সকাল ১০:২৪ ; শুক্রবার ;  ১৯ জুলাই, ২০১৯  

মক্কার পথে পথে হাজিদের খোঁজে!

প্রকাশিত:

সম্পাদিত:

নাঈম রায়হান ভূঁইয়া।।

বিশ্ব মুসলিমের ঐক্য ও ভ্রাতৃত্ববোধের প্রতীক পবিত্র হজ। জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে কাফনসদৃশ সাদা পোশাকে হজে অংশ নেন হাজিরা। পাপমুক্তি ও আত্মশুদ্ধির তীব্র বাসনা নিয়ে মহান রবের সান্নিধ্য লাভই তাদের উদ্দেশ্যে।

‘লাব্বাইক আল্লাহুম্মা লাব্বাইক’ ধ্বনিতে মক্কা থেকে ১৫ কিলোমিটার নিকটবর্তী বিস্তৃত আরাফাতের ময়দান মুখরিত করে তোলেন হাজিরা। শারীরিক ও আর্থিকভাবে সক্ষম প্রত্যেক মুসলমানের জন্য জীবনে একবার হজ করা ফরজ।

হাদীসে আছে, ‘বিশুদ্ধ মকবুল একটি হজ দুনিয়া ও এর মধ্যকার সব বস্তু থেকে উত্তম। জান্নাত ব্যতীত কোনও কিছুই এর বিনিময় হতে পারে না।’ (বুখারী ও মুসলিম)।

৯ জিলহজ ১৪৩৬ তথা ২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৫ থেকে শুরু হয় এবারের হজের আনুষ্ঠানিকতা। দেখে নেওয়া যাক পবিত্র মক্কা নগরীতে উপস্থিত হওয়া হাজিদের কিছু ছবি। মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা থেকে ছবিগুলো সংগ্রহ করা হয়েছে।

এ বছর হজ পালনের জন্য পবিত্র মক্কা নগরীতে সমবেত হয়েছেন ২০ লক্ষাধিক ধর্মপ্রাণ মুসলমান।

পুত্রকে সঙ্গে নিয়ে হজে এসেছেন ৯৫ বছরের মিসরীয় নারী জামিনা। হজ করার জন্য গত ৫০ বছর ধরে ৭০ হাজার মিসরীয় পাউন্ড (৯ হাজার ডলার) জমিয়েছেন তিনি।

আফ্রিকার দেশ মালির রাজধানী বামাকো থেকে হজে এসেছেন বয়োবৃদ্ধ দুই ভাই। একজন ৬৪ বছরের সিল্লা সাইয়্যেদেনা ওমর। অপরজন ৭৩ বছরের মোহাম্মদ হায়দার।

সিল্লা সাইয়্যেদেনা ওমর জানান, হজে আসতে তাঁর খরচ হয়েছে স্থানীয় মুদ্রায় ২০ লাখ (৩ হাজার ৫০০ ডলার)।

হজে আসতে পেরে আল্লাহ তাআলা’র নিকট কৃতজ্ঞ ইন্দোনেশিয়ার এ দম্পতি। স্ত্রী ৪০ বছরের শিক্ষিকা রিকা এবং তার স্বামী একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মরত ৪৩ বছরের তামিজ। টানা ছয় বছরের অপেক্ষার পর এবার তাদের স্বপ্ন সত্যি হলো। এ বছর হজে যাওয়ার অনুমতি পেতে সরকারি লটারিতে উঠে আসে তাদের নাম, যা এ দম্পতির জন্য এক বিশাল প্রাপ্তি। হজে আসতে তাঁদের খরচ হয়েছে সাত কোটি ৪০ লাখ রুপিয়াহ (পাঁচ হাজার ২০০ ডলার)।

পবিত্র মক্কা নগরীর এ পথ ধরেই এক সময় হেঁটেছিলেন মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম। পবিত্র নগরীতে প্রিয় নবীর এমন অসংখ্য স্মৃতি হাজিদের আবেগপ্রবণ করে তোলে।

ইরাকের কুর্দিশ এলাকা থেকে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে হজে এসেছেন ৪৯ বছরের জামিল জালাল। দেশের রাজনৈতিক অস্থিরতার প্রেক্ষাপটে জীবনমান কমেছে সাধারণ মানুষের। ফলে অর্থনৈতিক দৈন্যতায় ভোগা দেশটির অনেক মানুষেরই এখন আর হজে আসার সুযোগ হয় না।

মেয়েকে নিয়ে এ বছর হজে এসেছেন ৯৫ বছরের আলজেরীয় নারী ফাতিমা। জীবন সায়াহ্নে এসেও হজে আসতে পেরে তিনি মহান রবের নিকট কৃতজ্ঞ।

৬০ বছরের পাকিস্তানি নাগরিক গোলাম মোহাম্মদ। সৌদি আরবে কর্মরত তার ইঞ্জিনিয়ার পুত্র বাবাকে হজে আসা-যাওয়ার খরচ দিয়েছেন।

ফিলিপাইনের ২৯ বছরের শিক্ষিকা মাশরা। ২২ বছরের বান্ধবী রুহানাকে নিয়ে হজে এসেছেন তিনি। তাঁদের খরচপড়েছে এক লাখ ৮০ হাজার পেসস (তিন হাজার ৯০০ ডলার) করে। মা-বাবাই তাঁদের হজের অর্থ জুগিয়েছেন। সূত্র: আল জাজিরা।

/আরএফ/

***বাংলা ট্রিবিউনে প্রকাশিত কোনও সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ। অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করলে কর্তৃপক্ষ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।