীতে বিভক্ত তারা বিভিন্ন এলাকায় বসবাস করছেন। হুই, উইঘুর, কাজাক ও সালার জনগোষ্ঠী চান্দ্র বছরের পঞ্জিকা দেখে ঈদ উদযাপন করেন। নিংঝিয়া প্রদেশের হুই মুসলমানরা ঈদুল ফিতরকে বড় ঈদ মনে করে থাকেন এবং গানসু ও চিংহাইয়ের হুই মুসলিমরা এটিকে মনে করেন বছরের শুরু। আবার ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহাকে বিভিন্ন প্রদেশে বিভিন্ন নামে আখ্যায়িত করা হয়।

ফিনল্যান্ড

ত্যাগের মহিমায় উদ্ভাসিত হয়ে ফিনল্যান্ডজুড়ে মুসলমানরা উদযাপন করেন বৃহত্তম ধর্মীয় উৎসব ঈদুল আজহা। নতুন পোশাক পরে কনকনে শীতের মাঝেও ফিনল্যান্ডে প্রবাসী বাংলাদেশিরা সমবেত হন ঈদের জামাতে। রাজধানী হেলসিঙ্কিতে অনুষ্ঠিত হয় ঈদের জামাত। সালাতুল ঈদ শেষে দেশ, জাতি ও মুসলিম উম্মাহর শান্তি এবং সমৃদ্ধি কামনায় করা হয় দীর্ঘ মোনাজাত। বরাবরের মতো এবারও বাঙালিদের ঈদ উৎসবে সেখানে দেশি-বিদেশি রকমারি খাবার, বাংলাদেশিদের মতো একে অপরের বাড়িতে দাওয়াত খাওয়া, মাতৃভূমি বাংলাদেশে টেলিফোন করে পরিবারের ও আত্দীয়স্বজনের সঙ্গে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় এবং খোঁজখবর নেওয়াসহ নানা আয়োজনে মশগুল থাকবেন তারা।

জার্মানি

৬০ ও ৭০ দশকের পর থেকে জার্মানিতে ইসলাম ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়তে শুরু করে। ২০১০ সালের হিসাব অনুযায়ী জার্মানিতে মুসলমান আছেন ৪৩ লাখ (মোট জনসংখ্যার ৫.৪ ভাগ) এবং তাদের মধ্যে জার্মান নাগরিক হলেন ১৯ লাখ (মোট জনসংখ্যার ২.৪ ভাগ)। জার্মানির মুসলমানদের শতকরা ৬৩ ভাগ তুর্কি বংশোদ্ভূত। জার্মান মুসলমানদের জন্য দুঃখজনক ব্যাপার হলো তারা দুই ঈদসহ কোনো ধর্মীয় উৎসবেই সরকারি ছুটি পান না। যেসব মুসলমান সরকারি চাকরিজীবী তাদের খ্রিস্টান সহকর্মীদের ধর্মীয় উৎসবে ছুটি দেওয়া হলেও মুসলমানরা তা পান না। ওখানে কেবল খ্রিস্টানদেরই ধর্মীয় উৎসবে জাতীয় ছুটির দিন ঘোষণা করা হয়।

/আরএফ/

***বাংলা ট্রিবিউনে প্রকাশিত কোনও সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ। অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করলে কর্তৃপক্ষ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।