সকাল ০৮:৫৬ ; শুক্রবার ;  ১৫ নভেম্বর, ২০১৯  

ম্যান বুকার : শর্টলিস্টের ৬টি উপন্যাস পরিচিতি

প্রকাশিত:

[‘ম্যান বুকার প্রাইজ ফর ফিকশন ২০১৫’-এর শর্টলিস্ট গত ১৫ সেপ্টেম্বর প্রকাশ করা হয়েছে। এই লিস্টে ৬টি উপন্যাস স্থান পেয়েছে। উপন্যাসগুলোর সংক্ষিপ্ত পরিচিতি তুলে ধরেছেন দুলাল আল মনসুর। নোবেল পুরস্কারের পর ম্যান বুকার পুরস্কারকে সবচেয়ে বেশি মর্যাদাপূর্ণ পুরস্কার বলে বিবেচনা করা হয়।]      

 

দ্য ফিশারমেন 

নাইজেরিয়ার ঔপন্যাসিক শিগোজি ওবিওমার উপন্যাস ‘দ্য ফিশারমেন’। উপন্যাসে উপস্থাপিত সময়টা হলো ১৯৯০-এর দশক। সে সময় নাইজেরিয়ার এক মধ্যবিত্ত পরিবারের চার ভাই তাদের বাবার দীর্ঘ অনুপস্থিতির সুযোগ নিয়ে মাছ ধরতে যায় এক নিষিদ্ধ নদীতে। শিশু-কিশোর এই চার ভাইয়ের বয়সের পরিধি হলো, বড়জনের বয়স পনের এবং সবার ছোটজনের বয়স নয় বছর। মাছ ধরতে গিয়ে তাদের সঙ্গে দেখা হয় আবুলু নামের এক দিব্য-দর্শক পাগলের। পাগল তাদের জীবনের অশুভ শক্তির আগমনের সংকেত দেয়। সে জানিয়ে দেয়, তাদের পরিবারের সদস্যদের মধ্যে বিপর্যয় নেমে আসবে। এ উপন্যাসটিকে বলা হচ্ছে বাল্যবেলার ক্লাসিক গাথা। দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমসে ফিয়ামেত্তা রোকো মন্তব্য করেন, শিগোজি ওবিওমা সত্যিই চিনুয়া আচেবের যোগ্য উত্তরসূরি। এ উপন্যাসটির প্রকাশক পুশকিন প্রেস। 

 

দ্য ইয়ার অব দ্য রানঅ্যাওয়েস

সঞ্জীব সাহোতার ‘দ্য ইয়ার অব দ্য রানঅ্যাওয়েস’ একটি মেধাবী রাজনৈতিক উপন্যাস। এ উপন্যাসটির কেন্দ্রে আছে তিনজন ভারতীয় পুরুষ এবং একজন ব্রিটিশ ভারতীয় নারী। পুরুষ তিনজন তচি, রনদীপ এবং অবতার। তারা অন্যান্য দেশান্তরী কর্মজীবী মানুষদের সঙ্গে শেফিল্ডের এক বাড়িতে থাকে। আর নারী চরিত্র নারিন্দার যদিও রনদীপের সঙ্গে বিবাহিত; তারা একজন আরেকজনকে ভালো করে জানে না পর্যন্ত। অবশ্য জানার ইচ্ছেও তাদের নেই। নারিন্দার আলাদা আরেক ফ্ল্যাটে থাকে। ‘দ্য ইয়ার অব দ্য রানঅ্যাওয়েস’ রাজনৈতিক উপন্যাস হলেও তথাকথিত রাজনৈতিক নয়; এখানে মানবিক অবস্থার নানা মাত্রা তুলে ধরা হয়েছে খুব পরিমিত আবেগের সঙ্গে। এ উপন্যাসটির প্রকাশক পিকাডর।  

 

আ লিট্ল লাইফ

আমেরিকার ঔপন্যাসিক হানিয়া ইয়ানাগিহারার উপন্যাস ‘আ লিট্ল লাইফ’। স্মৃতি আর মানুষের ধৈর্যের কষ্টকর পরীক্ষার মধ্য দিয়ে হৃদয়বিদারক কাহিনী উঠে আসে এ উপন্যাসে। মাসাচুসেটস থেকে গ্রাজুয়েট করা চার বন্ধু ছুটে যায় নিউ ইয়র্কে। সেখানে তাদের জীবনের উত্থান পতনের ভেতর দিয়ে বন্ধুত্ব আর উচ্চাশাই তাদেরকে বেঁচে থাকতে সহায়তা করে। চার জনের মধ্যে রয়েছে অভিনেতা হওয়ার আশায় উদ্দীপিত কোমল হৃদয়ের সুদর্শন উইলেম; ধারালো বুদ্ধিসম্পন্ন ব্রুকলিনে বেড়ে ওঠা কিছুটা কঠোর স্বভাবের জেবি; একটি নামকরা প্রতিষ্ঠানের হতাশ স্থপতি ম্যালকম আর তাদের সবার মাঝে মাধ্যাকর্ষণ শক্তির মতো কিছুটা হতাশ, রহস্যজনক এবং মেধাবী জুড। ‘আ লিটল লাইফ’-এর প্রকাশক পিকাডর। 

 

আ স্পুল অব ব্লু থ্রেড

আমেরিকার আরেক ঔপন্যাসিক অ্যান টেলারের উপন্যাস ‘আ স্পুল অব ব্লু থ্রেড’। এ উপন্যাসের মধ্যে কোনো রকম ঝড়ো আবেগের প্রকাশ নেই। এখানে জেন অস্টেনের উপন্যাসগুলোর মতো নিরিবিলি আবহ বিরাজ করে। পাঠক এক একটি মুহূর্ত শেষ করতে পারেন আয়েশী আবেশের ভেতর দিয়ে এগিয়ে যেতে যেতে। ‘আ স্পুল অব ব্লু থ্রেড’-এর কাহিনীর কেন্দ্রে অবস্থান করে আমেরিকার বাল্টিমোরের এক পরিবারের সদস্যরা। স্বামী-স্ত্রী, বাবা-মা, ভাই-বোন এবং বিয়ের সম্পর্কের পারিবারিক আত্মীয়-স্বজন। কাহিনীর নিস্তরঙ্গ গতির মতোই টেলারের বর্ণনাও, ‘হুইটশ্যাঙ্কসদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য তেমন কোনো গুণাবলী ছিল না। তাদের কেউ বিখ্যাত ছিল না। তাদের কারো ব্যতিক্রমী বুদ্ধিদীপ্ত মানস-গঠনও ছিল না।’ এ উপন্যাসটির প্রকাশক চাটো অ্যান্ড উইন্ডাস। 
 

সাটিন আইল্যান্ড

ব্রিটিশ ঔপন্যাসিক টম ম্যাককার্থির উপন্যাস ‘সাটিন আইল্যান্ড’। সারা পৃথিবী চষে বেড়িয়ে, বিভিন্ন জাতের মানুষের পরিবর্তনশীল অবস্থা দেখে কাঠামোবাদী নৃ-বিজ্ঞানের জনক ক্লড লেভি-স্ট্রস একটা হতাশাজনক সিদ্ধান্তে আসেন, মানুষ এযাবৎ একক সংস্কৃতিকেই বেছে নিতে চেয়েছে। তার ১৯৫৫ সালের ক্লাসিক স্মৃতিকথা কাম কেস স্টাডি ‘ট্রিস্টেস ট্রপিক্স’ তিনি তুলে ধরেন ব্রাজিলের স্থানীয় উপজাতিদের মধ্যে কাটানো সময়ের অভিজ্ঞতার কথা। পরবর্তীতে নৃ-বিজ্ঞান পড়া ইউ তার পঠিত জ্ঞানের ক্রমশ সংঙ্কুচিত হয়ে যাওয়া কদর থেকে কোনো রকমে রক্ষা পায়। সে একটি প্রতিষ্ঠানে কাজ করার সুযোগ পায়। সে দেখতে পায় মানুষের অতীত থেকে সর্বশেষ ভোগবাদী স্বভাবের সঙ্কুচিত রূপটি। সে বুঝতে পারে, পরিবার ও জাতিগত এবং ধর্মীয় বন্ধনকে হারিয়ে দিয়ে সেগুলোর জায়গা দখল করছে বিভিন্ন কর্পোরেশন। এ উপন্যাসটির প্রকাশক জোনাথান কেপ। 
 

আ ব্রিফ হিস্ট্রি অব সেভেন কিলিংস

জ্যামাইকার লেখক মার্লন জেমসের উপন্যাস ‘আ ব্রিফ হিস্ট্রি অব সেভেন কিলিংস’। এ উপন্যাসের কাহিনী গড়ে উঠেছে বব মার্লেকে হত্যাচেষ্টা এবং এর পরবর্তী ঘটনাপ্রবাহকে কেন্দ্র করে। উপন্যাসজুড়ে বব মার্লেকে উল্লেখ করা হয়েছে গায়ক হিসেবেই। তবে বড় কথা হচ্ছে, এ উপন্যাসের ঘটনাবলী আসলে একক কোনো ব্যক্তিকেন্দ্রিক না হয়ে বরং জ্যামাইকার একটা বিশেষ সময়ের হয়ে উঠেছে। এখানে ১৯৭০ এবং ৮০’র দশকের গোড়ার দিকের জ্যামাইকার চিত্র তুলে আনা হয়েছে যখন সে দেশে অস্ত্রের অঢেল প্রাপ্তি আর সিঅইএ’র দৌড়াত্ব দেখা গেছে। সে সময় দেশটি খুব দ্বন্দ্বমুখর একটা অবস্থা পার করেছে। উপন্যাসটিতে জ্যামাইকার গল্প থাকলেও ঘটনার স্থান একমাত্র জ্যামাইকা নয়। মার্লন জেমস মূলত জীবনের সূর্যালোকিত, সংগীতমুখর দিক নিয়ে কথা বলার চেয়ে অন্ধকার দিক তুলে ধরতে স্বাচ্ছন্দ বোধ করেন। তাঁর তিনটি উপন্যাসে সেরকমই দেখা গেছে। তাঁর এ উপন্যাসটি প্রকাশ করেছে ওয়ান ওয়ার্ল্ড পাবলিকেশনস। 

 

***বাংলা ট্রিবিউনে প্রকাশিত কোনও সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ। অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করলে কর্তৃপক্ষ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।