রাত ১১:১১ ; শুক্রবার ;  ২২ জুন, ২০১৮  

জয়িতার তারুণ্য মানে শুধুই রবীন্দ্রনাথ

প্রকাশিত:

সম্পাদিত:

এহতেশাম ইমাম ।।

যার বেড়ে ওঠা ‘রক্তকরবী’ নাটকের ‘আমার তরী ছিল চেনার কূল’ কিংবা  ‘বাঁধন যে তার গেল খুলে’ গানের মধ্যদিয়ে, তার  জীবন বোধ আর দশজনের মতো হবে না, সেটাই স্বাভাবিক। জীবনের ছন্দে-ছন্দে যার রবীন্দ্রনাথ লুকিয়ে আছে, তাকে তো আর গতানুগতিক সময়ের বাঁধনে বেঁধে রাখা যায় না। বলছি, রবীন্দ্র সংগীত শিল্পী ফারহিন খানের কথা। যিনি সবার কাছে পরিচিত প্রিয় জয়িতা নামে। আর শিল্পাঙ্গনে যার আছে আরও একটি পরিচিতি। তিনি বাংলা নাটকের যুবরাজ খ্যাত  খালেদ খান ও রবীন্দ্র সংগীত শিল্পী মিতা হক দম্পতির একমাত্র সন্তান।

শুধুই রবীন্দ্রনাথ

শিল্পীর সৃষ্টির প্রতি শ্রদ্ধা বোধ জয়িতার মজ্জাগত। তিনি মনে করেন, শিল্পীর উচিত নিজের নিজস্বতা সর্ম্পকে ধারণা রাখা। কারণ হিসেবে জয়িতা বলেন, বিশেষ কোনও একটি ঘরানায় নিজেকে সীমাবদ্ধ রাখলে হয়তো ওই বিষয়ে বিশেষজ্ঞ হয়ে উঠতে পারা যায়,  কিন্তু অন্যান্য ঘরানায় বিচরণের চেষ্টা না থাকলে, নিজেকে আবিষ্কার করা হয়ে ওঠে না।

আর এটি কেবল গানের ক্ষেত্রে নয়, হতে পারে শিল্পের যেকোনও  ক্ষেত্রে। ভাবনার জায়গা যত বড় হয়, নিজের জন্য সেটি ততেই সহায়ক হিসেবেই কাজ করে বলে বিশ্বাস করেন জয়িতা।

গানে গানে গায়েন

ভিকারুন্নেসা থেকে শুরু করে ইস্ট-ওয়েস্ট। স্বাধীনচেতা জয়িতার পড়ালেখা ইংরেজি বিভাগে সম্পন্ন হলেও, গান গাওয়ার ক্ষমতাটি আয়ত্ত করেছেন পারিবারিকভাবেই। মা মিতা হকের সান্নিধ্যে অনিয়মিত হয়েও রপ্ত করে নিয়েছেন রবীন্দ্র সংগীতের ধারা। তবে ছায়ানট থেকে এক বছরের একটি কোর্স সম্পন্ন করেছেন সংগীতের ওপর। আর বাবার ইচ্ছায় কলকাতার সংগীতজ্ঞ জয়ন্ত রায়ের কাছ থেকে নিয়েছেন বিশেষ তালিম।

দোষে-গুণে মানুষ

জয়িতার সবচেয়ে বড় সমালোচক তিনি নিজেই। নিজের দুর্বলতার কথাটি অকপটে স্বীকার করে বললেন, নিজের অস্থিরতার কথা। তার মতে, জীবনে যে বিষয়টি সবচেয়ে বেশি অনুতাপের পর্যায়ে নিয়ে যায়, তা হচ্ছে অস্থিরতা। তিনি বলেন, জোরাজুরি করে আমাকে দিয়ে কিছু করানো সম্ভব নয়, একই সঙ্গে নির্দিষ্ট কোনও টার্গেট নিয়েও কোনও কিছু অর্জনের প্রতি আকাঙ্ক্ষা  নেই। এ দুটিই আমার সবচেয়ে বড় ত্রুটি।

কী করছেন, কেন করছেন

ছোট বেলা থেকেই বিভিন্ন আয়োজনে শখের বশে কণ্ঠ মিলিয়েছেন বিভিন্ন গানে। তবে ভাবেননি নিজের গানের অ্যালবাম বের করবেন। কিন্তু শুভানুধ্যায়ীদের ভালোবাসায় অনেকটা বাধ্য হয়ে ২০১২ সালে কলকাতা থেকে প্রকাশ করেন প্রথম অ্যালবাম ‘বাঁধন ছেঁড়ার গান’। পরের বছর  ‘দুঃখ জাগানিয়া’ আর ২০১৪ তে প্রকাশ ‘শুধুই রবীন্দ্রনাথ’। এ বছর ঢাকা থেকে বের করছেন চতুর্থ অ্যালবাম।

তবে, চলতি বছর নাম লিখিয়েছেন এবারের মুক্তি পাওয়া বাংলাদেশি বাণিজ্যিক সিনেমা ‘ইউটার্ন’-এর আইটেম গান গেয়ে। এ বিষয়ে কিছুটা উচ্ছ্বসিত হয়ে জয়িতা জানালেন ‘আউট অব দ্য বক্স’ ভাবনার কথা। বললেন,  প্রতিটি মানুষের উচিত নিজের সীমাবদ্ধতা নির্ণয় করে তাকে অতিক্রমের চেষ্টা করা। এ জন্য সবার আগে প্রয়োজন, নিজের পরিমিতি বোধ সম্পর্কে  ধারণা থাকা। মা মিতা হকের সংগীত স্কুল ‘সুরতীর্থ’-এর সঙ্গে সম্পৃক্ততা রেখেছেন জয়িতা সব সময়।

কোনও বিষয়ে শুরুতে নেতিবাচক হওয়া নয়

সম্প্রতি নজরুল বা রবীন্দ্রনাথের গানের সুর, তাল-লয়ের  পরিবর্তন বিশেষভাবে চোখে পড়ে। এই বিষয়ে জয়িতা বলেন, খেয়াল রাখতে হবে, তাদের গান পরিবর্তন আমার মতে দোষের নয়। কিন্তু বেসিকটা ঠিক রাখা উচিত।  উদাহরণ হিসেবে বলেন, রবীন্দ্রনাথ নিজে বলে গিয়েছিলেন, তার গান যে তার দেওয়া তাল-লয় ছাড়া না গাওয়া হয়। কিন্তু এ ক্ষেত্রে সময়ের সঙ্গে ধারাবাহিকতা রেখে মূল গানটি ঠিক রেখে পরিবর্তনে আমি কোনও ভুল দেখি না।

আমিও ভাবি তোমাদের মতো

ছোটবেলা থেকেই বেড়ে উঠেছেন তারকাদের সান্নিধ্যে। অনেকেই দূর থেকে দেখে ভেবে থাকেন জীবনটা বোধহয় এ রকম কাজ, উচ্ছ্বাস আর খ্যাতির মধ্যে সীমাবদ্ধ। কিন্তু নিবিড়ভাবে খেয়াল রাখতে বলব সবাইকে। আর বিশেষ করে তরুণদের বলব, তারকাদের অন্ধভাবে অনুকরণ করবেন না। নিজের অস্তিত্ব স্পষ্ট করুন। পরিষ্কার করুন নিজের দৃষ্টিভঙ্গিও। আর, এর পর ঠিক করুন নিজের পরবর্তী পদক্ষেপ সম্পর্কে। সচেতন মানুষ হিসেবে এটি জীবনের প্রতি নিজের দায়িত্বও।

ছবি: জুনায়েদ সাব্বির আহমেদ

/এমএনএইচ/

 

***বাংলা ট্রিবিউনে প্রকাশিত কোনও সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ। অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করলে কর্তৃপক্ষ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।